চলনবিলে বাড়ছে বন্যার পানি তলিয়ে যাচ্ছে পুকুর
তাড়াশে বেড়েই চলছে বন্যার পানি। ফলে জন জীবনে নেমে পড়েছে চরম দুর্বিসহ । গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে ঢলের পানি নেমে আসায় তাড়াশে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। বন্যার পানি দিন দিন বাড়ার ফলে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শতশত মাছের পুকুর ও ঘর বাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে। মাছ চাষিরা নেট দিয়ে পুকুরের মাছ রক্ষা করতে চেষ্টা করছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ যার ফলে বন্যা কবলিত পরিবার গুলো কষ্টে দিনাতিপাত করছে।
বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গবাদী পশু নিয়ে বিপাকে পরেছে খামারী। গো-খাদ্যের সংকটের আশংকা করছে খামার মালিকরা। বন্যা কবলিত গ্রামগুলোতে দেখা দিচ্ছে পানি বাহিত রোগ ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কন্দুইল, মাকড়শোন,ভেটুয়া মাগুড়া,দক্ষিন শ্যামপুর চরহামকুরিয়া দিঘি সগুনা, লালুয়ামাঝিরা, খরখড়িয়া সহ অনেক গ্রামের সিংহভাগ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পরেছে। ঘরবাড়ী এখন পানির নিচে। বন্যায় তলিয়ে যাওয়া পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন স্থানে।
মাছ চাষী, জিযাউর রহমান, সুলতান মাহমুদ, হাসান খন্দকার বলেন, কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই রাতে হঠাৎ করে বন্যার পানিতে পুকুরের পাড় তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। এতে আমাদের অনেক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া পরিবারগুলো বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। গাদাগাদি করে একত্রে বসবাসের ফলে রয়েছে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি। ভেটুয়া গ্রামের বানভাসী পরিবার গুলো অভিযোগ করে বলেন, বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে গেছে আশ্রয়ের জন্য সরকারী স্কুলে অবস্থান করছি । আমাদের কাছে এখুন পর্যন্ত কেই কোন সহযোগীতার হাত বাড়ায়নি । মাত্র কয়দিন পর কোরবানী কি করব বুঝতে পারছিনা আল্লাহ ভাল জানে।
এ বিষয়ে সগুনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহেল বাকী জানান, আমার ইউনিয়নের প্রায় বেশীর ভাগ গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ত্রাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর তালিকা জমা দিয়েছি।
মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম বুলবুল জানান, মাগুড়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন ও পানির নিচে অবস্থান করছে। বন্যা কবলিত বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেছি। বন্য কবলিত লোকজনের ত্রানের জন্য এমপি সাহেবের সাথে যোগাযাগ রাখছি।
তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশগুল আজাদ বলেন, তাড়াশ উপজেলা মৎস্য ভান্ডারখ্যাত এখানে প্রচুর পরিমানে পুকুরে মৎস্য চাষ হয়ে থাকে । হটাৎ অতি বন্যার কারনে অনেক পুকুর বন্যার পানিতে ভেসে যাচ্ছে। এতে মাছ চাষীরা চরম ক্ষতির মধ্যে পরবে।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজামান মনি বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়ন কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তারা আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। ইতো মধ্যে সরকারী ভাবে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।