তাড়াশে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ে অনিয়ম
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০২:১৭ অপরাহ্ন

  

তাড়াশে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ে অনিয়ম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ
২১-০৭-২০২০ ০২:১৭ অপরাহ্ন
তাড়াশে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ে অনিয়ম

আশরাফুল ইসলাম রনি:
সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ১৩৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের বিরুদ্ধে। প্রতিটা ডিজিটাল মেশিন ক্রয়ে ১০ হাজার থেকে সাড়ে ১০ টাকা ক্রয় করে টাকা তুলে নিয়েছেন ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করে। 
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার স্পেসিফিকেশন উল্লেখ করে বলা হয়- বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে যাচাই করে সাশ্রয়ী মূল্যে নিজেদের পছন্দ মতো ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করে স্কুলে স্থাপন করবে। কিন্তু করোনার অজুহাতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা নিজেরা পছন্দমত কম দামে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনে টাকা আতœসাৎ করছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলায় ১৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ¯িøপের ফান্ড থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্ত সেই টাকা দিয়ে কম দামের বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কিনেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। ফলে বাদবাকী টাকাগুলো তারা আতœসাৎ করেছেন বলে অনেকেই জানান। 
বিভিন্ন স্কুলে খোজ নিয়ে জানা  গেছে, ডিজিটাল হাজিরা মেশিনটি বিদ্যালয়ে গিয়ে লাগিয়ে দেয়। অথচ এ মেশিনটির বাজার মূল্য আনুষঙ্গিক খরচসহ সাড়ে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। প্রতিটি বায়োমেট্রিক মেশিন নিম্মমানের ও কম দামে ক্রয়ে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে বিদ্যালয়গুলোতে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন লাগানোর কথা থাকলেও জুন মাসে সে মেশিনগুলো লাগানো হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালু হলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে চালু হয়নি।
উপজেলার নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.সুলতানা পারভীন বলেন, বায়োমেট্রিক মেশিন কেনা হয়েছে ১০হাজার ২শত টাকা দিয়ে কিন্ত এখনো লাগানো হয়নি। তাছাড়া সরাসরি কথা বলা ভাল। সব টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। 
উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের চরহামকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বলেন, স্কুলের উন্নয়নে জন্য ¯িøপের ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলাম। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৪৫ টাকা ভ্যাট কাটা হয়েছে। ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রেখেছিলাম। এরমধ্য ১০হাজার ৩শত টাকা দিয়ে সিরাজ মাস্টারের মাধ্যমে ডিজিটাল মেশিন কেনা হয়েছে। 
মাধাইনগর ইউনিয়নের কুমাল্লু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ ভাইয়ের মাধ্যমে ১০হাজার ২শত টাকা দিয়ে অনেক স্কুলের কন্ট্রাক দেয়া ছিল। তিনিই আমাদেরকে দিয়েছেন। এছাড়া ¯িøপ ফান্ডের বরাদ্দকৃত কতটাকা রাখা ছিল তা আমার খেয়াল নেই। তবে অধিকাংশ স্কুলই ১৫-২০ হাজার টাকা করে রেখেছিল। 
এবিষয়ে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ হোসেন বলেন, শিক্ষকরা তাদের মত করে মেশিন ক্রয় করছেন। অনেকেই অনিয়ম করতে পারে তবে আমি কিছু বলবো না। 
তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান বলেন, আমি গাড়ী রয়েছি। পরে কথা বলি বলে ফোন কেটে দেন। পরে আবারো এবিষয়ে কথা বললে তিনি কোন কথা বলেননি। 

 


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ২১-০৭-২০২০ ০২:১৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 627 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com