শিরোনামঃ
দিলীপ গৌর ০৫-০৭-২০২০ ০৬:৩১ অপরাহ্ন |
তাদের মধ্যে কোন নিয়ম-নীতি লক্ষ করা যায় নি। সপ্তাহে শাহজাদপুরে ৪ দিন তাঁত কাপড়ের হাট বসলেও এখানে হাজার হাজার তাঁতির আগমণ ঘটে। জেলার বেলকুচি, সোহাগপুর এনায়েতপুর, চৌহালী, পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া থেকে কাপড় বিক্রি করতে আসে। বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ার ব্যাপারীরা এই হাটে কাপড় কিনতে আসে। এর কারণে শাহজাদপুর ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
হাটে কোন নিয়ম-নীতির তেয়াক্কা করছে না কেউ। এদিকে শাহজাদপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুইদিনে উপজেলায় ২৪ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট ৬৮ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে শাহজাদপুর থানার পুলিশ সদস্য ১৩ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্সের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নকর্মীসহ ৯ জন, উপজেলা পরিষদের ৫ জন এবং পৌরসভার ৩ জন রয়েছে। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক ডাঃ ইউনুস আলী খানসহ ৪ জন মারা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তা ডাঃ আমিনুল ইসলাম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে করোনা সনাক্ত হওয়া রোগীদের বাড়ী প্রশাসনের পক্ষে থেকে লকডাউন করে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার সংস্পর্শে আসা পরিবারের সদস্যদের ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হলেও আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা তা মানছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকার অনেকেই অভিযোগ করেন, করোনায় সনাক্ত হওয়া রোগীদের পরিবারের সদস্যরা লকডাউন উপেক্ষা করে অবাধে হাটে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর ফলে পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে করোনার সংক্রমণ বিস্তার লাভ করেছে।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিমল কুমার কুন্ডু ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুজ্জামান শফি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা সনাক্ত হওয়া রোগীদের নাম, ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য নিয়মিত প্রকাশ না করে গোপন করা হচ্ছে। এ ফলে একদিকে করোনা সংক্রমণ বিস্তার লাভ করছে। অন্যদিকে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার সংস্পর্শে আসা লোকজন হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে অবাধে হাটে বাজারে চলাফেরা করছে।
তিনি জনস্বার্থে করোনা আক্রান্তদের নাম, ঠিকানা নিয়মিতভাবে প্রকাশ করার দাবি জানান। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমিনুল ইসলাম খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে করোনা সংক্রামণ বিস্তার রোধে কাজ করছে।
তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্তের বাড়ীসহ আশপাশের বাড়ী লকডাউন করা হচ্ছে এবং তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে জনগণ সচেতন না হলে প্রশাসনের একার পক্ষে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব না।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com