শিরোনামঃ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ ০১-০৭-২০২০ ০৪:১৫ অপরাহ্ন |
সোহাগ হাসান জয়ঃ সিরাজগঞ্জ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির কারণে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পানিবন্দি মানুষ বিভিন্ন বাঁধের উপর অশ্রয় নিচ্ছে। সেই সাথে গবাদী পশু নিয়ে পড়েছে বিপাকে। গবাদীপশু নিয়ে রাত কাটাচ্ছে এক সাথে। কষ্টের বানে ভাসছে পানি বন্দি মানুষ।
এছাড়া অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধিতে সিরাজগঞ্জে পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়নের ২৪৯২৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। ২২টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও চরাঞ্চলের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
বুধবার সকালে যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে গত ২৪ ঘন্টায় ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৮ এবং কাজিপুর উপজেলায় ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম রফিকুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জে ১৪ সেন্টিমিটার ও কাজিপুরে ৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুরে যমুনার পানি স্থিতিশীল থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পুর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, বন্যায় পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা পানিবন্দি হয়েছে। ২শ ১৬টি গ্রামের ২৪ হাজার ৯শ ২৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। ২শ ৮০টি ঘর-বাড়ি আংশিক, ২২টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার রাস্তা ও বাঁধ এবং প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে ১২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীতে পানি বাড়ার কারণে নদীবেষ্টিত জেলার সদর, কাজীপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় ২৫২০ হেক্টর জমির পাট ও তিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি না কমলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে তিনি জানান।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com