কাজিপুরে পানিবন্দী ছয় ইউনিয়নবাসীঃ সেতু রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা
৩০ জুলাই, ২০২৬ ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন

  

কাজিপুরে পানিবন্দী ছয় ইউনিয়নবাসীঃ সেতু রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা

আব্দুল জলিল
২৯-০৬-২০২০ ০৪:১৫ অপরাহ্ন
কাজিপুরে পানিবন্দী ছয় ইউনিয়নবাসীঃ সেতু রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা

কাজিপুর  প্রতিনিধিঃ  উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বর্ষণে কাজিপুর পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে সোমবার (২৯জুন) দুপুরে বিপদসীমা ৬৫ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে নদীর দু'কুল ছাপিয়ে  চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নের বাড়ী ঘরে পানি ঢুকে পড়ে পানিবন্দি হয়ে পড়ছে লক্ষাধিক মানুষ। পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে পাট, আউশ ধান, কাউন, ভুট্টা, বাদাম, সবজি খেত বীজতলা ও গোচারণ ভুমি। বিশেষ করে কাজিপুরের সিংহভাগ কৃষকের সোনালী স্বপ্নের ভিত গড়ে দেয়া পাটখেত পুরোটাই পানিতে তলিয়ে গেছে। আর সাতদিন সময় পেলেই তারা এই ফসল কাটতে পারতো। 

 বন্যার পানিতে শুভগাছা ইউনিয়নের একটি সেতু রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে কাজিপুর ফায়ার সার্ভিস ও স্থাণীয় জনগণ। গুরুত্বপূর্ণ ওই সেতুটি ধসে গেলে কয়েকশ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলিন হয়ে যেতে পারে। সোমবার সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ বছরই নির্মিত নির্মাণ করা হয়েছে। কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একেএম শাহা আলম মোল্লা ওই সেতু রক্ষার কাজ তদারকি করছেন।  
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ.কে.এম.রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘন্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ব্যাপক বৃদ্ধি  পেয়েছে।  রবিবার  সকাল ৬টায় কাজিপুরে যমুনা বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। 

কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে এ পর্যন্ত ৬১০ হেক্টর আউশ ধান, ১২০ হেক্টর ভুট্টা, ৪০ হেক্টর আখ, ১৬০ হেক্টর কাউন , ৪৫০ হেক্টর শাকসবজি এবং ৬ হাজার ১৫০ হেক্টর  জমির পাট সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। কাজিপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার প্রসেনজিৎ তালুকদার জানান, ‘ এতে করে মোট কুড়ি হাজার কৃষক ক্ষতির সন্মুখিন হয়েছেন।   এদিকে বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি  নিয়ে পড়েছে বিপাকে। তাদের মধ্যে  বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি ও খাবারের সংকট দেখা দিচ্ছে।  বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার বাঁধে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।

 কাজিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একেএম শাহা আলম মোল্লা জানান, আমরা খোঁজখবর রাখছি। ২৩ মে.টন চাল আমাদের হাতে রয়েছে। অবস্থা বিবেচনায় আরও চাহিদা দেয়া হবে। পানিবন্দী পরিবারের  তালিকা তৈরী করে সরকারী ত্রাণ দেওয়া হবে।


আব্দুল জলিল ২৯-০৬-২০২০ ০৪:১৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 501 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com