চৌহালীতে যমুনা নদীর ভাঙ্গণে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ, নীরব পাউবো
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

  

চৌহালীতে যমুনা নদীর ভাঙ্গণে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ, নীরব পাউবো

সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চৌহালি
২৮-০৬-২০২০ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
চৌহালীতে যমুনা নদীর ভাঙ্গণে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ, নীরব পাউবো

চৌহালী প্রতিনিধিঃ বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই যমুনা নদী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। যমুনা নদী প্রতিদিন গিলছে ফসলী জমি ও বসতভিটা। আর নিঃস্ব হয়ে পড়ছে মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড সরেজমিন পরিদর্শণ করে সামান্য কিছু জিও ব্যাগ ফেললেও স্থায়ী ভাবে  নিচ্ছে না কোন ব্যবস্থা। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, বর্ষার আগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে অসংখ্য স্থাপনা, ঘরবাড়ী, ফসলী জমি, তাঁত কারখানা, মসজিদ, মাদ্রসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান ও হাট-বাজার বিলীন হবার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙ্গনের কারনে পরিবেশের ভারসাম্য নস্ট হয়ে যাচ্ছে   । এ অবস্থায় দ্রুত ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন ভাঙ্গনকবলিতরা।

জানা যায়, বর্ষার মৌসুমের আগে বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। এ কারণে অরক্ষিত নদীর তীরে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। মাত্র একমাসের ব্যবধানে কয়েক হাজার বসতভিটা-ফসলী জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা যায় চৌহালী উপজেলা সদরের জনতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে খাস পুকুরিয়া হয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরবিনানুই-ভুতের মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দক্ষিণ খাষ পুকুরিয়া, মিটুয়ানী, রেহাই পুকুরিয়া মুরাদপুর ও চরবিনানুই এলাকার প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি, কয়েকটি তাঁত কারখানা, কবরস্থান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রায়  দেড় কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

এ দিকে ঘোরজান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রমজান আলী জানান, মাত্র কয়েক দিনে আমার ঘোরজান ইউনিয়নে এক শ' একর ফসলী জমি ৫০ থেকে ৬০টি বসতবাড়ি নদীর গর্ভে বিলিন হয়েছে ৷ এদের মধ্যে মুরাদপুরের  সাদেক মুল্লিক, সানোয়ার মুল্লিক, জহুড়া বেগম, আছির উদ্দিন, আলহাজ নজরুল ইসলাম, ওয়াহাব আলী, আরমান খাঁন, কালাম ভূত উল্লেখ যোগ্য ৷ ফসলী জমি ভাঙনরোধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়াও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য নস্ট হয়ে পড়ছে। এদিকে এনায়েতপুর ব্রাহ্মন গ্রাম থেকে পাঁচিল পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার চরাঞ্চলের ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

চৌহালী উপজেলার খাষপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরকার জানান, যমুনার ভাঙনে তার ইউনিয়নের খাসপুখুরিয়া ও মেটুয়ানি গ্রামের তীরবর্তী এলাকার অন্তত ২৫/৩০টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে এ অঞ্চলের মানুষের। বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী জানান, গত এক মাসের ব্যবধানে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের রেহাই পুকুরিয়া, চর নাকালিয়া, বিনানুই ও চর সলিমাবাদ গ্রামের তীরবর্তী অঞ্চলের শতাধিক ঘরবাড়ি এবং মিটুয়ানি ও দেওয়ানগঞ্জ বাজারসহ তাঁতকারখানা এবং কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এনায়েতপুরের, এরশাদ আলী ও জাহান আলীসহ  কয়েকটি গ্রামের ভাঙ্গনকবলিতরা জানান, মাত্র একমাসের ব্যবধানে ব্রাহ্মনগাতি-আড়কান্দি থেকে পাঁচিল পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙ্গনে প্রায় এক হাজার বসতবাড়ী, শত শত হেক্টর জমি, খেলার মাঠ, মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ বিলীন হয়ে গেছে। বাপ দাদার ভিটেমাটি হারিয়ে সবাই খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে। এক সময়ের বিত্তবান মানুষগুলো ভাঙ্গনে সব হারিয়ে মুহুর্তে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। ঘর তোলার জায়গা নেই, করোনার কারনে কাজ না থাকায় এসব মানুষ অনাহারে দিনযাপন করছে।পাউবো শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। ভাঙ্গনে যারা নিঃস্ব হয়েছে তাদেরকে পুনর্বাসনের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চৌহালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক হোসেন জানান, ভাঙ্গনকবলিত এলাকা পরিদর্ষন করেছি এ বিষয়ে উপরমহোলে জানানো হয়েছে ৷ খুব তারাতারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ৷চৌহালী উপজেলা অংশের দায়িত্ব থাকা টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ওই এলাকায় স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, এনায়েতপুরের ছয় কিলোমিটার তীর ভাঙ্গন রোধে সাড়ে ৬শ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে স্থায়ী ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া জরুরীভাবে ভাঙ্গনরোধে কিছু জিওব্যাগ ফেলানো হবে বলেও তিনি জানান।


সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চৌহালি ২৮-০৬-২০২০ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 559 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com