শিরোনামঃ
আব্দুল জলিল ২৭-০৬-২০২০ ১২:২১ অপরাহ্ন |
আবদুল জলিলঃসিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার হাজার চরবাসির মনে স্বপ্নের বসতি গড়েছে একটি রাস্তা। ইতোমধ্যে সেই রাস্তার পাশে চলছে নিজেদের বসতি গড়ার কাজ । বিকেলে সেই রাস্তায় ঘুরতে বের হচ্ছে লোকজন। নিজের বাড়ি থেকে বের হবার একমাত্র পথ পেয়ে খুশি কয়েকশ পরিবার।
যাতায়াতের একমাত্র পায়ে হাটাঁ সরু রাস্তাটি ভেসে যায় গত বছরের বন্যায়। ওই রাস্তা ব্যবহারকারি দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ পাশের খাসরাজবাড়ি ইউনিয়নের নৌঘাট পর্যন্ত চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকেই চরবাসির দাবী ছিলো রাস্তাটি নির্মাণের। সেই দাবী মেটাতে এ বছরের মে মাসে দুর্যোগ ব্যস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুরু হয় কাজ। নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের তৈমুরের বাড়ি থেকে উত্তরে নূরনবীর বাড়ি পর্যন্ত এক হাজার ফুট রাস্তার নির্মাণ কাজ দেখভাল করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।
স্থানীয়ভাবে কাজটি করেন নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র নয় মে.টন গম বরাদ্দে শুরু হয় কাজ। নদীতে ড্রেজার বসিয়ে দূর থেকে বালি এনে চলে নির্মাণ কাজ। এদিকে যমুনার পানি বাড়ার সাথে সাথে ওই রাস্তার নির্মাণ কাজ অনিশ্চয়তায় মধ্যে পড়ে । শঙ্কা জাগে এলাকার মানুষের মনে। গত বছর এমনি করেই ওই রাস্তা নদীর পেটে চলে গেছে। আর তাতে করে ভয়াবহ অবস্থার পড়তে হয়েছিলো বেশ কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদের। আবারো কি তারা সেই পরিস্থিতি মুখোমুখি হবেন?
কিন্তু না। ত্রাতার ভূমিকা পালন করলেন ঠিকাদার আব্দুর রহিম সরকার। অবশেষে বরাদ্দের জন্য অপেক্ষা না করে মাত্র কুড়ি দিনেই রাস্তার বালি ভরাট কাজ শেষ করেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সরেজমিন ওই রাস্তায় গিয়ে দেখে গেছে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ভুট্টা, ধান, কাউন নতুন রাস্তা দিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে করে স্থানীয় হাটে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকে এরই মধ্যে নতুন রাস্তার দুপাশে বালি ভরাট করে জায়গা উঁচু করছেন। জানতে চাইলে বালি ভরাটকারি রফিক মিয়া জানান, ‘এই রাস্তা আমাগোরে হাজার পরিবারের চইলবার পথ করে দিছে। এহোন নিজে এই রাস্তার পাশে বাড়ি করমু বলে জায়গা উঁচু করতাছি।’
ঠিকাদার আব্দুর রহিম সরকার জানান, ‘ গতবারের বন্যায় এই রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি নিজ চোখে দেখেছি। তাই এবার সুযোগ পেয়ে নিজের এলাকার কাজ বলে সাধ্যমতো চেষ্টা করে বর্ষা আসার আগেই শেষ করেছি। আশা করছি অতিরিক্ত ব্যয়িত টাকা কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবেন। ’
কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী জানান, ‘ রহিম খুব ভালো কাজ করেছে। ওই রাস্তাটি করা নেতা মোহাম্মদ নাসিমের একটি স্বপ্ন ছিলো। মৃুত্যর পূর্বেও তিনি এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন।’
কাজিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একেএম শাহা আলম মোল্লা জানান, ‘রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ। রহিম সাহেব দ্রুততার সাথে মৌখিক আশ্বাসে বরাদ্দের বাইরেও কাজটি করেছেন। বরাদ্দ পেলে তার বাকি অর্থ পরিশোধ করা হবে।’
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com