শিরোনামঃ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ১৮-০৬-২০২০ ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন |
আশরাফুল ইসলাম রনি:
বাবা তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও, আমার হাবিব কোথায় ? আমার ছেলে কি আর মা বলে ডাকবে না? হাবিব কে ওরা এভাবে মেরে ফেলতে পারলো ? হাবিবের কি দোষ ছিল ? আমার হাবিববে এনে দাও তোমরা। এমনভাবেই ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন আর জ্ঞান হারিয়ে পড়ছেন। জ্ঞান ফেরার পর আবারো কাঁদছেন একমাত্র সন্তান হারা মা হেলেনা খাতুন। সাথে পাড়া প্রতিশেীদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠেছিল। সবার মুখে বোবাকান্না। কেদেঁ কেদেঁ গনমাধ্যমকর্মীদের কাছে চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল গ্রামের নিকারীপাড়া আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মেধাবী কলেজছাত্র ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানের হাবিব হত্যার বিচারের দাবী করছেন মা।
একমাত্র ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে মা হেলেনা খাতুন । বুধবার বাড়িতে লুটিয়ে পড়ে বিলাপ করেন তিনি। ছেলের শোকে মায়ের কান্না থামছে না কিছুতেই। এতকিছুর পরও ভাঙছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঘুম।
প্রতিবেশীরা জানান, আলোচিত মেধাবী কলেজছাত্র ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানের হাবিব হত্যা এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেফতার না হওয়ায় চিন্তিত হতভাগ্য পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
এদিকে পুলিশ আসামিদের পলাতক বলে আসামিদের গ্রেফতার করতে পারছে না বলে জানান। নিহত হাবিবের একমাত্র বোন রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার ভাইকে হত্যার ঘটনার পর থেকে মা অসুস্থ। ছেলে হত্যার বিচার চাইছেন। খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ রেখেছেন।
এদিকে, মেধাবী কলেজছাত্র ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানের হাবিব হত্যার আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে বুধবার (১৭জুন) দুপুরে হান্ডিয়াল বাজারে এলাকাবাসী, স্বজনরা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে প্রায় হাজারো মানুষ বিক্ষোভ কর্মসুচি ও মানববন্ধন করেছেন।
নিহত হাবিবের চাচা গত (১৫ই জুন) ভাতিজাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যায় জরিত একই হান্ডিয়াল গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে কাওছার আহমেদ কাজল (২৫), আব্দুল মাজেদের ছেলে সাহেদ আলী (২৩), আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে মো. রনি আহমেদ (২৪), জাকির হোসেনের ছেলে রাকিবুল হাসান (২১), কালু খন্দকারের ছেলে নাহিদ খন্দকার (২০), সাদ্দাম হোসেনের ছেলে হামজালাল (২০), গোলবার হোসেনের ছেলে আসিফ হোসেন (২) পাশের গ্রামের হাসুপুর গ্রামের রওশন আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ (২৪), বল্লভপুর গ্রামের বুকুল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২১),হোসেনপুর গ্রামের সোহেল রানার ছেলে ইমরান হোসেন (২২) ও মারিয়াস্থল গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে শামিম আহমেদ (২৫)কে আসামী করে চাটমোহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের কছেন।
এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলম হোসেন, সহ-সভাপতি আফতাব হোসেন, গাজী আব্দুল খালেক মাস্টার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা দিলিপ ব্রক্ষচারী বলেন, মেধাবী কলেজছাত্র ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব একজন দলের নিবেদিত প্রাণ ছিল। বঙ্গবন্ধুর আর্দশের সৈনিক ছিল। কারো সাথে কখনো খারাপ আচরন করতেন না। আর সেই মেধাবী কলেজছাত্র হাবিবকে তারা হত্যা করলো। আমরা অবিলম্বে আসামীদের গ্রেফতার করে তাদের ফাঁসির দাবী জানাচ্ছি।
চাটমোহর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর থেকেই আসামীরা পলাতক। তাদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৪জুন রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হান্ডিয়াল নিকাড়িপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিবকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহম্মেদ গ্রæপ হান্ডিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের গলিতে হাবিব ও নাসিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই হাবিব মারা যায়। আহত নাসিরকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে নিহত হাবিবের চাচা রুহুল আমিন বাদী হয়ে (১৫ জুন) চাটমোহর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com