শিরোনামঃ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সলংগা ১৭-০৬-২০২০ ১২:৫৭ অপরাহ্ন |
জি,এম স্বপ্না : মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয় চীনের উহান শহর থেকে। আর তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয় ৮ মার্চ আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম মৃত্যু বরণ করেন ১৮ মার্চ। এরপর থেকে বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা।
করোনা চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: মঈন উদ্দীন খান মারা যান ১৫ এপ্রিল। এরপর ২৮ এপ্রিল মারা যান দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার নগর সম্পাদক সাংবাদিক হুমায়ন কবীর খোকন,মাস না ঘুরতেই ৩ মে মারা যান আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের চীফ হেমোডোলিষ্ট অধ্যাপক মনিরুজ্জামান।
৭ মে মারা যান ফারইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড.নাজমুল করিম। এভাবে ১০ মে মারা যান সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার কবীর। তিনি জামালপুর ৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। স্বাধীনতা ও একুশে পদক পাওয়া ব্যক্তি ,যিনি মুত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলা একাডেমির সভাপতি ছিলেন,সেই শিক্ষাবিদ, জাতীয় অধ্যাপক ড.আনিসুজ্জামান ১৪ মে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান।
১৫ মে মারা যান টেলিভিশন নৃত্য সংস্থার সাবেক সভাপতি নৃত্য শিল্পী হাসান ইমাম। বগুড়ায় বসবাসরত সিরাজগন্জের কৃতি সন্তান,সিটিএসবি- পল্টন জোন - ১, এ কর্মরত পুলিশ অফিসার মুজিবুর রহমান মারা যান ১৮ মে। ২২ মে তারিখে করোনায় মারা যান দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের বড় ভাই। একই দিন মুত্যু হয় জাতীয় তথ্য কমিশনের সচিব,তোফিকুল আলমের। যিনি বিসিএস ৮ম ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন, এ বছরের ফেব্রুয়ারী হতে পিআরএল- এ আছেন।
ঢাকা ৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য,যাকে ঢাকায় সবাই হাজী মকবুল হিসেবে চেনেন,তিনিও মারা যান ২৪ মে। ২৬ মে মারা যান এশিয়ান কারাতে ফেডারেশনের রেফারী হুমায়ন কবীর সোহেল। এভাবেই ৩১ মে করোনায় কেড়ে নেয় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ফজলুল করিম চৌধুরী। রাজধানীর মুক্তা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
৫ জুন এসআইসিভিডির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঢাকার হৃদরোগ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা: মাহমুদ মনোয়ার। তৎকালিন সময়ে বিসিএস করেও যিনি চাকরী না করে রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে মুত্যু পর্যন্ত দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন,মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন,ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ,তিনিও মারা যান ১৩ জুন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানও ১৫ জুন এভাবেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে চলে যান না ফেরার দেশে। প্রাণঘাতী করোনা দেশের পুলিশ,প্রশাসনিক কর্মকর্তা,ডাক্তার,ইন্জিনিয়ার,শিক্ষক, সাংবাদিক,রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী,কৃষক,শ্রমিক সহ নাম না জানা অসংখ্য মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আসুন আমরা সবাই আরও সচেতন হই।
করোনা প্রতিরোধে সরকারী নির্দেশ মেনে চলি। মাস্ক ব্যবহার করি। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে অযথা না ঘুরি, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে যার যার কর্ম করি। সব সময় আল্লাহর উপর ভরসা রাখি। পরিশেষে এই ক্লান্তি লগ্নে যারা মৃত্যু বরণ করেছেন তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করি। মহান আল্লাহ পাক যেন তাদের সবাইকে বেহেস্ত নসীব করেন। আমিন,,,
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com