শিরোনামঃ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি ০৮-০৬-২০২০ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন |
অভিযুক্ত নয়ন হোসেন (২২) দৌলতপুর ইউনিয়নের পেস্তক গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে ও লিটন (২৩) একই গ্রামের জেলহক আলীর ছেলে। তাদের বিরুদ্ধে পাশের গ্রামে এক এতিম মেয়েকে মিথ্যা অপবাদ দেয়। মেয়েটিকে বিয়ে দেয়ার কথা বলে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ভুক্তভোগীর বাড়িতে মেয়ের ভাইয়ের সুমন (২৬) নামের এক বন্ধু আসে। ছেলেটা সারা দিন থাকার পরে সন্ধ্যার দিকে নয়ন, লিটন সহ ৭/৮ জন ছেলে এসে মেয়েদের বাড়িতে ভিড় করে। এক পর্যায়ে ওই ছেলেটাকে দেখে তারা ওই বাড়ির মেয়ের সম্পর্ক আঝে বলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সুমনকে ধরে নিয়ে যায়। পরে মেয়েটার সাথে বিয়ে দেয়ার কথা বলে। ভুক্তভোগীর পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করে। পরে নিরুপায় হয়ে মেয়ের পরিবার রাজি হয়। পরে নয়ন ও লিটন ভুক্তভোগীর মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেবে বলে পরিবারের কাছে থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু ওই মেয়েটার সাথে বিয়ে না দিয়ে ছেলের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ২০ হাজার ৫ শত টাকা নিয়ে ছেলেকে ভাগিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগীর মা জানায়, আমার ছেলের বন্ধু সুমন আমার বাড়িতে অনেক বার যাওয়া আসা করেছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ওই ছেলেটা আমাদের বাড়িতে আসে। সারাদিন থাকে সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশী মৃত মোসলেস ফকিরের ছেলে মোন্নাফ ন্যাংড়া (৪৫) এর ইংগিতে মোক্তারের ছেলে নয়ন ও জেলহকের ছেলে লিটন সহ আরো অনেক জন আমার বাড়িতে এসে আমার মেয়ের সাথে ঐ ছেলের সম্পর্ক আছে বলে মিথ্যা অপবাদ দেয়। তার পর ছেলেটা কে ধরে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর নয়ন ও লিটন এসে বলে আপনার মেয়ের সাথে প্রেম আছে বিয়ে দিয়ে দিতে হবে। কেনো যৌতুক দিতে হবে না আমাদের ৪০ হাজার টাকা দিন আমরা থেকে বিয়ে দিয়ে দেই। পরে আমি গয়না বন্ধুক রেখে ৪০ হাজার টাকা গুচ্ছিয়ে নয়ন ও লিটনের হাতে তুলে দেয়। পরে শুনতে পারি ছেলেটার পরিবারে সাথে যোগাযোগ করে টাকা নিয়ে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে। পরে ছেলের বিষয় জানতে চাইলে আমাকে বলে ছেলে তিনটা বিয়ে করেছে এই জন্য বিয়ে দেওয়া যাবে না। নয়ন ও লিটনের কাছে টাকা ফেরৎ চাইলে তারা তালবাহানা করে অপবাদ দিয়ে উল্টা ভয় ভ্রীতি দেখাচ্ছে। তিনি আরও জানান, মোন্নাফ ন্যাংড়া আমার মেয়েকে অনেক আগে থেকে ক্ষতি করা চেষ্টা করছে এ সব যা হয়েছে সব তার ইংগিতে। আমার সমাজে মাতব্বর আলহাজ্বের কাছে বিষয়টা জানালে এখন পর্যন্ত এর সমাধান দেয়নি। পরে জানতে পারি সে ওই টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার ভাগ নিয়েছে। আমার মেয়েকে নিয়ে যারা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার কথা বলে ৪০ হাজার নিয়েছে আল্লাহ তাদের বিচার করবে।
এ বিষয়ে মোন্নাফ ন্যাংড়ার কাছে জানতে গেলে, সে কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
আলহাজ্ব প্রমানিকের সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি এখন পর্যন্ত কিছু জানিনা। তাকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকার ভাগ নিয়েছেন এমন অভিযোগ করলে সে ফোন কেটে দেন।
গোপালপুর ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোবাহান আলী জানান, আমি লোকমুখে টাকা নেয়াসহ এই ঘটনার কথা জেনেছি। এই ধরনের ঘটনার খুবই দুঃখজনক। যারা এই ধরনের ঘটনার সাথে জড়িত তাদের উপযুক্ত শাস্তিদাবী করছি।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com