শাহজাদপুরে রিং বাঁধ হুমকির মুখে বাঁধ ভাঁঙ্গলে ৬২ হাজার ৫’শ হেক্টর ফসলী জমি তলিয়ে যাবে
শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাঁউতারা রিং বাঁধ হুমকির মুখে যে কোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে । হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমি হুমকির মুখে। এলাকাবাসীর অভিযোগ কাজ না করেই এই বাঁধে কোটি কোটি টাকা লুটে-পুটে খাচ্ছে। জানা গেছে, হঠাৎ করেই পানি বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকে। দুইদিনে ৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে শাহজাদপুর উপজেলার বড়াল নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাঘাবাড়ী নিমাইচড়া রিং বাঁধ সংলগ্ন গোহালা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে গতকাল সোমবার রিং বাঁধটির একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে। পড়ে এলাকাবাসী ও ঠিকাদারদের সহযোগিতায় বাঁধের দুর্বল অংশে বালু ফেলতে থাকে। বালু ফেলার পরও রিং বাঁধটি কিছুতেই ঠিক করতে পাছেনা। আজ মঙ্গলবার ২৬ মে দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায় ১২’শ পঞ্চাশ মিটার বাঁধের একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেই সাথে প্রচন্ড বাতাসে ধীরে ধীরে বাঁধের অবস্থা আরো করুণ হচ্ছে। বাঁধে জরুরী ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোডের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারগণ বাঁধের দুর্বল অংশে বালু ফেলছে। তবে কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে পুরো চলনবিল এলাকার সিরাজগঞ্জ, পাবনা, চাটমোহর, নাটোর, নওগাঁ ও রাজশাহীর নি¤œ অঞ্চল এলাকার ফসলী জমি তলিয়ে যাবে। এদিকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ শামসুজ্জোহা রাঁউতারা রিং বাঁধ পরিদর্শন করেন, এ সময় শত শত এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোডের কর্মকর্তারা কোন কাজ করে না। তাদের সঠিকভাবে কাজ না করার কারণে এই রিং বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ শামসুজ্জোহা কাজের মান দেখে তীব্র অসন্তোস প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে ইউএনও এর সামনে এলাকাবাসী ঠিকাদার আলতাফ হোসেন ও সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়নর বোডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিলটন হোসেন ও আব্দুল ওহাবের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং এ সকল কর্মকর্তা বৃন্দ কোন কাজ না করেই এখান থেকে কোটি কোটি টাকা লুট-পাট করছে বিশাল দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে এলাকাবাসী বলেন, বাঁধ ভাঁঙ্গলে আমরা কাউকে ছাড়বে না। আপনারা কোটি কোটি টাকা কাজ না করেই বিল উত্তোলন করছেন।
এদিকে ইউএনও ঠিকাদারকে বলেন, এই কাজ কোনভাবেই সঠিক হচ্ছে না। বাঁধ ভাঁঙ্গলে বিশাল ক্ষতি হবে। তাই বাঁধের ক্ষতি হলে আমি আপনার বিরুদ্ধে মামলা করবো। এ সময় তিনি এলাকাবাসীকে ধান কেটে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এদিকে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুস সালাম জানান, বাঁধের একটি অংশ খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। সঠিক নিয়মে কাজ করলে এমনটা হতো না। তবে রিং বাঁধ ভাঁঙ্গলে বৃহত্তর পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ ও রাজশাহী জেলায় ৬২ হাজার ৫’শ হেক্টর ফসলী জমি তলিয়ে যাবে। এখনও এ অঞ্চলের ২৫ শতাংশ ধান টাকা হয়ে নাই। বাঁধ ভাঁঙ্গলে আমাদের স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যাবে। আমি দুইদিন ধরে এখানে আছি। অপরদিকে পোতাজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বাচ্চু, পোতাজিয়া দুগ্ধ সমিতির সভাপতি ওয়াজ আলী, আওয়ামীলীগ নেতা রাশিদুল হায়দার জানান এ বাঁধ নিয়ে রাজনীতি খেলা হচ্ছে। এতদিন বাঁধের কোন খোঁজ নেয় নাই। এখন আমাদের ধান তোলা সময় তাই যদি বাঁধ ভেঙ্গে যায় আমাদের শত শত কৃষক পরিবারের মধ্যে বিপর্যয় নেমে আসবে। রিং বাঁধ মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা-লুটে পাট করা হচ্ছে। যেন কেউ দেখার নাই। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়নর বোডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিলটন হোসেন জানান, প্রায় ১২’শ পঞ্চাশ মিটার এই বাঁধের একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়ায় আমরা দিন-রাত কাজ করছি। কোন অনিয়ম এখানে হয়নি। সিরাজগঞ্জ এমএ এন্টার প্রাইজের ঠিকাদার জাকির হোসেন জানান, ১ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকায় নির্মিত এই বাঁধের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এখানে দুর্নীতি করার কোন সুযোগ নাই। আমরা পাইলিং করে প্রায় ৯০ হাজার বস্তা বালু বাঁধের অংশে ফেলেছি। হঠাৎ করেই দুইদিন ধরে প্রায় সাড়ে ৩ ফুট পানি বৃদ্ধির ফলে রিং বাঁধের এ অবস্থা দেখা দিয়েছে। আমরা নিয়ম-তান্ত্রিকভাবে কাজ করে আসছি। আশা করি বাঁধের কোন সমস্যা হবে না। এদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলীর ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ এই বাঁধ এ শ্রেনির প্রভাবশালী মহল কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করছে। গত বছর এই বাঁধের জন্য ১ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ব্যয় করে তা পুকুরচুরি করা হয়েছে। এ বছরও ১ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা কাজ পেয়েছে এক রাজনৈতিক নেতা সে কাজ নিয়েও এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করলেও দুর্নীতির কবলে পড়েছে এই রিং বাঁধ।