বিষাদে ভরা ঈদ-আনন্দঃ- নাজমুল হক
ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে আনন্দ। রমজানের এই ঈদ আসে সবার জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে। সারা বিশ্বের মুসলমান এটি পালন করেন একটি খুশির উৎসব হিসেবে। কিন্তু এবারের ঈদটা অন্য রকম। ঊর্ধ্বে স্নিগ্ধ, সুন্দর, নির্মল আকাশ। আর এই শান্ত, স্নিগ্ধ আকাশের নীচে চলছে নিদারুণ বিভীষিকা। আমরা সবাই নিজ নিজ ঘরে কয়েদি । আমাদের পৃথিবী আজ বন্দিশালা। পৃথিবীর প্রতি নির্মম অবিচার আর অত্যাচারের শাস্তি আজ আমাদের মাথায়। চারিদিকে শুধু বুকভাঙা দুঃসংবাদ।
আর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে নব মৃত্যুর সাইরেন। সারা পৃথিবী আজ করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত। বন্ধু,স্বজন, আত্মীয়পরিজন সবাই আছে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায়। মনের মধ্যে ঘাপটি মেরে আছে দানা বঁাধা দুশ্চিন্তা আর আতংক। শেকড়ের টানে প্রিয়জনের কাছে যেতে পারছে না বেশিরভাগ মানুষ। সবার মাঝেই প্রিয়জনের কাছে না যেতে পারার বেদনা । এরই মধ্যে বীরদর্পে এসেছে সুপার সাইক্লোন আম্পান। লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে জনপদ। ভেঙে দিয়েছে ঘরবাড়ি।ভাসিয়ে দিয়েছে ফসল আর কেড়ে নিয়েছে গবাদিপশু। টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে ওঠে ওইসব সর্বহারা মানুষের কান্না। যা দেখে চোখ ভিজে আসে। সর্বত্র এক বিষাদিত আবহ। এই অবস্থায় প্রিয় ও পবিত্র ঈদ এসেছে আমাদের দ্বারে। বিষাদে ভরা ঈদ। এবারের ঈদে বাঁধভাঙা আনন্দে ভেসে যাওয়া যাবে না। বন্ধু প্রিয়জনকে বুকে জড়িয়ে ধরা যাবে না।
থাকতে হবে সতর্ক। চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বাস্তবতা এমনই। এ বৈরী পরিস্থিতিতে চলুন আমরা সবাই সতর্কতার সংগে সংক্রমণের ঝঁুকি এড়িয়ে ঈদ উৎসব উদযাপন করি। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি এই শান্ত -স্নিগ্ধ পৃথিবী শীঘ্রই করোনার আতংক থেকে মুক্তি পাক। উপকূলবাসী আম্পানের ক্ষতি কাটিয়ে উঠুক। ধরিত্রী আবার ভরে উঠুক তার অপরুপ স্নিগ্ধ -সৌন্দর্য আর আনন্দ-উচ্ছলতায়। বিভীষিকা কেটে যাক। পৃথিবী জেগে উঠুক নতুন আলোয়। কবিতার ভাষায় বলি- এই দূর্ভাগা দেশ হতে হে মংগলময়,
দূর করে দাও তুমি সর্ব তুচ্ছ ভয়।
আর বন্ধু শোন বলি তোমায়
বুকে জড়িয়ে ধরা হলোনা এবার তাতে কী- ভেবোনা,
আমাদের আবার দেখা হবে মহামারি শেষে,
দেখা হবে সুস্থ শহরে, সুন্দর-নির্মল পরিবেশে।।
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন। সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।
মুহাম্মদ নাজমুল হক,
সহকারী অধ্যাপক, উল্লাপাড়া মার্চেন্টস পাইলট সরকারি স্কুল ও কলেজ, সিরাজগঞ্জ।