মহৎ প্রাণ মহৎ মানুষ শেখ আব্দুস ছালাম
২৬ জুন, ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন

  

মহৎ প্রাণ মহৎ মানুষ শেখ আব্দুস ছালাম

সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চৌহালি
২১-০৫-২০২০ ০৮:১৯ অপরাহ্ন
মহৎ প্রাণ মহৎ মানুষ শেখ আব্দুস ছালাম
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মহৎ প্রাণ মহৎ মানুষ শিল্পপতি আলহাজ শেখ আব্দুস ছালাম সকলের কাছেই বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের অধিকাংশ মাদ্রাসা-মসজিদের উন্নয়ন কাজে আর্থিক সহযোগিতা দানকারী হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত। শেখ আব্দুস সালাম গত ২০ বছরে তার ব্যবসায়ী জীবনে তিনি শতাধিক কোটি টাকা শুধুমাত্র মাদ্রাসা মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করেছেন। গত ফেব্রুয়ারী মাসে আমি আব্দুস ছামাদ খান ও সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমূদ বনানীস্হ এই দানবীরের ব্যবাসায়ীক প্রতিষ্ঠান অফিসে গিয়ে একান্ত চা-চক্র শেষে, সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমূদের গ্রামের বাড়ীর একটি মসজিদের উন্নয়ন কাজে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন মর্মে জানালে তিনি কিছুক্ষণের মধ্যেই ঐ মসজিদের উন্নয়ন কাজের জন্য নগদ পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে দিলেন। আমরা জানতে পারলাম,তাঁর ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান থেকে যা লভ্যাংশ বা আয় আসে তা যতো তারাতারি সম্ভব মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজে ব্যায় করার জন্য তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। এখানে উদাহরণ স্বরুপ বলাটা ঠিক হবে কিনা জানিনা,তবুও বলছি "যেমনটি আমি আব্দুস ছামাদ খান দেখেছি ২০১৮ইং সালে হজের সময় মদিনায় গিয়ে,আসরের নামাজ শেষে ঘোষনা এলো যানাজা নামাজের। যানাজা নামাজ পড়েই ২মিনিটের মধ্যেই গিয়ে দেখি নবীজীর রওজা পাকের পশ্চিম পাশেই খাটের উপর লাশ, ৭/৮জন খাটটি কাঁধে নিয়ে দৌড় দিচ্ছে, আমিও খাঁটটি ধরে দৌড়াতে লাগলাম, এতো জোড়ে দৌড়াতে আমি কখনও দেখেনি। লাশ নিয়ে যাওয়া হলো জান্নাতুল বাকী কবরস্হানে,সেখানে লাশ দাফন করা হলো। পড়ে জানতে পারলাম, মৃত হাজীরা জান্নাতবাসী, তাই জানাজা শেষে যত তারাতারি সম্ভব লাশ দাফন করতে হয়। ঠিক সেরকমি মনে হলো,শেখ আব্দুস সালামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ থেকে যা আয় আসবে তা মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজে যত তারাতারি সম্ভব দৌড়ে গিয়ে তা ব্যয় করার জন্য তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন । ঠিক যেন লাশ নিয়ে দৌঁড়ে গিয়ে দাফন করার ম'তো ! এছাড়াও তিনি তাঁর নিজ গ্রামে "শেখ আব্দুস ছালাম মিসবাহুল উলুম মাদ্রাসা এন্ড স্কুল" নামে একটি মাদ্রাসা সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খামারগ্রামে পরিচালনা করে আসছেন। এ প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্র-ছাএী সংখ্যা ৫৩৫ জন,শিক্ষক রয়েছেন ২৭ জন ও কর্মচারীসহ ষ্ট্যাফ রয়েছে ১২ জন। সেখানে চালু রয়েছে, হাফিজিয়া,এফতেদায়ী সহ ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত মাদ্রাসা এন্ড স্কুল। এটির পিছনে যতো ব্যয় তা তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয় থেকেই সম্পর্ন ভাবে বহন করা হয়। শিল্পপতি আলহাজ শেখ আব্দুস ছালাম, সম্পর্কে আমরা মামা-ভাগ্নে হলেও স্কুল জীবনে লেখা-পড়া করেছি এক সাথে। আমরা ভাল বন্ধুও বটে! একঅনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন,সেইকথাটি অামাকে বললেল, "মামু শুনুন আমার কথা শুনুন" "রমজানুল মোবারক শেষের দিকে, আসছে ঈদুল ফেতর। খলীফা হযরত ওমর (রা.) সময়ও অলিতে-গলিতে তখন ঈদের আমেজ। ঈদ উপলক্ষে মদিনার ঘরে ঘরে বইছে অনাবিল খুঁশির হাওয়া। বাঁচ্চাদের জন্য বাঁনানো হচ্ছে নতুন নতুন জামা-কাঁপড়। আর মাত্র এক দিন বাকি আছে ঈদের! এদিকে খলিফা ওমর (রা.) এর ঘরে ঈদের কোন আনন্দ নেই। নতুন জামা-কাপড় বানানোর হিড়িকও নেই। ঈদের আগের দিন খলীফা হযরত ওমর (রা.) এর স্ত্রী উম্মে কুলসুম তাকে বললেন, ‘আমাদের জন্য ঈদের নতুন কাপড় না হলেও চলবে, কিন্তু ছোট বাঁচ্চাটি ঈদের নতুন কাপড়ের জন্য কাঁদছে’। খলীফা বললেন, ‘আমার নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই’। খলীফা পত্নী উম্মে কুলসুম খলীফার আগামী মাসের বেতন থেকে অগ্রিম নেয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করলেন। তখন সাহাবী হযরত আবু উবাইদা মদিনার রাষ্ট্রীয় কোষাগার ‘বায়তুলমাল’ দেখাশুনা করতেন। খলীফা ওমর (রা.) হযরত আবু উবাইদাকে খলীফার এক মাসের অগ্রিম বেতন দেয়ার জন্য চিঠি পাঠালেন। সমগ্র মুসলিম জাহানের খলীফা, অর্ধ পৃথিবী শাসন করছেন যিনি, তার এ ধরণের চিঠি পেয়ে আবু উবাইদা (রা.) এর চোখে পানি চলে আসল। উম্মতে আমীন হযরত আবু উবাইদা (রা.) বাহককে টাকা না দিয়ে সিদ্ধান্ত চেয়ে চিঠি লিখলেন, ‘আমীরুল মুমিনীন! অগ্রিম বেতন বরাদ্দের জন্য দুটি বিষয়ে আপনাকে ফয়সা.লা দিতে হবে। প্রথমতঃ আগামী মাস পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন কি না? দ্বিতীয়ত,বেঁচে থাকলেও আপনার খিলাফতের দায়িত্বে বহাল থাকবে কিনা? হযরত আবু উবাইদার চিঠি পাঠ করে হযরত ওমর (রা.) অঝোরে কাঁদলেন। চোখের পানিতে খলিফার দাঁড়ি ভিজে গেলো। হাত তুলে হযরত আবু উবাইদার জন্য দোয়া করলেন, ‘আল্লাহ আবু উবাইদার উপর রহম কর, তাঁকে হায়াত দাও’। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক জাতির একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি আছেন, আমার উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি হচ্ছেন আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ"। তাঁর মুখে এ ঘটনা শুনতে শুনতে অামার দু'চোখে অশ্রুধারা কখন যে গড়িয়ে পরেছে, বুঝতেই পারিনি। আসুন আমরা খলিফা হযর‍ত উমার (রা.), হযরত উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.) এর মতো সাহাবাদের জীবন থেকে শিক্ষা নেই, তাদের অনুসরণ করি।আমল করি এবং নিজেদের জীবন গড়ি। যেমনটি আমল করছেন;দানবীর আলহাজ্ব শেখ আব্দুস ছালাম । আল্লাহ তাঁকে উত্তম রিজিক ও নেক হায়াত দান করুন। আমিন।

সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চৌহালি ২১-০৫-২০২০ ০৮:১৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 2289 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com