করোনায় ‘আশা’ জাগিয়েছে উদ্যমী তারুণ্যের তামাই ক্লাব লিমিটেড
জহুরুল ইসলাম:
লকডাউনেও মানবিক কারণেই ওরা ঘরে বসে নেই। জেগে উঠেছেন দ্বিগুণ শক্তিতে। মাস দু’য়েক যাবত একেবারেই বেকার, ঘরের সঞ্চয়ও ফুরিয়েছে সেই তাঁত পল্লীর শ্রমিকদের জন্যই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
নিজেদের পকেটের পয়সার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের সহায়তায় গড়ে উঠা ফান্ডেই ধাপে ধাপে আহারের জোগান দিচ্ছেন অসহায় শ্রমিকদের। আর এসবই করে যাচ্ছে একদল শিক্ষিত, পরিশ্রমী ও উদ্যমী তরুণ। তাদেরই সম্মিলিত প্রয়াসে ভালোবাসার অনন্য এক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে ‘তামাই ক্লাব লিমিটেড।’
করোনা সঙ্কটে ‘মানুষ মানুষের জন্য’ মূলমন্ত্র ধারণ করে গড়ে উঠা দুর্বার তারুণ্যের এ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিরাজগঞ্জেই বেড়ে উঠা মেধাবী তরুণ সমাজসেবক রিসাদ মোর্শেদ।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জননন্দিত মেয়র আতিকুল ইসলামের এপিএস এ তরুণ জেলার বেলকুচি ও শাহাজাদপুরসহ বিভিন্ন তাঁত পল্লীর কারিগরদের কাছে মানবতাকে উর্ধ্বে তুলে নিজেদের সমর্পণ করেছে সম্পূর্ণ নতুনভাবে।
তাঁর সঙ্গে যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় ইলিয়াস হোসেন ওয়াসিম, আরাফাত মুসুল্লী, মাহমুদুল হাসান শরীফ ও এনামুল কবির রিফাত।
তামাই ক্লাব লিমিটেড সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনা মহাপ্রলয়ের আগেও সিরাজগঞ্জের তাঁতপল্লীর শ্রমিকদের হাতের বুননে নিত্যদিন তৈরি হতো শত শত লুঙ্গী। লুঙ্গী বুননের সঙ্গে তাদের পরিবারের আহার জড়িত ছিল। সেই শ্রমিকরা করোনা সংকটে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কাজ নেই, হাতে টাকা নেই।
এমন কয়েক হাজার শ্রমিকের পাশে দাঁড়াতেই স্থানীয় ঐক্যবদ্ধ তারুণ্যের দুর্বীনিত প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে ‘তামাই ক্লাব লিমিটেড।’ ক্লাবের তরুণ-যুবারা নিজেদের উপার্জিত অর্থ দিয়ে শুরু করেছেন মানবতার পথে লড়াই।
এক সময় তাদের কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার বিত্তবানদের অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়ান। রাতের অন্ধকারে ওই যুবকরা অসহায় কর্মহীন শ্রমিকের বাসায় খাদ্যসামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন।
আসন্ন ঈদ উপলক্ষে সোমবার (১৮ মে) বিকালে প্রায় ১২০০ পরিবারে কাছে তারা বাড়ী-বাড়ী পৌছে দিচ্ছেন ঈদ উপহার। এর আগে প্রথম ধাপে ৬০০ পরিবার ও দ্বিতীয় ধাপে ৭৫০ পরিবারে খাদ্যসামগ্রী বিতরন করে তামাই ক্লাব লিমিটেড।
তামাই ক্লাবের আহবায়ক রিসাদ মোর্শেদ বলেন, ‘তাঁতপল্লীতে অনেক শ্রমিক আছে যাদের কাজ থাকলে সংসার চলে, কাজ নাই তো সংসারের চুলো জ্বলে না। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আমরা কয়েকজন মিলে যতটুক পারছি সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
আমাদের সদস্য বাদেও অনেক বিত্তবানরা আমাদের মাধ্যমে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। ঈদে যেন পরিবারগুলো খাদ্যাভাবে না থাকেন সে চিন্তা থেকেই এটি করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, তামাই ক্লাবের আহবায়ক রিসাদ মোর্শেদ নিজের ব্যক্তি উদ্যোগেও স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। বেলকুচি থানার ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন ১,২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কর্মীদের মাঝে ৩০০ প্যাকেট খাবার ও নগদ টাকা তুলে দিয়েছেন।
সূত্র মতে, রিসাদ বা তামাই ক্লাবের প্রতিটি মানবিক কার্যক্রমে সর্বোত্ত সহযোগিতা করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) টানা দুইবার নির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম। তাঁর ‘সবাই মিলে সবার ঢাকা’র প্ল্যাটফর্মও নানাভাবে তাদের উৎসাহিত করেছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানায়, তামাই ক্লাব লিমিটেড তাদের এই মানবিক কার্যক্রমকে কোন দান হিসেবে দেখতে প্রবল আপত্তি তুলেছে। তাদের কাছে এটি কেবলই ভ্রাতৃত্বের সহমর্মিতার পরশে ভালোবাসার উপহার।
কেননা যেসব পরিবারকে উপহার সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে তাদের কোন একটি পরিবারই প্রকৃত অর্থে ত্রাণ কিংবা কারও কাছে হাত পাতার মত অস্বচ্ছল নয়। সময়ের কারনে আজ তারা অভাবী।