স্বেচ্ছায় তাড়াশ থেকে নারায়নগঞ্জ গিয়ে করোনা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন ডা. মশিউর
১০ মে, ২০২৬ ০৮:৪৯ অপরাহ্ন

  

   শিরোনামঃ

স্বেচ্ছায় তাড়াশ থেকে নারায়নগঞ্জ গিয়ে করোনা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন ডা. মশিউর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ
০৮-০৫-২০২০ ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
স্বেচ্ছায় তাড়াশ থেকে নারায়নগঞ্জ গিয়ে করোনা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন ডা. মশিউর

আশরাফুল ইসলাম রনি:

‘দেশের ক্রান্তিলগ্নে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনা রোগীদের সেবাদানের জন্য আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা নিবেদিত হাসপাতাল সমূহে সরকারি ডাক্তারদের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় আমি ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনা টিমে বদলি হয়ে করোনা রোগীদের সেবা করতে ইচ্ছুক।’

এটি একজন চিকিৎসকের আবেদন। তিনি সহকারি সার্জন ডা. মশিউর রহমান। তাঁর এই আবেদনটি পুরো স্বাস্থ্য বিভাগেই নাড়া দেয়। আবেদন গৃহীত হয়। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ওই চিকিৎসক এখন নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

মশিউর রহমান ৩০ এপ্রিল থেকে হাসপাতালটিতে সংযুক্তি হিসেবে কর্মরত আছেন। কখনো করোনা সন্দেহে আসা রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আবার কখনো আইসোলশনে থাকা অন্তত ৭০ রোগীর দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

ডা. মশিউর রহমান বলেন,   ‘মরতে তো হবেই। মরবো যখন ভালো পথেই মরি। মানুষের সেবা করেই মরি। আমার নানা সুবেদার হাবিবুর রহমান (বীর উত্তম) দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে ৪৬ বছর পঙ্গুতের সঙ্গে লড়েছেন। নানার কাছ থেকে অনেক শিক্ষা পেয়েছি। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে পারি নি সংগত কারণেই। তাই ভেবেছি দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে করোনার সঙ্গে যুদ্ধটা চালিয়ে যাই।’ বদলি হওয়ার আবেদনেও উল্লেখ আছে নানার বীরত্বের কথা।

ডা. মশিউর রহমানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দিতে। সাবেক সরকারি চাকুরে (বিজিবি’র ক্লার্ক) মো. বজলুর রহমান ও গৃহিনী শিরিনা আক্তার এর বড় ছেলে তিনি। সংসারে বাবা, মা ছাড়াও দুই ভাই ও এক বোন আছেন। মশিউর রহমান ৩৯তম বিসিএস ক্যাডার। এক ভাই আইন পেশায় জড়িত, আরেক ভাই পড়াশুনা করছেন। একমাত্র বোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মশিউর রহমানের নানার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের মৈন্দ গ্রামে। তাঁর নানা হাবিবুর রহমান (বীর উত্তম) মুক্তিযুদ্ধের একজন বীরসেনানী। ঢাকার নিউ মার্কেটে হাবিবুর রহমানের নামে একটি গেইট রয়েছে।


২৭ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বেলাল হোসেন এক প্রজ্ঞাপনে মশিউর রহমানকে নারায়ণগঞ্জে সংযুক্ত করেন। তবে তিনি মূল কর্মস্থল থেকে বেতন উত্তোলন করবেন বলে ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

ডা. মশিউর রহমান জানান, প্রজ্ঞাপনটি হাতে পাওয়ার পরপরই তিনি দ্রুতই নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ‘না দাবি’ ও ‘ছাড়পত্র’ সংগ্রহে দেরি হওয়া এবং যাতায়াত সংক্রান্ত কারণে যেতে দেরি হয়ে যান। তিনি ৩০ এপ্রিল নারায়নগঞ্জ এসে যোগদান করেন।

মশিউর রহমান আরো বলেন, ‘আমি যেখানে কর্মরত ছিলাম সেখানে একজনের করোনা পজেটিভ নেই। স্বউদ্যোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম সেটা কাজে লাগাতে পারছিলাম না। চিন্তা করি যেখানে বেশি করোনা রোগী আছে সেখানে গিয়ে সেবা দিবো। সেই চিন্তা থেকেই ঢাকার এক বন্ধুর মাধ্যমে আবেদনটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেই। করোনা রোগীদের জন্য কাজ করতে দেয়ার সুযোগের চিঠি আসার পর আমার খুবই ভালো লেগেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাচ্ছি যে সারাদেশের চিকিৎসক সংকট। অনেকে ঠিকমতো সেবা পাচ্ছে না শুনে খারাপ লাগে। নতুন করে চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হলেও তাঁদের যোগদানে কিছু সময় লাগবে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে খুব দ্রুতই আবেদন করি।’
নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের পুরোটাই এখন করোনা রোগীর সেবার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ৭০ জনের মতো আইসোলেশেন আছে এ হাসপাতালে। এছাড়া করোনা সন্দেহভাজন রোগীদেরকেও এখানে সেবা দেয়া হয়। ৫১ জন চিকিৎসক পর্যায়ক্রমে এখানে সেবা দেন।

 


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ০৮-০৫-২০২০ ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 318 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com