শিরোনামঃ
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ২৬-০৪-২০২০ ০৪:২৫ অপরাহ্ন |
রায়হান আলীঃ ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার চড়িয়া গ্রামে পাক বাহিনী প্রায় দেড় শতাধিক নিরীহ বাঙালি কে গুলি করে হত্যা করে। সেদিন রবিবার বেলা ১১ টার দিকে পাক বাহিনী বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় দেড় শতাধিক নিরীহ বাঙালি ধরে নিয়ে মহাসড়ক থেকে চড়িয়া কালিবাড়ি আঞ্চলিক সড়কের ভিতরে তাদের অস্ত্রসজ্জিত গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করে। এসময় এই এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক মানুষ কে সারিবদ্ধভাবে গুলি করে নির্মম ভাবে হত্যা করে।
সেই লাশের সারি থেকে ভাগ্যক্রমে চড়িয়া কালিবাড়ি এলাকার মোঃ আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তি বেঁচে যায়। তার কাছে জানা গেলো সেদিন পাক বাহিনীর নির্মমতা। তবে আবুল কালাম আজাদ বেঁচে গেলেও ভালো নেই তিনি। তার পায়ে এবং হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল)সকালে প্রতিবেদককে সেদিনের কথা বর্ণনা করতে তার চোখ ভিজে গেলো। আবুল কালাম তার ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে পীড়ায় আছে। প্রতিনিয়ত পাকিস্তানি নরপশুর বুলেটের আঘাত এখনো কাঁদিয়েছে যাচ্ছে তাকে। বুলেটের আঘাতে এক পা অকেজো হয়ে গেছে।কোন কাজকর্ম করতে পারছে না তিনি। তাই কোনভাবে খেয়ে না খেয়ে দিনপাত চলছে। তার এই সংগ্রামী জীবনে কেউ পাশে দাড়াঁননি সাহায্য নিয়ে। আবুল কালাম জানান সেদিন একসাথে চড়িয়া কালিবাড়ি দেড় শতাধিক মানুষের গণকবর দেওয়া হয়। গুলিবিদ্ধ লাশ করব দেওয়ার মতো কেউ ছিলো না, পরনের লুঙ্গি দিয়ে কাফন বানিয়ে কবর দেওয়া হয়েছিল। তবে এই গণহত্যার ৪৯ বছর অতিক্রম হলেও সরকারিভাবে কোন স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তবে আবুল কালামের দাবি ৭১ সালে চড়িয়া কালিবাড়ি যাদের কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে তারা সরকারি ভাতা নয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চায়। তার এই দাবি ৪৯ বছর যাবৎ করেই আসছে কবে নাগাদ এই দাবি কার্যকর হবে তার জানা নেই। এ বিষয়ে হাটিকুমরুল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হেদায়েতুল আলম জানান গণহত্যায় একজন বেঁচে আছে এটা আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখব। সরকারি ত্রাণ পেয়েছে কিনা এর উত্তরে তিনি বলেন যদি ত্রাণ না পেয়ে থাকে তাকে ত্রাণ দেওয়া হবে। ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com