শিরোনামঃ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ২৪-০৪-২০২০ ০১:১২ অপরাহ্ন |
আশরাফুল ইসলাম রনি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর এলাকার ভাদাস মহল্লার কৃষক আব্দুল জলিল এবার ২৫ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। এর মধ্যে ১০ বিঘায় ব্রি-৩৬ ও ১৫ বিঘায় কাটারিভোগ জাতের ধান চাষ করেছেন। তাঁর পাঁচ বিঘা জমির ব্রি-৩৬ জাতের ধান শীষ মরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
এদিকে লক্ষণ দেখে তিনি নেক বøাস্ট (গলা পচা) রোগ মনে করে পাঁচ ধরনের বালাইনাশক ছিটিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। ধানের সব শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে। ছড়ার নিচে কালো হয়ে শীষ মরে যাচ্ছে। ওই জমি থেকে তাঁর ২৫ শতাংশ ধানও ঘরে তোলা সম্ভব হবে না।
শুধু জলিলই নন, এ সমস্যা পাশের আড়ঙ্গাইল, আসানবাড়ী, কোহিত তেঁতুলিয়া, বিনসাড়া মাঠের শতাধিক কৃষকের। এর পরও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ নেননি বলে অভিযোগ তাঁদের।
কিন্তু কৃষি বিভাগ বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, ওই জমিগুলোতে গলা পচা রোগের তেমন কোনো সংক্রমণ দেখা যায়নি। কৃষক সম্পূর্ণ অনুমানের ওপর ছত্রাকনাশক ছিটিয়েছেন। ফলে তাঁরা কোনো সুফল পাননি। মূলত রাতে গরম ঝোড়ো হাওয়া এবং দুপুরের আগে বৃষ্টিপাতের কারণে পরাগায়ণের ব্যাঘাত ঘটায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাতে খুব বেশি ক্ষতি হওয়ার কথা নয়।
কিন্তু কৃষক ও কৃষি বিভাগের এ সমন্বয়হীনতার কারণে ইতিমধ্যে শতাধিক বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলায় ধান চাষের মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টর। এর মধ্যে চাষ হয়েছে ২২ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে এই অঞ্চলের কৃষকরা আবাদ করেছেন উচ্চ ফলনশীল ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, ব্রি-৩৬, মিনিকেট, ভারতীয় জাত গুটি স্বর্ণা, কাটারিভোগ ও স্থানীয়জাত নাটোর, রণজিৎসহ বিভিন্ন প্রকার ধান। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা আছে। কৃষকরা জানান, আগাম ও নাবি জাত মিলিয়ে এ অঞ্চলে ধান কাটতে প্রায় দুই মাস লেগে যাবে। এ সময় এই ধরনের সংক্রমণ তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে।
ভাদাসের কৃষক মানসুর রহমান ও আসানবাড়ীর কৃষক মো. শাহ আলম বলেন, ‘করোনাভাইরাস আতঙ্কে এমনিতে আমরা উপার্জনহীন। তার ওপর ধানক্ষেতে দেখা দিয়েছে গলা পচা, শীষ মরা রোগ। এ রোগ যদি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে পথে বসতে হবে।’ এ ছাড়া ভাদাসের আরেক কৃষক মো. আব্দুল মজিদ অভিযোগ করেন, কৃষি অফিসের লোকজনকে খুব একটা পাওয়া যায় না।
তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিনের দাবি, কৃষকরা তাঁদের পরামর্শ মেনে চলেন না। তাঁরা তাঁদের মতো করে কাজ করার চেষ্টা করেন। ফলে নানা বিপত্তি দেখা দেয়। যেমন—ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হলে প্রতি বিঘায় তিন ঢোপ (১৬ লিটার) স্প্রে করতে হবে। প্রথম ডোজ দেওয়ার ১০ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে এ নিয়ম কৃষক মানতে চান না। এ ছাড়া ধান রোপণ পদ্ধতি, সার-বালাইনাশকের পরিমাণও তাঁরা নিজস্ব রীতিতে করে থাকেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার নূনা বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমরা মাঠ পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিয়েছি।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com