খাইরুল ইসলামঃ সারা বিশ্বে বহুল আতঙ্কিত করোনাভাইরাস এর প্রভাবে জনজীবন প্রায় থমকে গিয়েছে । তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে বোরো ধান কর্তন নিয়ে শ্রমিক সংকট এর কথা । কিন্তু এর ব্যতিক্রম দেখছে কামারখন্দ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর । বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিভিন্ন কর্মহীন গার্মেন্টস শ্রমিক, টেক্সটাইল শ্রমিক, তাঁত শ্রমিক এবং বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত শ্রমিকরা এই সংকটের বড় সমাধান হতে পারে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ।
হায়দারপুর গ্রামের শুকুর সরকার জানান, বর্তমানে যে পরিমাণ লোক বেকার হয়ে বসে আছে তাতে শ্রমিক সংকট তো হবেই না বরং শ্রমিকের মূল্য ও অনেক কমে যাবে ।
চরটেংরাইল গ্রামের জাহাঙ্গীর জানান, এ বছর প্রায় ২-৩ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি, প্রতি বছর এই ধান কর্তনের শ্রমিকের মজুরি যোগান দিত আমার চার ভাই । কিন্তু এবছর তারা কর্মহীন হয়ে পরায় আর শ্রমিক নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না তারাই সব ধান কাটতে পারবে ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, আগামী পহেলা মে থেকে ধান কাটা শুরু হবে, সরকার ৫০% ভর্তুকি দিয়ে ধান কাটার মেশিন সরবরাহ করছে । ইতিমধ্যে উপজেলায় চারটি কম্বাইন হারভেস্টার রয়েছে এবং চলতি মাসে আরো একটি কম্বাইন হারভেস্টার সরবরাহ করা হবে । এতে করে কৃষকের ধান কাটা আরো সহজ হবে । কোন শ্রমিক অন্য জেলায় কাজ করতে চায়লে উপজেলা কৃষি অফিস তাকে প্রত্যয়নপত্র দেবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, সারাদেশের মতো এ উপজেলায়ও বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটার মাধ্যমে করোনা সংকটের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট কাটবে বলে আমি মনে করি ।