আসুন তাহাদের একটু সমালোচনা করি!
১১ মে, ২০২৬ ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন

  

   শিরোনামঃ

আসুন তাহাদের একটু সমালোচনা করি!

অনলাইন নিউজ এডিটর
১১-০৪-২০২০ ০৫:৫৩ অপরাহ্ন
আসুন তাহাদের একটু সমালোচনা করি!

অসুস্থতাবোধ করলেই দিন-রাত নেই যেকোন সময় ফোন দিয়ে বলি ভাইয়া আমার এই সমস্যা হচ্ছে সাথে সাথে বলে হসপিটালে চলে আসো। হসপিটালে গেলে অনেক কাজ থাকার সর্তেও আমাকে সময় দেয়। পোপার ট্রিটমেন্ট নিয়ে বাসায় ফিরি। এইতো কিছু দন আগে আমার একটা অপারেশন হল আমার পরিবারে কেউ উপস্থিত ছিল না সেসময় তিনি নিজে সাথে থেকে আমার জন্য সব কিছু করলেন যা ভুলবার নয়। অনেকটা ক্ষোভ নিয়েই কথা বললেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে কর্তব্যরত সেই ডাঃ তারিকুল ইসলাম ভাইয়া। আমাদের মেডিকেল সিস্টেমটার পরিবর্তন দরকার। তা না হলে দিন দিন সমস্যা বাড়তে থাকবে। যারা তেলবাজ তারাই সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আর সাধারণ ডাক্তারগুলোকে খেটে মরতে হয়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে দেশের বাইরে থাকা আমার ডাক্তার বন্ধুরা যেসব সুবিধা পাচ্ছে আমরা তার বিন্দুমাত্রও পাচ্ছি না। রোগীরা তথ্য গোপন করে আসে যার কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোনাকোন ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমান অবস্তায় দেশের অনেক জায়াগায় সমস্যা হচ্ছে এটাও অস্বীকার করতে পারি না। আসল সমস্যা কিছু অতিউৎসাহী ডাক্তার, হসপিটাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের। সব সেক্টেরেই ভাল-মন্দ মানুষ থাকে কিন্তু কিছু ডাক্তারের জন্য গণহারে সকল ডাক্তারদের দোষারপ কর ঠিক নয়। এ পরিস্তিতিতে আমরা ডাক্তারা যার যার অবস্থান থেকে যতটুকু পারছি চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিছু বিচ্ছিন্ন কারণে সমালোচিত হচ্ছি কিন্তু কাজ থামিয়ে রাখিনি। সকলের কাছে অনুরোধ থাকবে সমালোচনা না করে বরং আমাদের ভাল দিকগুলো সবার সামনে তুলে ধরুন, উৎসাহ দিন এতে করে কাজের প্রতি আমাদের আগ্রহ বাড়বে।

 

কিছু দিন আগের কথা ঢাকা থেকে ফোন দিয়ে বললাম হঠাৎ করে বাবা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমাকে বলল চিন্তা করিস না; তুই বাবাকে দ্রুত আমাদের হসপিটালে পঠানোর ব্যবস্থা কর আমরা দেখতেছি। নিজের বাবার মত মনে করে যত রকম সাপোর্ট দেয়া লাগে সেটা দিয়েছে। আমি ঢাকা থেকে এসে দেখলাম সব ট্রিটমেন্ট কম্পিলিট। বলছিলাম কলেজের বন্ধু ডাঃ নজরুল ইসলাম খানের কথা । সদ্য ইন্টার্ণ শেষ করে একটা প্রাইভেট হসপিটালে মেডিকেল অফসার হিসেবে জয়েন করেছে। দুঃখের বিষয় হল কোন প্রকার পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুয়েপমেন্ট (পিপিই) ছাড়ায় তাকে নিয়মিত রোগী দেখতে হচ্ছে। হসপিটাল কর্তৃপক্ষ এখানে এক প্রকার অন্ধত্বের পরিচয় দিচ্ছেন। আমাদের সাধারণ মানুষের মত তারও পরিবার আছে; বাঁচারও অধিকার আছে। চাইলেই অন্য ফ্রেন্ডের মত বাসায় বসে থাকতো পারতো কিন্ত সেটা না করে এই দূর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

 

নজরুলের মত অবস্থা যশোর মেডিকেল কলেজের আরেক বন্ধু ডাঃ রায়হান কবির রনির। দুঃখ করেই বলল এখনো পর্যন্ত পিপিই পাইনি কিন্তু নিয়মিত ডিউটি করতে হচ্ছে। দেশের এই ক্রান্তিকালে সারাধণ মানুষের কথা ভেবে ঘরে বসে থাকতে পারি না। মা-বাবা, পরিবারের কথা খুব মনে পড়ে কিন্তু কি করবো বল মানুষগুলোও তো এখন অসহায় তাদের পাশে আমরা না দাড়ালে কে দাঁড়াবে!

 

ডাঃ শামসুল আলম স্বপন ভাইয়া নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের এসোসিয়েট প্রফেসর অব কার্ডিওলজি। আমার জানা মতে তিনি প্রতিদিন তার এলাকার শতকরা ২৫% রোগী বিনামূল্যে দেখেন। ব্যক্তি মানুষ হিসাবে অনেক ভাল তিনি। দুদিন আগে দেখলাম তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পিপিই সংগ্রহ করে ডাক্তারদের ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। নিজেও ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত রোগী দেখছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগ ও বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে নিজের এলাকার কর্মহীন মানুষদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন।

 

ডাঃ সামিউল ইসলাম রনি ভাইয়া উল্লাপাড়া ২০ শয্যা হাসপাতালে কর্মরত আছেন। অসাধারণ একজন মানুষ। খুব হেল্পফুল তিনি। পরিবারের কেউ অসুস্থ্য হলে উনাকে যাস্ট ফোন দিয়ে বলি উনি সাথে সাথে ব্যবস্থা নেন। করোনা পরিস্তিতিতে নিয়মিত রোগী দেখছেন ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন- ''সুরক্ষার কথা চিন্তা করে ছেলের কাছে যাইনা। ভিডিও কলে কথা বলতে গিয়ে বলে আমি রাগ করেছি বাবা। তুমি আমাকে আদর করে গেলেনা কেন।। তারপর কত কথা, তোমার চুল কই, দাড়ি কই? বাবা কলা কমলা মিষ্টি খাবো। কিনতেও যেতে পারছিনা। কাদের জন্য? আপনাদের জন্য আমাদের এই সেক্রিফাইজ। কোনো প্রনোদনা, কোন উপহার লাগবে না। শুধু মিথ্যা অপবাদ দিয়েননা।'' এটা যে কত বড় ত্যাগ সেটা বলে বুঝানো যাবে না।

 

ডাঃ আল-আমিন ভাইয়া উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন। পারিবারিক সূত্রে তিনি আমার পরিচিত। কিছুদিন আগে সন্তানের বাবা হয়েছেন। চাকুরীতে সদ্য জয়েন করে কিছু বঝে ওঠার আগে দেশে করোনা মোহামারি শুরু। নিজের পরিবার ভুলে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বিত হয়ে কাজ করছেন।

 

বন্ধু ডাঃ আব্দুল লতিফ জয় কিছু দিন আগে সংসার জীবনে পা রেখেছে। নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজে কর্মরত আছে। দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বাসায় বসে না থেকে নিয়মিত হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছে।

 

ডাক্তার বন্ধু ওবায়দুর রহমান লকডাউনের কারণে ঘরবন্ধী। কিন্তু সে বসে নেই। মেডিকেল সাপোর্ট দিতে না পারলেও মানবিক দিক টা দেখছেন। গ্রামের মানুষদের সচেতন করছেন, গ্রামের খেটে খাওয়া দিনমুজুর কর্মহীন মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। আমাকে প্রায় ফোন করে বলে অনেকের সমস্যা একটু দেখ না কিছু ব্যবস্থা করা যায় কি না।

 

আমার জানা মতে ডাঃ মনির খান ভাই, ডাঃ কামরুজ্জামান মিলন ভাই, ডাঃ স্বপন ভাই, ডাঃ সোহেল আহমেদ শোয়েব ভাই, ডাঃ ফয়সাল আহমেদ ভাই, ডাঃ তারিকুল তুষার ভাই সহ আমার সকল ডাক্তার ফ্রেন্ডরা কেউ বাসায় বসে নেই; জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। মুঠোফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন সিরাজগঞ্জ মেডিকেল স্টিডেন্ট এসোসিয়েশনের ডাক্তাররা। এছাড়া যারা বাসায় বসে আছেন তারা ভার্চুয়ালি ট্রিট্রমেন্ট দেয়ার চেষ্টা করছেন।

 

এরকম শত শত ডাক্তার ও স্বাস্থকর্মীরা স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলতে গেলে শেষ হবে না। কিছু ডাক্তারের জন্য ঢালাও ভাবে সবাইকে দোষারপ করা ঠিক হবে না। কিছু হলে সমালোচনা করতে আমি আপনি কেউ বাদ রাখি না। কিন্ত ভাল করে ভেবে দেখুন এই পরিস্থিতিতে খোদার পরে কিন্তু একমাত্র ভরসারস্থল ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের কাজের গুণ গাইতে না পারলেও সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকি। তাদের কাজে উৎসাহ দেই এতে উপকারভোগী আমারাই হবো!!

 

লিখেছেন-

ইমাম হাসান তানিম

স্টাফ করেসস্পন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জকণ্ঠ ডটকম।


অনলাইন নিউজ এডিটর ১১-০৪-২০২০ ০৫:৫৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 597 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com