বেলকুচিতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে থানায় মামলা
জহুরুল ইসলাম:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে দুই পক্ষের পাল্টা-পাল্টি হামলায় বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় এক পক্ষের মুসা শেখ বাদি হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে বেলকুচি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার এতথ্য নিশ্চিত করেছেন বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বেলকুচি উপজেলার দেলুয়া মধ্যপাড়া গ্রামে স্কুলের ইট বেচাকেনা নিয়ে মৃত সোরহার হোসেনের পুত্র মোঃ মুসা আলমের বাড়ীতে অতকির্ত হামলা চালায় একই গ্রামের মৃত মোকছেদ আলী পুত্র সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল সালাম গংরা। এরই জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাটা ধাওয়া ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী মুসা আলম সাংবাদিকদের বলেন, পূর্ব শুত্রুতার জের ধরে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল সালামের সাথে আমাদের সম্প্রতি সংঘর্ষ বাধে। এরই জের ধরে গত রবিবার সন্ধ্যায় আমার বাড়ীসহ আরও ২টি বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাট করে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল সালাম, রেজাউল করিম রেজু, আবু সাইদ, জহির, বুদ্দু, হোসেন, ছানোয়ার, সাইফুল, মফিজুল, এরশাদ, আব্দুল মান্নানসহ আরও অনেকে। এসময় আমার বাড়ীর আলমারীতে থাকা নগদ ১০ লক্ষ টাকা, ৬ ভরি সোনার গহনাসহ আরও ২টি বাড়ীতে লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন হয়। পরে বেলকুচি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি।
হোসেন আলীর স্ত্রী বিউটি খাতুন জানান, আমার স্বামী মাগরেবের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাচ্ছিলেন এমন সময় পূর্বথেকে ঔঁত পেতে থাকা মুসা আলমসহ ১০-১২ জন এসে আমার স্বামীকে গাছের ডাল দিয়ে অতর্কিতভাবে এলোপাথারী মারতে থাকে। এসময় আমার স্বজনেরা এগিয়ে এলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল সালাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। পড়ে জানতে পারলাম আমার ছোট ভাই হোসেন আলীকে মারপিটের ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। এরই জের ধরে কে বা কারা রাতে বাড়ী ঘর ভাঙচুর করে আমার জানা নেই।
বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দেলুয়া গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষের মারামারীর ঘটনায় এক পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।