শিবগঞ্জে অসহায় কৃষকের খড়ের পালা ভস্মীভূত
শিবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল পূর্ব পাড়ার অসহায় কৃষক আবুল হোসেনের ২বিঘা জমির খড়ের পালা ভস্মীভূত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। জানা যায়, একই গ্রামের সেকেন্দার ও তার পরিবার কর্তৃক কৃষক আবুল হোসেনের সাথে দীর্ঘদিন হতে জমাজমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটেছে। অসহায় কৃষক আবুল হোসেন ও তার স্ত্রী নাছিমা বেগম রহবল মৌজার ১৩৬০ নং দাগে ১৩ শতাংশ জমি ৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ব্যায়ে রহবল চন্দ্রাহাট্টা গ্রামের আব্দুল গফুর ও গফুরের ছেলে বোরহান উদ্দীনের কাছ থেকে সম্পাদন করে নেয়। সম্পাদন করে নেওয়ার পর হতে আব্দুল গফুর ও গফুরের ছেলে বোরহান উদ্দীন উক্ত জমিটি রেজিষ্ট্রেশন করে দেওয়ার নামে নানা ভাবে তালবাহানা করতে থাকে। এরই ফাঁকে আব্দুল গফুর রহবল পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের স্ত্রী হেলেনা বাড়ির লোকজনের সাথে সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে কৌশলে ঐ ১৩ শতাংশ জমি হেলেনার নামে লিখে দেয়। কোন উপায় না পেয়ে কৃষক আবুল হোসেন জেলা বগুড়ার বিজ্ঞ ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি মোকদ্দমা দায়ের করে। যাহার নং ৪৫/২০১৯। উভয় পক্ষের জবাবের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে আদালত উক্ত জমিতে স্থিতি অবস্থা জারী করে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে গ্রাম্য শালিশ ডাকলে শালিশে কৃষক আবুলের নৈতিক দাবীর পক্ষেই গ্রাম্য বিচারকেরা মতামত প্রদান করেন। গ্রাম্য বিচারও আব্দুল গফুর না মেনে এলাকার কিছু চতুর, চালাক ও অসাদু ব্যক্তির বুদ্ধিতে কৃষক আবুল হোসেনকে হয়রানি করতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে দেউলি ইউনিয়ন পরিষদে একটি শালিশ বসে এবং উক্ত শালিসে আবুল হোসেনকে আরও ৬৫ হাজার টাকা আব্দুল গফুরকে প্রদান করবে এবং জমিটির আব্দুল গফুর সঠিক হকদার আবুল হোসেনকে ৭ দিনের মধ্যে লিখে দিবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু আব্দুল গফুর উক্ত সিদ্ধান্তকে ক্ষমতার দাপটে ধুলায় উড়ে দেয়। মূলত উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে অসহায় কৃষক আবুল হোসেনকে নতুন করে হয়রানী করার জন্যই খড়ের পালায় আগুন লাগানো হয়েছে, এতে আমার প্রায় ১৫হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আবুল হোসেন জানায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী বলেন, সহজ বিষয়টিকে উদ্দেশ্যেমূলক ভাবে জটিল করা হচ্ছে, জমাজমি সংক্রান্ত জেরেই পালা পোড়ানোর ঘটনা ঘটতে পারে। একই সংঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা। এবিষয়ে দেউলী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই প্রধান বলেন, খড়ের পালায় আগুণ লাগার বিষয়টি আমি শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে সেকেন্দার ও আব্দুল গফুরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ফোনে পাওয়া যায়নি। খড়ের পালা পোড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। এবিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষের গ্রহণ করা হবে।