করোনা পরিস্থিতিতে ওদের উদ্যেগ অনুপ্রেরণা জাগাক বিত্তবানদের - দিলীপ গৌর
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০২:২৫ অপরাহ্ন

  

করোনা পরিস্থিতিতে ওদের উদ্যেগ অনুপ্রেরণা জাগাক বিত্তবানদের - দিলীপ গৌর

স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ
২৮-০৩-২০২০ ০৯:১৮ অপরাহ্ন
করোনা পরিস্থিতিতে ওদের উদ্যেগ অনুপ্রেরণা জাগাক বিত্তবানদের - দিলীপ গৌর

সারা বিশ্বাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মরনঘাতী সংক্রামক ব্যাধি কোভিড ১৯ করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশেও ধরা পড়েছে এই রোগ। চিনে সৃষ্টি এই মরণ ব্যাধিটি এখন সারাবিশ্বের মানুষকে আতংকিত করে তুলেছে। আমাদের দেশে এই রোগ মোকাবেলায় যে সকল সরঞ্জাম ল্যাব এবং কিট প্রয়োজন তা রয়েছে অপ্রতুল। ঘনবসতির এই দেশে করোনা ভাইরাসের আক্রমনে প্রাণঘাতির সংখ্যা অনেক হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার নানান পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এই ধরনের মহামারি মোকাবেলায় রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনসাধারন কে সচেতন হতে হবে। সরকার নানান পদক্ষেপের মধ্যে বড় একটি পদক্ষেপ বিনা প্রয়োজনে ঘড়বাড়ি থেকে বের না হওয়া । বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য আর ঔষধের দোকান ব্যাতিত সকল দোকান পাট বন্ধ রাখা। গণ পরিবহন বন্ধ রাখা,সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখতে মাঠ পর্যায়ে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা। তবে আমাদের দেশে উৎসুক জনতার কারনে বিধিনিষেধ আইন করে মানাতে হচ্ছে । বিদেশ ফেরতদের জোর করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। সাধারন মানুষকে সচেতন করার পরেও তারা মানছে না। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের ভুমিকা খুবই প্রশংসনীয়। জনসচেতনতা সৃষ্টিতে জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন,রাজনৈতিক দল,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো গুরুত্বসহকারে দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে সাধারন মানুষকে নিজ ঘড়ে থাকতে এবং ভয়াবহ করনা ভাইরাস মোকাবেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত করেছে। দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের ভুমিকা নিয়ে রয়েছে  নানান প্রশ্ন রয়েছে মাঠে। তবে এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে জেলার যুব সমাজ আর ছাত্ররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে একে বারে মাঠ পর্যায়ে প্রচারনায় অগ্রনী ভুমিকা রাখছে তারা। প্রচার পত্র বিতরনের সাথে সাথে মাস্ক,হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান তুলে দেয়া হয়েছে সাধারন মানুষদের হাতে। বিন্নি সংগঠনের পক্ষ থেকে সড়কের গুরুত্বপুর্ন স্থানে করা হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। দেশের এই দুর্যোগের মুহুর্তে যাদের সবচাইতে এগিয়ে আসার কথা তারা এক প্রকার অধরাই। তবে সাধ আছে সাধ্য নাই এমন মানুষই এই সময় এগিয়ে এসেছে। সম্প্রতি সময়ে দুইটি উদ্যেগ আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে একটি এইচ এস সি ২০১৭ সালের ব্যাচের নিজ উদ্যেগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে  সাধারন মানুষের মধ্যে বিতরন আপরটা হলো বানিয়াপট্রির শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকায় দরিদ্রদের মধ্যে ত্রান বিতরন করা। যা দেখে সমাজের বৃত্তবানদের অনুপ্রানিত হবার কথা। ২০১৭ সালের ব্যাচে বিএল স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী আছে যাদের ইচ্ছাই মানুষের কল্যানে কাজ করা। ২০১৬ এই শিক্ষার্থীরা অসহায় পথ শিশুদের পাশে দাড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠা করে স্বপ্নায়ন পরিবার। এরা বিভিন্ন সময়ে পথ শিশুদের সহযোগীতা করেছে। নিজেদের বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে টাকা তুলে তারা নানান সময়ে তাদের সহযোগীতা করেছে। এদের নিয়ে করেছে পহেলা বৈশাখ দিয়েছে নতুন জামা কপড়। ঐ গ্রুপের মধ্যে ছিলো অয়ন,ডলফিন,দ্বীপ,আমিনুল,অমিত কৃষ্ণ আরো অনেকে। ঐ গ্রুপেরই অনেকে রয়েছে এইচ এস সি ২০১৭ ব্যাচে। হঠাৎ দেখী এই করোনার সময় তারা মানুষকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেবার জন্য নিজেরাই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানাচ্ছে । তাদের সাথে কথা হলো জানালো ৫শ বতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানিয়ে গ্রামের মধ্যে বিতরন করেছে আরো ১ হাজার বতল বানানের প্রস্তুতি চলছে । নিজেরাই চাঁদা দিয়ে এই কাজ করছে তারা। ওরা বললো কেও যদি সহযোগীতা করতো তাহলে আরো বেশী করে তৈরি করতে পারতো কিন্তু সহযোগীতা করার লোক নেই। প্রশ্ন ছিলো ওদের কাছে মাস্ক বাদ দিয়ে হ্যান্ডস্যানিটাইজর কেনো ওদের উত্তর ছিলো বাজারে প্রচুর মাস্ক বিক্রি হচ্ছে কিন্ত ব্যবসায়ী সিন্ডকেটের কারনে নেই হ্যান্ডওয়াস,হিক্সিসল,ডেটল আর সাবান। তাই আমাদের বন্ধুরা আছে যারা এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করতে পারে তাদের দিয়েই তৈরি করছি। গ্রামের সাইটে কেও যাচ্ছে না সবাই প্রচারনা আর লোক দেখানোর জন্য শহরের মধ্যেই করছে তাই আমরা প্রচারনা নয় সাধারন মানুষকে ,গ্রামের মানুষকে সচেতন করার জন্য গ্রামের দিকে বিতরন করছি। দুই দিন পরে আবার কথা হলো ওদের সাথে বললো আমরা আরো ১ হাজার বতল তৈরি করে বিতরন করেছি। এখন আর সামর্থ্য নেই তবে কেও যদি সহযোগীতা করে তাহলে আরো তৈরি করে দিবো। প্রচার বিমুখ এই ছেলেগুলোর মনকাঁদের সাধারন মানুষের বিপদে বিত্তবানরা যখন টাকা নিয়ে নিজের আখে গোছাচ্ছে তখন এই ছাত্রগুলো বাবা মায়ের নিকট থেকে চেয়ে নেয়া টাকা দিয়ে মানুষের কল্যানে কাজ করছে। ওরা বলছে সিরাজগঞ্জে সাধারন মানুষের পাশে দাড়াতে পেরে যে মনস্তাত্বিক শান্তি পাই আমরা সেটা অন্য কিছুতে পাওয়া যায়না। এবারের এই উদ্যেগে আছে জয়,বাসার,রিফাত,সানজিদ,হৃদয়,অয়ন,ডলফিন,আমিনুল,দ্বীপ আরো বন্ধু বান্ধব। শিক্ষার্থীদের এই উদ্যেগকে ব্যক্তিগত ভাবে স্বাগত জানাই। এর পরে আরেকটি সংবাদ দেখলাম সেটা হলো বানিয়াপট্রির কিছু শিক্ষার্থী কেও স্কুলে পড়ে কেও পড়ে কলেজে কিন্তু উদ্যেগটা মহৎ। করোনা আতংকে সরকারি বিধিনিষিদের কারনে বিনা প্রয়োজেন ঘড় থেকে বের হতে পারছে না মানুষ। আর এই কারনে ঘড় থেকে বের হতে পারছে দৈনিক আয়ের দরিদ্র মানুষ গুলো এই মানুষের পাশে দাড়িয়েছে তারা। এই গ্রুপে আছে রুম্পা,সম্পা,ঈশিকা,দ্বীপ .দীপীকা । তারা বলছে বন্ধুদের জন্মদিন,বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া বা ঘুড়তে যাওয়ার জন্য স্কুলের টিফিনের টাকা বাচিয়ে তারা আপাদকালীন প্রয়োজনের জন্য গচ্ছিত রাখে। করোনার সময় এই অসহায় মানুষদের জন্য তারা তাদের ঐ গচ্ছিত টাকা চাঁদা তুলে একশ পরিবারের মধ্যে চাউল,ডাউল,লবন আর সাবান বিতরন করেছে। তারা বলেছে আয়োজনটা ক্ষুদ্র তার পরেও চেষ্টা করিছি অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য । আমরা সমাজের বিত্তবানদের আহবান জানাবো দেশে এই ক্রান্তি লগ্নে অসহায় মানুষের পাশে সহযোগীতার হাত বাড়ানোর জন্য।  আমরা শুরু করলাম অন্যরা শেষ করবে এই কামনাই করছি আমরা। মুলত এই দুই উদ্যেগ আসলে যুব সমাজযে এখনো দেশের দুর্ণিনে এগিয়ে আসবে তার প্রমান করে দেয়। আমি দেখেছি গত কয়েক দিনে করোনা মোকাবেলায় সচেতনতা সৃষ্টিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট,উদীচী,আশিকের নেতৃত্বে গ্রীন সিরাজগঞ্জ ক্লিন সিরাজগঞ্জ, ইসাবেলা ফাউন্ডেশন,সুখ পাখিসহ যুবকদের দিয়ে গঠিত বিভিন্ন সংগঠন এগিয়ে এসেছে। ডাঃ মুরাদ তার কিছু বন্ধু নিয়ে শহরে দরিদ্র মানুষদের মাস্ক,সাবান এবং খদ্যদ্রব্য বিতরন করেছেন। কিন্ত এই সময়ে একদম নিশ্চুপ জেলার বিত্তবানরা ।মানুষের এই দুঃসময়ে তারা যেন হারিয়ে গেছে। আর জনপ্রতিনিধিদের ভুমিকা নিয়ে রয়েছে নানান কথা। আমি মনে করি যুবকদের এই উদ্যেগ বিত্তবানদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। জেলার মানুষের কল্যানে ত্রান সামগ্রী নিয়ে তারাও এগিয়ে আসাবে। ভুপেন হাজারীর সেই গানের মত মানুষ মানুষের জন্য। 

 


স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ ২৮-০৩-২০২০ ০৯:১৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 636 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com