একদিনের ব্যবধানে তাড়াশে পেঁয়াজের দ্বিগুণ,বেড়েছে চাল,থেমে নেই ঔষধের দাম
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৫৪ অপরাহ্ন

  

একদিনের ব্যবধানে তাড়াশে পেঁয়াজের দ্বিগুণ,বেড়েছে চাল,থেমে নেই ঔষধের দাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ
২০-০৩-২০২০ ০৭:১৫ অপরাহ্ন
একদিনের ব্যবধানে তাড়াশে পেঁয়াজের দ্বিগুণ,বেড়েছে চাল,থেমে নেই ঔষধের দাম

আশরাফুল ইসলাম রনি: 
করোনা আতঙ্কে সিরাজগঞ্জে তাড়াশে হু হু করে বেড়ে চলেছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। সেই সাথে থেমে নেই ঔষধের দাম। 
অপরদিকে একদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। এছাড়াও ডিমের দামও প্রতি হালিতে ৫ টাকা করে বেড়েছে। করোনার কারণে দেশব্যাপী কড়া সতর্কতায় সংকট দেখা দিতে পারে-এমন আশঙ্কায় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি নিত্যপণ্য কিনছেন ক্রেতারা। ফলে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকটের কারণে বেড়ে চলেছে চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। 
শুক্রবার সকালে তাড়াশ বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। যা ২৪ ঘণ্টা আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতে ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এদিকে তাড়াশ বাজারের মের্সাস পিউ মেডিকেল হল নামে ঔষধের দোকানে পিরিটন ট্যাবলেট দাম রাখছে ৪টাকা বদলে ১০ টাকা পাতা, হেক্সিসল ৫০ টাকার স্থলে দাম রাখছে ৮০টাকাসহ অনান্য ঔষধের দাম রাখছে বেশি বলে অভিযোগ করেন ঔষধ ক্রয়কারী শফিকুল ইসলাম। 
একাধিক খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা জানান, আড়তে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়ছে। এ কারণে আমাদের বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে বলে জানান তারা। ক্রেতারাও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পেঁয়াজ কিনছেন বলে জানান এসব ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে তাড়াশ পৌর এলাকার চালের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাটারিভোগ, নাজিরশাইল ও মিনিকেটসহ উন্নতমানের চাল প্রতি কেজিতে ৫ টাকা করে বেশি বিক্রি করা হচ্ছে। রনজিত, স্বর্ণা ৫ অন্যান্য চাল কেজিতে ৬ থেকে ৭ টাকা বেড়েছে। এতে ক্রেতারা বিপাকে পড়লেও সামনে সংকট পড়বে এমন আশঙ্কায় প্রয়োজনের চেয়ে ৪/৫ গুণ বেশি চাল কিনছেন। 
আকতার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ক্রেতা জানান, করোনার কারণে বাজারে আসাই বন্ধ হচ্ছে। তাই বেশি দাম হলেও দুই থেকে তিন মাসের চাল কিনেছেন তারা। তিনি গতকাল (বৃহস্পতিবার) ৫০কেজি ওজনের একবস্তা ২৯ জাতের চাল কিনেছিলেন ১৭০০টাকায় আর আজ (শুক্রবার) সেই দোকানদারই সেই চালের দাম রাখছেন ২০০০টাকা। এদিকে, খুচরা বিক্রেতারা আরও বলেন, বেশি দাম হলেও গত দুদিন ধরে বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণ। যে ব্যক্তি প্রতি মাসে ২০ কেজি চাল নিতেন তিনি ১শ কেজি নিয়ে যাচ্ছেন। 
এ ব্যাপারে জেলা মার্কেটিং অফিসার আইয়ুব আলী বলেন, করোনার প্রভাবে গ্রাম থেকে এসেও প্রয়োজনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পেঁয়াজ কেনার কারণে বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। 
ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। চাল, ডিম, আলুসহ অন্যান্য দ্রব্যাদির দামও এ কারণেই বাড়ছে। করোনায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হলে সংকট দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কায় ক্রেতারা কয়েক মাসের নিত্যপণ্য ক্রয় করছেন। তবে আগামীকাল শনিবার থেকে অভিযান শুরু করা হবে। বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি বিক্রি করলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।  
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ বলেন, জনগণ না বুঝে আতঙ্কে পড়ে যেখানে একমণ প্রয়োজন সেখানে তিনমণ ক্রয় করছেন। এতে ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেয়ে যায়। জনগণ যাতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি নিত্যপণ্য না কেনে সে বিষয়ে সচেতন করতে হবে। 
এছাড়াও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করতে হবে। রোববার (২২ মার্চ) ব্যবসায়ীদের নিয়ে আমরা বৈঠক করবো।  আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্টে যাবে। 

 


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ২০-০৩-২০২০ ০৭:১৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 448 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com