উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাড়াশে বিতর্কিত পুকুর খনন
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০১:২৯ পূর্বাহ্ন

  

উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাড়াশে বিতর্কিত পুকুর খনন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ
১৪-০৩-২০২০ ০৮:২৫ অপরাহ্ন
উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাড়াশে বিতর্কিত পুকুর খনন

আশরাফুল ইসলাম রনি:
যখন প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা করেছেন যে ফসলি জমি ভরাট করে স্থাপনা বা পুকুর খনন করা যাবে না। খাদ্য উৎপাদনকে বাধা গ্রস্থ করা যাবে না। তখন সিরাজগঞ্জের তাড়াশে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বিতর্কিত পুকুর খনন আর অবৈধ ড্রামট্রাকে করে মাটি বিক্রীর ব্যবসা। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও স্কুল,কলেজের ছাত্রছাত্রীদের। এলাকাবাসী অভিযোগ করেও এর কোনো প্রতিকার পায় না বলে অনেকেই জানান।
এদিকে অজ্ঞাত কারনে দীর্ঘ মেয়াদি কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না উপজেলা প্রশাসন। ফলে রাতদিন হরদম চলছে পুকুর খনন আর অবৈধ মাটির ব্যবসা। 
তাড়াশ নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনু বলেন, উপজেলা মাসিক সম্মনয় সভায় পুকুর খনন বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে পুকুর খনন করা সম্পুর্ন অবৈধ বলে কোথাও কোন পুকুর শ্রেণী পরির্বতন না করে আবাদী জমিতে খনন করতে দেয়া হবে না বলে বার বার আলোচনা হলেও অজ্ঞাত কারনে পুকুর খনন চলছেই। 
পথচারী আমজাদ হোসেন জানান, দালাল চক্রের প্রতারণার ফাঁদে জমির মালিকদের জিম্মি করে ও বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে ইটভাটা মালিকেরা জমির মাটি বিক্রি করছে জমির মালিকদের। তাছাড়া ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি করে দেয়ার ফলে ফসল উৎপাদন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। বছরের বছরের তাড়াশ উপজেলায় ধানী জমির শ্রেণী পরিবর্তন না করেই পুকুর খনন চরম আকার ধারণ করছে। গত দুবছরে আবাদি জমিতে প্রায় ৫ শতাধিক পুকুর খনন করছেন কৃষকেরা। এ সকল পুকুর খনন করে মাটি বহন করতে ব্যবহৃত হচ্ছে লাইন্সেসহীন অবৈধ ড্রামট্রাক। ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্নস্থানে। ফলে পাকা ও কাঁচা সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্থ। আর রাস্তায় চলাচলরত মানুষজন ও স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীরা ধুলোর কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত।একদিকে রাস্তার ক্ষতি আরেক দিকে মানুষের ক্ষতি তবুও কর্তপক্ষ রয়েছেন উদাসীন। 
সরেজমিন ঘুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, পুকুর খনন চলছে। আর একের পর এক লাগানো ফসলসহ কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে বিক্রি করে দিচ্ছেন জমির মালিকরা। ভেকু দ্বারা জমি থেকে কেটে নেওয়া মাটি ইটভাটাগুলোতে পৌঁছে দিতে ঐ এলাকা সংলগ্ন রাস্তায় প্রতিনিয়ত কয়েকশত মাটি বহনকারী ট্রাক ব্যবহৃত হচ্ছে।
অপরদিকে, উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে পানি প্রবাহের  খাল অবৈধভাবে ভরাট ও ব্রিজের মুখ বন্ধ  করে পুকুর খনন, বাড়ি-ঘর, দোকানপাট তৈরী সহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছে কতিপয় ভ‚মিদস্যুরা। উপজেলার বিভিন্ন  রাস্তার পাশে পানি প্রবাহের সরকারী রাস্তার ব্রিজের মুখ বন্ধ ও খাল (নয়ন জুলি) গুলোর মধ্যে তাড়াশ-বারুহাস,তাড়াশ-রানীর হাট, তাড়াশ-মান্নাননগর, তাড়াশ-মহিষলুটি, তাড়াশ-নিমগাছী, তাড়াশ-কুন্দইল, তাড়াশ-সলঙ্গা, তাড়াশ-কাটাগাড়ি, তাড়াশ-কাউরাইল-শোলাপাড়া রাস্তা সংলগ্ন খাল অন্যতম। প্রকাশ্য দিবালোকে পানি প্রবাহের সরকারী এ খালগুলো ভরাট ও ব্রিজের মুখ বন্ধ করছে ভ‚মিদস্যুরা। পুকুর কেটে সরকারী জলাশয়, পানি নিস্কাশনের ব্রীজের মুখ বন্ধ করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান করছে। 
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা জানালেন, প্রতি বছর পুকুর খনন করার ফলে আবাদী জমি দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। এর ফলে গমের আবাদ, ধানের আবাদ, সরিষার আবাদ বিগত বছরের তুলানায় অনেক কমে গিয়েছে। তাছাড়া আবাদী জমিতে দীর্ঘ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় প্রতিবছরই।

এ ব্যপারে বক্তব্য জানতে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফ্ফাত জাহান এর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ১৪-০৩-২০২০ ০৮:২৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 386 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com