শিরোনামঃ
আব্দুল জলিল ১৪-০৩-২০২০ ০৩:৩৭ অপরাহ্ন |
কাজিপুর প্রতিনিধি ঃ অসময়েও ঠেকানো যাচ্ছে না যমুনার ভাঙন। অব্যাহত ভাঙন মোকাবেলা করতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চরবাসী। গত এক মাসে ভাঙনে হাজারও একর জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে হাজারও একর আবাদি জমি। গত বছরের ভয়াবহ বন্যার ধকল সেরে উঠতে না উঠতে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনার নদীর লাগামহীন ভাঙন চরবাসীকে নাকাল করে তুলেছে। ভাঙনের কারণে প্রতিনিয়ত চরবাসীরকে অসহনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহের কৃষকের স্বপ্ন নদী ভাঙনে বিলিন হচ্ছে। পানি কমে যাওয়ার পর থেকে উপজেলার খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, শুভগাছা, মাইজবাড়ী, মনসুরনগর ও চরগিরিশ ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন শুরু হয়েছে। যতই পানি কমছে ততই ভাঙন বেড়েই চলছে।
বিশেষ করে খাসরাজবাড়ী, তেকানী, মাইজবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে তীব্র আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তেকানী ইউনিয়নের আবুল হোসেন জানান, ৬৫ বছর বয়সে তিনি ১৫ বার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি আর নদী ভাঙন মোকাবেলা করতে পারছেন না। তিনি দুঃখ করে জানান, কখনও ফাগ্লুন মাসে নদী ভাঙন দেখিনি। গত ২/৩ বছর ধরে এ অবস্থা শুরু হয়েছে। তেকানী ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ জানান, নদী পাড়ের মানুষ আমি নিজে। আমি জানি নদী ভাঙনের কষ্ট এবং জ্বালা যন্ত্রণা। নদী ভাঙন রোধে সরকারের বড় পদক্ষেপ ছাড়া আমাদের পক্ষে কোন কিছু করা সম্ভব নয়। চরের কৃষক শাহজামাল জানান, যে বছরেই একটু মাথা তুলে দাড়াতে চাই, সে বছরেই নদীর বুকে স্বপ্ন ভেঙে যায়।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস সূত্র জানায়, নদী ভাঙন রোধ, সংস্কার, সংরক্ষণে বৃহৎ প্রকল্পের প্রয়োজন। এটি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তবে এর মধ্যে ৫০০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, বর্তমানে যমুনার ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে শুধু আবাদি জমি বিলিন হচ্ছে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com