খুটির জোর কোথায়, নেই অপরেশনের অনুমতি তবুও করছে কথিত ডাক্তার সোলায়মান হোসেন
জহুরুল ইসলাম:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সালমা ক্লিনিকের কথিত ডাক্তার সোলায়মান হোসেনের অপারেশনের অনুমতি নেই তবুও কোন খুটির জোরে দেদারছে করছে অপারেশনের মতো কঠিন চিকিৎসা। তিনি সালমা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী। গত ২১ সেপ্টেম্বর ও ১৫ অক্টবরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে কথিত ডাক্তার সোলায়মান হোসেনের বিরুদ্ধে অপারেশনের মত অপচিকিৎসা করে আরছেন এমন অভিযোগে নিউজ হয়। নিউজ হওয়ার পরে বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জনের নজরে আসে। জেলা সিভিল সার্জন বিষয়টি বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার তৎকালীন কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুব হোসেনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে সে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটিতে সে পাইলস, অর্শ, গেজ ও পলিপাসের মতো অপারেশন করে থাকেন এমন প্রমানিত হয়।
সালমা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী কথিত ডাঃ সোলায়মান হোসেনের নিকট বিষয়টি যানতে চাইতে গেলে সাংবাদিকদের দেখে তিনি দৌরে পালিয়ে যায়।
বেলকুচি উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুব হোসেনের কাছে ১৫ অক্টব একটি লিখিত অঙ্গীকার করেন যে আমি আর এই ধরেনর অপারেশন করবো না।
কিন্তু সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। তার সনদ না থাকলেও কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে সে আবার চোখের, পাইলস, অর্শ, গেজ, পলিপাসের মতো জটিল রোগের অপারেশন করছেন।
এ দিকে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা উল্লাপাড়া উপজেলার বেতকান্দি গ্রামের মজিবর রহমানের স্ত্রী শান্তনা খাতুন (৪৫) জানান, আমার অনেক দিন হলো চোখের সমস্যা অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি কিছু হয়নি। কিন্তু আমার এক আত্নীয় আমাকে সালমা ক্লিনিকে সোলায়মান ডাক্তরের কাছে নিয়ে এসে আমার চোখের অপারেশন করিয়েছেন। টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তার স্বামী মজিবর রহমান বলেন, অপারেশন বাবদ সাত হাজার টাকা নিয়েছেন। কান্না জনিত কন্ঠে শান্তনা খাতুন বলেন, চোখ ঠিক হবে কি না জানিনা।
কামারপাড়া পূবারী ফ্যাশান লিমিটিডের গার্মেন্ট শ্রমিক সাইফুল রহমান জানান, কয়েকদিন আগে আমি সালমা ক্লিনিকে আসি নাকের সমস্যার জন্য কিন্তু ডাক্তার সোলেয়মান অপারেশন করেন। অপারেশন করার পর নাক থেকে প্রচুর রক্ত বের হয়। রক্ত পরা বন্ধ না হওয়ায় আমি অন্য ডাক্তরের মাধ্যমে রক্ত পরা বন্ধ করি। কেনো তিনি চিকিৎসার জন্য সালমা ক্লিনিকে আসলেন জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আমি বিভিন্ন জায়গায় লিফলেট লাগিয়েছে সেটা দেখে এসেছি সে সঠিক ডাক্তর কি না আমি যানি না।
এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এ,কে,এম মোফাখখারুল ইসলাম জানান, আমি এখানে নতুন এসেছি। আমার বিষয়টা জানা নেই, যদি সে এই ধরনের অপারেশন করে থাকে তাহলে সে ভুল করেছে। বিষয়টা উর্ধতন কর্মকর্তাকে অবহিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে তার কাগজপত্র যাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।
জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ জাহিদুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনে জানান, আমরা ইতিপূর্বে তার ব্যাপারে তদন্তের জন্য প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছিলাম। তখন তার ওখানে কোন বেড বা অনুসাঙ্গীক সরঞ্জামাদি পাওয়া যায়নি। আমি ব্যাপারে এখনই স্থানীয় কর্মকর্তাকে দিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।