ভুট্টা চাষে সফলতার স্বপ্ন বুনছে কাজিপুরের কৃষকগণ
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

  

ভুট্টা চাষে সফলতার স্বপ্ন বুনছে কাজিপুরের কৃষকগণ

আব্দুল জলিল
২৫-০১-২০২০ ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
ভুট্টা চাষে সফলতার স্বপ্ন বুনছে কাজিপুরের কৃষকগণ

 আবদুল জলিলঃ যমুনা নদী বিধৌত সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার কৃষকেরা এখন ভুট্টা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গতবার ভুট্ট্রা চাষে লাভের মুখ দেখায় এবার তারা ব্যাপকভাবে ভুট্টাচাষ শুরু করেছেন । ভাঙন জনপদের এই উপজেলায় প্রতি বছর হাজার হাজার আবাদী জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষক হয়ে পড়েন দিশেহারা। সর্বস্ব খুইয়ে এক সময়ের জোতদার হয়ে পড়ে দিনমজুর। মহাজনের পাওনা পরিশোধে বিক্রি করতে হয় হালের বলদ।  এ অবস্থার উত্তরণে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে পাল্টে যাচ্ছে কৃষকের জীবন-জীবিকা ও চাষাবাদের ধরণ। নদীকে শাসন করে তার উর্বর পলিমাটিতে চলছে সনাতনি পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদ। উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশাল চরাঞ্চলসহ বিড়া অঞ্চলে ভূট্টা ফসলকে টার্গেট করে চাষাবাদে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন কাজিপুর উপজেলার কৃষি অফিস।  কৃষকদের ভূট্টা চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করতে গত বছর কৃষি অফিস একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এর ফলে  এবার গতবারের চেয়ে চারশ হেক্টর জমি বেড়ে ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চারশ থেকে সাড়ে চারশ মন।  

এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে ইতোমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় বিভিন্ন প্রকল্প, পুষ্টি প্রকল্প, বীজ ও বালাইনাশক সরবরাহকারী বিভিন্ন কোম্পানীর সাথে যৌথভাবে  কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস। বিড়া ও  দূর্গম চরাঞ্চলে ভূট্টাচাষী কৃষক দল গঠন ও উৎপাদিত ভূট্টা সঠিক মূল্যে বিক্রয়ের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কৃষক কন্ট্রাক্টর তৈরী, নতুন জাতের ভূট্টার প্রদর্শণী প্লট স্থাপন, দলভূক্ত কৃষক ও কন্ট্রাক্টরদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও সুষম সারের ব্যবহার সর্ম্পকে প্রশিক্ষণ প্রদান , বালাই দমনে কোয়ালিটি সমৃদ্ধ বালাইনাশক এবং হাইব্রিড জাতের  বীজের সরবরাহ নিশ্চিতকরণের মতো কাজ করে যাচ্ছেন তারা।  ফলে কৃষকদের মধ্যে ভূট্টা চাষের আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। 
এবছর রাজস্ব খাতের মাধ্যমে ১২০ টি এবং এনএটিপি’র মাধ্যমে ৩০ নতুন ও হাইব্রিড জাতের ভূট্টার মাঠ প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে।  উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসারদ্বয় ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন এবং কৃষকের সমস্যার তাৎক্ষনিক সমাধানে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করছেন। মানসম্মত বীজ সরবরাহ করতে বিভিন্ন হাইব্রিড বীজ আমদানীকারক কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। কৃষকদের মাঝে  গণসচেতনতা সৃষ্টির  লক্ষ্যে আইসিএম/আইপিএম/আইএফএমএসএস এর মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ চলছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকেরা এবার  কনক-৫১ এবং সিনজেনটার ৭৭২০ জাতের ভুট্টার বীজ রোপন করেছেন।  কৃষি অফিসের তথ্যমতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে  প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কৃষক ও কন্ট্রাক্টর কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং  ৪৫টি প্রদর্শণী প্লট স্থাপন করা হয়। ওই অর্থবছরের রবি মৌসুমে ৫ হাজার ৪৮৫ হেঃ জমি চাষের আওতায় আসে এবং গড় ফলন হয় ৮.৮৫ টন/হেঃ। ভূট্টার মোট ফলন হয় ৪৮ হাজার ৪৮৭ মেঃটন।  
২০১৫-১৬ মৌসুমে ৬ হাজার ৫০০ হেঃ জমিতে ভূট্টা চাষ কর হয়। সর্বশেষ গত বছর ৭ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষকগণ কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন ফিড উৎপাদনকারী কোম্পানীর কাছে শুকনো ভূট্টা গড়ে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা মন দরে বিক্রি করেছে। আর ভ্ট্টুার চাহিদাও রয়েছে বেশ। ফলে অন্যান্য ফসলের চেয়ে এ ফসলে লাভের পরিমান বেশী। 
উপজেলার নতুন মাইজবাড়ী চরের ভুট্টাচাষী জহুরুল ইসলাম জানান, “গতবার কৃষি স্যারদের পরামর্শে ভুট্টার চাষ করে আর সব ফসলের চেয়ে বেশি টাকা পাইছি। এবারও ভুট্টার চাষ করছি।”                 
  মনসুরনগরের চাষী মানিক মিয়া জানান, “ফলন ভালো পাই। পাশাপাশি ভুট্টার কোন কিছুই ফেলে দিইনা। এর পাতা গরুকে খাওয়াই, ডাটা/কান্ড ও মোচা লাকড়ি হিসেবে বাজারে বিক্রি করি। ”
 কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল করিম জানান, “ কাজিপুরের যমুনাবিধৌত মাটি ভুট্টাচাষের জন্যে উপযোগী। ফলনও ভালো। নিবিড় প্রশিক্ষণে কৃষকেরা ভ্টুাচাষে লাভবান হচ্ছে।”


আব্দুল জলিল ২৫-০১-২০২০ ০৪:৪৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 253 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com