শিরোনামঃ
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ১৯-০১-২০২০ ০৮:৪৮ অপরাহ্ন |
একজন শিক্ষার্থী সেই ছোট বয়স থেকেই শুরু করে অনেক বাধা বিপত্তির মধ্য দিয়ে নিজের লেখাপড়ার জীবন শেষ করে। কিন্তু যখন মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক পেরিয়ে সম্মান শ্রেনীতে যায় তাদের গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পায় সমাবর্তন নামের সেই কাল্পনিক স্বপ্ন তা থেকে বঞ্চিত হতে হয় বাংলাদেশের বহুল পরিচিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সমাবর্তনের কথা মনে পড়লে যে ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, পড়নে কালো গাউন এবং মাথায় কালো টুপি পড়ে এক ফালি হাসি দিয়ে ফটো তুলছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের সময়ের এ দৃশ্য আজীবন স্মৃতির
পাতায় থাকে। সমাবর্তনা পাওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের লালিত স্বপ্ন। এটা শুধুমাত্র গাউন আর টুপি পড়ে ছবি তুলা নয় এর সাথে অনেক সম্মান এবং গর্বও জড়িত। কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয় , এ ধরনের সম্মান শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেই দেখা যায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এর থেকে বঞ্চিত।
প্রতি বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা বাংলাদেশের কলেজ থেকে প্রায় ৪লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করে থাকেন। স্নাতক সম্পন্ন করার পর তাদের হাতে শুধু মাত্র একটি কাগুজে সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেওয়া হয়, কোন সমাবর্তনা দেওয়া হয় না।অথচ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবছর অথবা এক
দুই বছর অন্তর অন্তর সমাবর্তনা দেওয়া হয়ে থাকে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এটা এখন পর্যন্ত স্বপ্ন রয়ে গেছে।যদিও প্রতিষ্ঠার আড়াই দশক পর, ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তনা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে হওয়া এ সমাবর্তনায় ভোগান্তিও বিরাজমান ছিল।
সমাবর্তনার দিন দেওয়া হয়নি কোন সার্টিফিকেট। ছিল না ভাল কোন ব্যবস্থাপনা । সমাবর্তনা পাওয়া সকল স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার। অথচ লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে প্রথম সমাবর্তনা থেকে গুটি কয়েকজন শিক্ষার্থী পেয়েছিলেন সমাবর্তনা।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনা বঞ্চিত
শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার আদায় করার জন্য কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন। প্রাথমিক অবস্থায় তারা ‘সমাবর্তনা চাই’ নামক ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে সমাবর্তনা পাওয়ার অধিকার সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য, সারা বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একতার মাধ্যমে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করা। প্রয়োজনে ৬৪ জেলাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করবে।
ন্যায্য অধিকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছানো।সমাবর্তনা ছাড়াও আরো যে দাবি শিক্ষার্থীরা চায়ঃ (১) এনইউ(NU) এর সার্ভার শক্তিশালী করা। (২) পরীক্ষা যথাযথ সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া। (৩) সেশন জট কমিয়ে আনা। (৪) প্রতিটি কলেজে উন্নতমানের লাইব্রেরি ব্যবস্থা করা। (৫) খাতার যথার্থ
তথা উপযুক্ত মুল্যায়ন করা।দাবি নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ পেইজের মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে একতাবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।তাদের এ দাবি শিক্ষা ক্ষেত্রে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com