কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে সিনেমা হল, বিক্রি করে দিয়ে করছে অন্য ব্যবসা
জহুরুল ইসলাম:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে কালের বিবর্তনে সিনেমা হলের ব্যবসা হারিয়ে যাচ্ছে, ব্যবসায় ধ্বস দেখে সিনেমা হল বিক্রী করে দিচ্ছে মালিকরা। চরম ক্রান্তিকাল পার করছে চলচ্চিত্র প্রদর্শন শিল্প। ক্রমশ: নিভে যাচ্ছে বেলকুচির সিনেমা হলগুলোর রূপালী পর্দার আলো। গত দুই দশকে বন্ধ হয়ে গেছে আটটি প্রেক্ষাগৃহ। ঢিমেতালে টিকে আছে এক দু'টি সিনেমা হল। এর মধ্যে নিয়মিত ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে ১ টিতে। এখন কেবল হল ভাঙার প্রতিযোগিতা চলছে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সবার হাতে স্মার্ট ফোন ইন্টারনেট থাকায় এখন সিনেমা নাটকসহ পুরো চিত্তবিনোদন হাতের মুঠোয়, তাই এখন আর সিনেমা হলে তেমন যেতে হয়না। মোবাইল ফোনেই সব মিলে যায়। সিনেমা হল ভেঙে নির্মাণ করা হচ্ছে মাল্টিকমপ্লেক্স, গুডাউন, গ্যারেজ, শপিংমল, গার্মেন্টস কারখানা বা বেসরকারি হাসপাতাল। মানহীন সিনেমা, অনুন্নত পরিবেশ, হল আধুনিকায়ন না হওয়া, হাতের মুঠোয় ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, আইফ্লিক্সে সিনেমা দেখার অপার সুযোগ ইত্যাদি কারণে সিনেমা হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন দর্শকরা। ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ সমূহের ক্রমবিলুপ্তির এই ক্রান্তিকালে আশা জাগিয়েও গণমানুষের কাছাকাছি যেতে পারছে না হাল ফ্যাশনের সিনেপ্লেক্সগুলি। পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ হচ্ছেন হল মালিকরা। গ্রাম গঞ্জের সব যায়গাতেই এখন ডিস এন্টেনা ছোট ছোট ষ্টলে চায়ের আড্ডায় টিভিতে সিনেমা নাটক দেখা যায়, ফলে এখন সিনেমা হলের ব্যবসা খুবই মন্দা। এখন নতুন সিনেমা চালালে দু'একদিন চলে কিন্তু দশ পনের বছর পূর্বে ভাল মানের সিনেমা হলে প্রায় তিন থেকে চার সপ্তাহ চলতো দর্শক কমতোনা।
বেলকুচি উপজেলায় সর্বমোট সিনেমা হল ছিল নয়টি এখন মাত্র একটি ব্যতীত সবগুলি সিনেমা হল বন্ধ। বেলকুচি চালা বাসষ্ট্যান্ডে সাগরিকা ও নিউ রজনীগন্ধা নামে দুইটি সিনেমা হল ছিল। সর্বশেষ সাগরিকা সিনেমা হলটি ইতিমধ্যে বিক্রি করেছে কর্তৃপক্ষ। এখন নিউ রজনীগন্ধা নামের সিনেমা হলটি চলছে ডিলেডালে। এ ব্যাপারে সিনেমা হলের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী আবু কালাম, শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও মনি জানায়, বর্তমানে সিনেমা ব্যবসা মন্দা হওয়ায় আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমরা এখন বেকার, ব্যবসা মন্দা হয়ায় মালিকপক্ষ আমাদের ঠিকমত বেতন দিতে পারেনা। এখন সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ফলে কেউ কেউ অন্যে কোন পেশা বেছে নিচ্ছি। আবার কেউ কেউ বেকার জীবন যাপন করছি। আমরা কর্মচারীরা মানবেতর জিবন যাপন করছি।
বেলকুচির হল মালিক কর্তৃপক্ষ আব্দুল আজিজ ও শাহীন জানান, দীর্ঘদিন লোকসান গুনে সিনেমা হল চালাচ্ছি। মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ নানা মেইনটেন্যান্স খরচ রয়েছে। আমাদের পক্ষে লোকসানি এই প্রতিষ্ঠান আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না, আমাদের দুটি সিনেমা হল নিউ রজনীগন্ধা ও সাগরিকা। সাগরিকা সিনেমা হলটি ইতিমধ্যেই বিক্রি করা হয়েছে। এখানে এখন ভবন নির্মান হবে এবং ব্যাংক বীমা মার্কেট করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে। আগে সপ্তাহে এক দুটি ছবি রিলিজ পেতো এখন মাসেও একটি ছবি রিলিজ হয়না। পুরাতন সিনেমা দিয়ে হল চলেনা, নতুন একটি সিনেমা মুক্তি পেলে তা দু'এক সপ্তাহের মধ্যে নেটে বা অন্যান্য মাধ্যমগুলিতে পাওয়া যায় তাই সিনেমা হলে কেউ সিনেমা দেখতে আসেনা। তাই নিরুপায় হয়ে এই ব্যবসা ত্যাগ করতে হচ্ছে।