শিরোনামঃ
ডেস্ক রিপোর্টঃ ১৩-০১-২০২০ ১২:৩২ পূর্বাহ্ন |
পাবলিক পরীক্ষার সময় ফ্রিল্যান্স কোচিং সেন্টারগুলো খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব শ্যাডো এডুকেশন বাংলাদেশের (অ্যাসেব)। রবিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সংগঠনটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক মো. ইমাদুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের হাত ধরে বিগত দশকে শিক্ষাখাতের সর্বস্তরে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। ফলে প্রায় শতভাগ শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। এছাড়াও বিনামূল্যে বই বিতরণ, আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক, সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি প্রবর্তন, স্কুল কলেজগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন ইত্যাদি কার্যকরী উদ্যোগগুলোর অন্যতম। কিন্তু বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার সময় অধিকাংশ স্কুল কলেজের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকে। কোচিংগুলোও বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। পড়ালেখা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় ছাত্রছাত্রীরা। দিশেহারা হয়ে পড়েন অভিভাবক মহল। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা ফ্রিল্যান্স কোচিংগুলো খোলা রাখার দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের হাত ধরে শিক্ষা খাতে আমরা বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করতে পারলেও বর্তমান প্রশ্নফাঁস আমাদের ভূগিয়েছে। বিভিন্ন ধরণের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এই প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এরমধ্যে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখাও একটি। যদিও প্রশ্ন তৈরি, বিতরণ, সরবরাহ কোন প্রক্রিয়ার সাথেই কোচিং সেন্টার জড়িত নয়।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান সোহাগ। তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকার তথ্য বিশ্লেষন করে দেখা যায়, গত তিন বছরে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে ১৯০ জন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। কিন্তু তাদের কেউ কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত নয়। ২০১৮ সালে ২৫ জানুয়ারি প্রথমবারের মত এসএসসি পরীক্ষার সময় সরকারের পক্ষ থেকে কোচিং বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সরকারের নির্বাহী আদেশে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখি। কিন্তু দৃশ্যমান ফল হলো সে বছর বিগত সময়ের মতই প্রশ্নপত্র ফাঁস অব্যাহত থাকে।
মাহমুদুল হাসান সোহাগ বলেন, আবার ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সময় সরকার কোচিং বন্ধ ঘোষণা করেননি, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোও খোলা ছিল, কিন্তু কোনো প্রশ্নফাঁস হয়নি। এর থেকে এটা সহজেই অনুমেয়, ফ্রিল্যান্সারদের দ্বারা পরিচালিত ছায়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সাথে প্রশ্নফাঁস হওয়া সম্পর্কযুক্ত নয়। ফলে আমরা বলতেই পারি প্রশ্নফাঁসের জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার কোন যৌক্তিকতা নেই।
তিনি বলেন, যে কোনো সেক্টরেই ভালো মন্দ মানুষ থাকতে পারে। তাই যে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকবে সে যদি কোচিং সেন্টারের সঙ্গেও যুক্ত থাকেন তাহলে তারও আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তবে এক-দু’জন মানুষের জন্য পুরো সেক্টরকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা ঠিক হবে না। কারণ পরীক্ষার সময় কোচিং বন্ধ থাকলে উচ্চবিত্তরা ঠিকই বাসায় প্রাইভেট টিউটর রেখে তাদের সন্তানদের পড়ান। কিন্তু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা যারা ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে কোচিং সেন্টারে সব বিষয় পড়ান তারা বড় বিপদে পড়ে যান। এমনকি পৃথিবীর প্রায় অন্য সব দেশে ফ্রিল্যান্স কোচিং চালু রয়েছে। সম্প্রতি আদালতও একটি রায়ের পর্যবেক্ষণে ফ্রিল্যান্সারদের কোচিং চালাতে বাধা নেই বলে জানান।
বক্তারা শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে ছায়াশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটা সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসা হোক যাতে পাবলিক পরীক্ষার সময়ও বন্ধ রাখতে না হয়। এতে করে বৈষম্য হ্রাস পাবে, শিড়্গার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। মেধাবী তরুণরাও এই সেক্টরে আসতে উত্সাহিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়কদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শামসেয়ারা খান ডলি, মাহবুব আরেফিন, আকমল হোসাইন, পলাশ সরকার প্রমুখ।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com