শীত মৌসুমেও ভাঙছে সিরাজগঞ্জের ফুলজোড় নদীর পাড় নিজস্ব প্রতিবেদকঃশীত ও শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই ফুলজোড় নদীর পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার তিয়োরহাটী গ্রামে ফুলজোড় নদীর পাড় ভাঙতে শুরু হয়েছে। ভাঙনের হাত থেকে রেহাই পেতে অনেকেই নিরাপদস্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন ঘরবাড়ি, সহায় সম্বল। ভাঙন রোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেয়া হলে নদীর তীরবর্তী জনপদের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার তিয়োরহাটী, আমডাংগা ও নূরনগর গ্রামে শীত মৌসুমের শুরুতেই ফুলজোড় পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর পানি কমায় একদিক দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সাথে ক্রমেই বাড়ছে নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা। প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে ফসলী জমি, বসতভিটা ও গাছপালা। এতে ভাঙন আতংকে দিন কাটাছেন দরিদ্র কৃষিজীবী ফুলজোড় পাড়ের মানুষেরা। এরই মধ্যে ওই এলাকার ১০/১২টি বসতভিটা বিলিন হয়ে গেছে, শতাধিক পরিবার তাদের ঘর-বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হয় বড়হর ইউনিয়নের তিয়োরহাটী গ্রামের নদী পাড়ের বাসিন্দা মোঃ হানিফ সরদার, মোছাঃ হাফিজা বেগম, কালা চাদ সরদারসহ অনেকেই বলেন, গত ১৫ দিনে ফুলজোড় নদী ভাঙনে তাদের গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ী ফুলজোড় নদীর গর্ভে চলে গেছে। তারা আরো বলেন, হঠাৎ করে নদী ভাঙন শুরু হওয়ার কারণে গ্রামের অনেকে তাদের ভিটামাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।
উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার শামীম রেজা নবী বলেন, শীত মৌসুমের আগেই হঠাৎ করে ফুলজোড় পানি বৃদ্ধির ফলে বড়হর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। নদী ভাঙন কবলিত এলাকার চেয়ারম্যান জহুল ইসলাম ন্নান্নু বলেন, এখনই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে ফুলজোড় পাড়ের দরিদ্র মানুষ বসতবাড়ীসহ ফসলী জমি হারিয়ে আরো নিঃস্ব হয়ে পড়বে।
তবে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন শুরু হলেই ভাঙন রোধের নামে সরকারি অর্থ লুটপাটের তোড়জোড় শুরু হয়। যা শুধুই অপচয় মাত্র।
স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙ্গন রোধে টেকসই ব্যবস্থা নেয়া দরকার।