শিরোনামঃ
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ০৪-০১-২০২০ ০৫:৩৯ অপরাহ্ন |
রায়হান আলীঃ উল্লাপাড়ায় বিভিন্ন স্থানে কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের হিড়িক পড়ে গেছে। সরকারি নিয়ম মানছে না কেইউ। ফলে কমে যাচ্ছে ফসলী জমি। সেই সাথে যেখানে সেখানে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় ফসলের মাঠে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আর এতে ব্যহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন। খননকৃত পুকুর সংলগ্ন জমিগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে অনেক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও কার্যত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগীদের।
উপজেলার অলিদহ গ্রামের মাঠে ৫ বিঘা ফসলী জমিতে পুকুর খনন করছেন রুয়াপাড়া গ্রামের আবু বক্কার। অলিদহ গ্রামের ফসলী জমি মালিকদের পক্ষে রওশন আলী সরকার উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার্র কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ পত্রে বলেছেন, রুয়াপাড়া গ্রামের হাছেন আলীর ৫ বিঘা ফসলী জমি ৮ বছরের জন্য বন্দোবস্ত নিয়ে আবু বক্কার অবৈধভাবে পুকুর খনন করছেন। এতে তাদের মাঠে স্থায়ী জলাবদ্ধাতার সৃষ্টি হবে বলে উল্লেখ করেছেন তারা। আর এ কারণে পুকুরের পার্শ^বর্তী জমিগুলোতে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। মারাত্মক সংকটে পড়ছেন জমি মালিকেরা।
কয়ড়া ইউনিয়নের বাঘলপুর গ্রামের চঞ্চল মহরী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ১০ বিঘা জমিতে পুকুর কেটে ইট ভাটায় মাটি বিক্রি করছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় ভূমি মালিকগণ উপজেলা ভূমি অফিসে অভিযোগ দেবার পর প্রাথমিক ভাবে ভূমি অফিস থেকে পুকুর খনন বন্ধ করে দিলেও কয়েকদিন পর আবারও চঞ্চল মহরী পুকুর খনন শুরু করেছেন। একই এলাকায় খামারপাড়া গ্রামের রহমত আলীর ৩ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করছেন পার্শ^বর্তী দাদপুর গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস। খননকৃত মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইট ভাটায়। অনুরুপ ভাবে একই ইউনিয়নের রাখালগাছা মাঠে ৫ বিঘা কৃষি জমিতে পুকুর কেটে ইট ভাটায় মাটি বিক্রি করছেন মিঠু ও সাইফুল নামের দুই ব্যক্তি।
এছাড়াও বাঙ্গালা ইউনিয়নে অন্তত ১৫টি, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ১২টি, সলংগায় প্রায় ১০টি স্থানে অবৈধভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এসব পুকুরের মাটি বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে। এসব পুকুর খনন নিয়ে স্থানীয়রা উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার্র অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। পুকুর খননকারীরা প্রকাশ্যে কৃষি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করলেও স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এতে এসব কৃষি জমি ফসল উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়ে চিরতরে পুকুর ডোবায় পরিনত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ হাসান খাঁনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করে অবৈধ পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com