শিরোনামঃ
নিউজরুম ০৪-১০-২০২০ ০৫:৪৯ অপরাহ্ন |
বিপদ সীমার নিচে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩ নদী পদ্মা, মহানন্দা, পূর্ণভবার পানি। তবে বিপদ সীমার নিচে থাকলেও আবারো ভাঙ্গন শুরু হয়েছে পদ্মা-মহানন্দায়। এছাড়াও দ্বিতীয় দফায় উজান থেকে আসা বৃদ্ধি পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৪ শতাধিক পরিবার।
তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানে নতুন করে বৃষ্টি না হলে দু-এক দিনের মধ্যেই কমতে শুরু করবে পদ্মা, মহানন্দা, পূর্ণভবা ও পাগলা নদীর।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলের তুলনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানি বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। জেলার ৪ নদীর ৩ নদীতে পানি রিডিং মাপার ব্যবস্থা থাকলেও, পাগলা নদীতে এই ব্যবস্থা নেয়। শনিবার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও দু-এক দিনের মধ্যেই কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। পদ্মায় পানি কমতে শুরু করলে মহানন্দা, পূর্ণভবা ও পাগলা নদীও এর প্রভাবে পানি কমবে বলে জানান তিনি।
প্রকৌশলী আতিকুর রহমান আরো জানান, গত ৩ দিনের পানি বৃদ্ধির রিডিং পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে- পদ্মা, মহানন্দা ও পূর্ণভবায় পানি বাড়ছে। পদ্মা নদীতে পানির বিপদ সীমা ধার্য করা হয়েছে ২২.৫ মিটার। ৩ সে.মি. বেড়ে সোমবার পদ্মায় পানির রিডিং ২০.৪৩ মিটার। মহানন্দা নদীতে বিপদসীমা ধার্য করা হয়েছে ২১ মিটার, ৭ সে.মি. বেড়ে শনিবার নদীতে বর্তমানে পানির রিডিং ২০.০৬ মিটার। পূর্ণভবা নদীতে বিপদসীমা ধার্য করা হয়েছে ২১.৮০ মিটার এবং ১০ সে.মি. বেড়ে নদীতে বর্তমানে পানির রিডিং ২১.৩৯ মিটার।
এদিকে নতুন করে পানি বৃদ্ধিতে সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের ধুলাউড়ীর হাট, শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকা এবং গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়ন ও বোয়ালিয়া ইউনিয়ের কিছু এলাকায় নতুন করে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত পানিতে জেলাজুড়ে প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার পানি বন্দি বলে জানা গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, অতিরিক্ত পানিতে এখন পর্যন্ত জেলায় কৃষি/ফসলী জমি এবং মৎস্য খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কিন্তু নদী ভাঙ্গন কবলিত সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছে, নতুন করে পানি বৃদ্ধিতে প্রায় ১’শ একর ফসলী জমি তলিয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিদুল আলম জানায়, দ্বিতীয় দফায় উজান থেকে আসা অতিরিক্ত পানিতে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য অগ্রিম ১৫০ মেট্রিক ট্রন চাল এবং ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সদর উপজেলার দেবিনগরে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙ্গন রোধে কাজ চলছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেখান কাজ সম্পূর্ণ হবে।
সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, অতিরিক্ত পানির প্রভাবে বন্যা আশঙ্কায় বন্যাকালীন ও বন্যা পরবর্তী সময়ের জন্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নে একটি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com