শিরোনামঃ
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ৩১-১২-২০১৯ ০৬:০১ অপরাহ্ন |
রায়হান আলীঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় শীত মৌসুমে বিভিন্ন এলাকা থেকে দেড় শতাধিক মৌ চাষি মধু সংগ্রহের জন্য এসেছে । গত কয়েকদিনে তীব্র শৈত্য প্রবাহের কারণে মধু সংগ্রহে বিড়ম্বনায় পোহাতে হচ্ছে মৌ-চাষীদের৷শৈত্য প্রবাহের কারণে মৌ-বক্স থেকে মৌমাছি বের হতে পারছে না ফলে মৌ খামারিদের মধু সংগ্রহ ব্যহত হচ্ছে। এতে তাদের মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা উল্লাপাড়ায় ১৫০ মেট্রিকটন থাকলেও তা নিয়ে শঙ্খায় রয়েছেন মৌ-চাষিরা। এছাড়াও অতিরিক্ত শীতের কারণে মৌমাছির বিভিন্ন রোগব্যাধির সৃষ্টি হচ্ছে।
উপজেলায় এবছর লক্ষ্যমাত্রাধিক সরিষা চাষ হয়েছে,সরিষা চাষ কে কেন্দ্র করে প্রায় ১২ হাজার মৌ-বক্স স্থাপন করেছে মৌ-চাষিরা । আর এই সরিষা ফলন বৃদ্ধিতে পরাগায়নে মৌমাছি প্রত্যাক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে মধু আহরণ করে,মৌমাছির সংস্পর্শে সরিষা ফুলে পরাগায়ণ ঘটে এতে ফলন বৃদ্ধি হয়। সরিষা থেকে মৌ-চাষিরা মধু আহরণ করে যেমন অনৈতিকভাবে সাবলম্বি হচ্ছে অন্যদিকে কৃষকের সরিষার ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৌ-চাষিরা মধু বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির কাছে বিক্রি করছে এতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বি হচ্ছে আরেকদিকে দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
তবে বিশিষ্টজনেরা মনে করেন বাংলাদেশের মৌ-চাষিরা সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে যেমন মধুর ন্যায মূল্য হারাচ্ছেন তেমনি দেশের অর্থ বাইরে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশে মধু সংগ্রহকারী ভারতীয় কোম্পানি ডাবর,মৌ-চাষিদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে মধু কিনে প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশেই বিক্রি করছে ১ হাজার টাকা কেজি। বাংলাদেশে মৌ-চাষিদের জন্য সরকারি কোন মধু প্রক্রীয়াজাত কেন্দ্র না থাকায় শুধু মৌ-চাষিরা নয় দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দিনদিন খামারিদের মধু সংগ্রহের আগ্রহ কমেছে।
সিরাজগঞ্জ মৌ চাষি সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান তীব্র শৈত্য প্রবাহের কারণে আমাদের মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। তিনি জানান বাংলাদেশী মধুর চাহিদা অনেক বেশি, কিন্তু মধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারণে আমরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। সরকারি সংস্থা গুলো যদি আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ ঋণ সুবিধা দেয় তাহলে আমরা মধু চাষিরা এই শিল্প কে এগিয়ে নিতে পারবো। তিনি দাবি জানান সিরাজগঞ্জ রোডে একটি মধু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা করার এতে মধুর ন্যায় মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে না মৌ-চাষিরা।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান মৌ-চাষিদের সরকারিভাবে যতটুকু সহযোগিতার প্রয়োজন করা হচ্ছে। তবে কয়েকদিন শৈত্য প্রবাহের কারণে মধু সংগ্রহে কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল মৌ-চাষিরা।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com