সলঙ্গা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকদের শিক্ষা সফর
০৫ মে, ২০২৬ ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

  

সলঙ্গা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকদের শিক্ষা সফর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সলংগা
২৪-১২-২০১৯ ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
সলঙ্গা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকদের শিক্ষা সফর
জি,এম স্বপ্নাঃ সলঙ্গা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে পাবনার পাকশী হার্ডিন্জ ব্রীজ,পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র,নাটোর লালপুর গ্রীণ ভ্যালী পার্ক, নাটোর রাজবাড়ি শিক্ষা সফর / ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭ টায় মাইক্রো যোগে সলঙ্গা থেকে রওনা দিয়ে নাটোর বনপাড়া বাইবাস রাস্তা হয়ে পাকশীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। যেতে যেতে দেখলাম রাস্তার দু'পাশে আম বাগান,লিচু বাগান সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য। সত্যিই অপরুপ। বেলা ১১ টায় পাকশী ( হার্ডিন্জ ব্রীজ) গিয়ে পৌছলাম। গাড়ি থেকে নেমে সবাই এক সাথে বসে চা চক্রের কাজ শেষ করলাম। পাকশী সেতুর নিচে নদীর ধারে যখন সবাই ঘুরতে ছিল, ঠিক তখনই একটি ট্রেন সেতুর উপর দিয়ে পুর্ব দিকে যাচ্ছিল। কি অপরুপ দেখতে, মন ভরে গেল। ভ্রমন পিপাসু সাংবাদিক পরিবারের সাথে যোগ হলো আরেক ভাই। যিনি আমাদের রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদক আনিছুর রহমান সাহেবের বন্ধু।সাংবাদিক পরিবারের পাকশীতে ভ্রমনের কথা শুনে তিনি অগ্রিম দাওয়াত করে রেখে ছিলেন। সেই বন্ধুকে সাথে নিয়েই সাধ জাগলো সবাই ভেড়ামারা নদীতে নৌকায় ঘুরে বেড়াব। যেমন কথা তেমন কাজ।সবাই ইন্জিন চালিত শ্যালো নৌকায় উঠে বসলাম।মাঝি নৌকা ছাড়লো। নদীর মাঝে নৌকায় উঠে কেউ আব্বাসের গান, কেউবা আ: আলিমের সর্বনাশা পদ্মা নদী,,,,, গান,আবার তরুন সাংবাদিক হোসেন, লিখন ধরল নৌকার হাল। অন্য সাংবাদিক ভাইয়েরা যে যার মত তুলতে শুরু করলেন সেলফি।এরপর রুপপুর পার মানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বৃহৎ প্রকল্পের কাজ দেখে সাংবাদিকরা বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনা কে ধন্যবাদ জানালেন। সেখান থেকে ফেরার পথে পাকশী ইপিজেড ২০/২২ তলা ভবন গুলোর পাশে গাড়ি থামিয়ে রাশিয়ান,কোরিয়ান সহ বিভিন্ন বিদেশীদের কথাও বললেন।এরপর ইপিজেড সংলঘ্ন আনিছ সাহেবের বন্ধুর বাসায় গিয়ে বিশ্রাম শেষে জুমার নামাজ আদায়ের পর মধ্যাহ্ন ভোজ হলো। শুরু হলো আরেক গন্তব্যের দিকে রওনা।গাড়ি এসে পৌছলো নাটোর লালপুর গ্রীণ ভ্যালী পার্কের গেটে। কাউন্টারে গিয়ে সিরাজগন্জের সলঙ্গা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিক পরিবার পরিচয় দেয়ায় আমাদের যথেষ্ট সম্মান দেখালেন কর্তৃপক্ষ। তখন পরিচয় হলো মিডিয়াদের দেখভালের জন্য দায়িত্বরত লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ এম রায়হান ভাইয়ের সাথে। পার্কের ভিতরে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নয়নাভিরাম হরেক রকম দৃশ্য দেখে মন জুড়ে গেল। প্রাকৃতিক ও তুলির আঁচড়ে গড়া কৃত্রিম বাঘ,ভল্লুক, কুমির সহ অনেক দৃশ্যই চোখে পড়ার মত। পার্কের ভিতরে নদীর পানিতে অনেক ভ্রমন পিপাসু পরিবার তাদের আদরের সন্তানদের নিয়ে নৌকায় ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য দেখে কার না ভালো লাগে।অন্যদের মত পিকনিক পরিবারের সাথের শিশু সন্তানরা বাগ ধরে ট্রেন, নাগরদোলা,ঘোড়গাড়ি সহ বিভিন্ন যানবাহনে উঠতে। আবার মাধব কুন্ডের প্রকৃতির অপরুপ ঝর্ণার মত এখানে কৃত্রিম ঝরনার ঝরঝর পানির কলতানিতে ইচ্ছে মত সেলফি তুললো সবাই।ঘুরতে ঘুরতে যখন আছরের নামাজের আজান হলো তখন আর থাকা হলো না। কারন ভ্রমনের আরও একটি স্পট বাকী আছে নাটোর রাজবাড়ি। ড্রাইভার মিলনকে অনুরোধ জানিয়ে ছুটলাম আবার নাটোরের দিকে। সেখানে গিয়ে দেখলাম পুরনো জমিদারদের ভগ্ন রাজ প্রাসাদ,পুরনো পুকুর আর অতীত জমিদারদের রেখে যাওয়া কিছু প্রাচীন ইতিহাস। এভাবে কেটে গেল সারাটা দিন। শুধু দেখাই নয়, ভ্রমনের ফাঁকে লান্চ,মাঝে মাঝে টি-ব্রেক,নিজের প্রয়োজনে ও পরিবারের সবার ইচ্ছা পুরনে সাধ্যমত কেনা কাটাও হলো। ফেরার পালা,শেষ টি-ব্রেক হলো বনপাড়া বাইপাস একটি হোটেলে। আল্লাহ'র অপার কৃপায় রাত সাড়ে ৮ টায় এসে সলঙ্গায় নামলাম। সলঙ্গা রিপোর্টার্স ইউনিটির সুযোগ্য সাধারন সম্পাদক আনিছুর রহমানের সাধনা, পরিশ্রম আর প্রচেষ্টার ফসল এবারের এই শিক্ষা সফর। সময়ের ব্যবধানে সব কিছুু বিলীন হবে, কিন্তুু মনের কোণে জমা থাকবে শুক্রবারের ভ্রমনের এই মজাটুকু।

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সলংগা ২৪-১২-২০১৯ ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 238 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com