শিরোনামঃ
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ২২-১২-২০১৯ ০৩:৪৮ অপরাহ্ন |
উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ শীত জেঁকে বসায় উল্লাপাড়ায় নি¤œ আয়ের মানুষের দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যার পর থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে প্রকৃতি। গত কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহের পর উল্লাপাড়ার তাপমমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ঠান্ডা কমছে না। হিমেল হাওয়ায় ঠান্ডা জনিত রোগে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
উল্লাপাড়ায় তীব্র শৈত্য প্রবাহের কারণে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে। এবং বয়স্কদের হাঁপানী ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে দেখা দিয়েছে। উল্লাপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যা হাসপাতালে ডায়েরিয়া,নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি, এছাড়া বয়স্করা চিকিৎসা নিচ্ছে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগের।
এদিকে, শৈত্যপ্রবাহসহ শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। দামও বেশি নিচ্ছে দোকানদাররা। গ্রাম-শহর সর্বত্রই উপচেপড়া ভিড় দেখা যায় শীতবস্ত্রের কাপড়ের দোকানগুলোতে। শুধু উল্লাপাড়ায় খোলা বাজারে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে কয়েক লক্ষাধিক টাকার গরম কাপড়।
সরেজমিনে রোববার সকালে উল্লাপাড়া পৌর শহরের গুলিস্তানের খোলা বাজার গুলোতে দেখা কমদামি শীতের কাপড় দোকানে স্বল্প আয়ের মানুষের উপচে পরা ভীড়। কমদামি শীতের কাপড় বিক্রেতা বাবু ক্রেতাদের বলছে বাঁইচা (বাছাই) নেন ধরলেই (প্রতিটি) ২০ টাকা। এতে সাধারণ মানুষ ভীড় জমাচ্ছে তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে শীতবস্ত্র বাছাই করে কিনছে ২০ টাকা দিয়ে। এখানে কমদামে শীতবস্ত্র কিনতে আসা উধুনিয়া থেকে আব্দুল জানান শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে খোলা বাজারে কমদামে ভালো গরম কাপড় পাওয়া যায় তাই এখান থেকেই কিনেছি। নতুন মার্কেট গুলোতে শীতবস্ত্রের দাম অনেক বেশি।
আরেক খুচরা কাপড় ব্যবসায়ী মোঃ মিলন রহমান মিন্টু জানান, প্রতিবছর শীতের সময় মহাজনদের কাছ থেকে গরম কাপড়ের গাইট নিয়ে তা খোলা বাজারে খুচরা বিক্রি করেন তারা । গত বছর সাত থেকে আট হাজার টাকায় একটি কাপড়ের গাইট বা বেল কেনা যেতো। এ বছর একটি গরম কাপড়ের গাইট কিনতে ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা লাগছে। তবে তীব্র শীতের কারণে বেচাকেনা বাড়ছে। প্রতিদিন ৮ হাজার টাকার কমদামের শীতবস্ত্র বিক্রি করতে পারেন বলে তিনি জানান।
খুচরা ব্যবসায়ী আবদুল্লা মিয়া জানান, একটি গাইটে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকার কাপড়ও থাকে। ক্রেতাদের সঙ্গে দামাদামি করে সব দাম ঠিক করতে হয়। তবে কয়েকদিন থেকে শীতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় কাপড়ও বিক্রি হচ্ছে বেশি। প্রতিদিন খুচরা দোকানে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে পৌর শহরের মানিক মিয়া ভ্যানে শিশুদের কাপড় বিক্রি করছে ১২০ টাকা করে। তিনি জানান কমদামে শিশুদের ভালো কাপড় পাওয়া যায় এজন্য চাহিদা বেশি থাকে।
উল্লাপাড়া পৌর শহরের গুলিস্তান,ওভারব্রিজ,জামে মসজিদের রোড এলাকায় পুরাতন কাপড়ের দোকান বেশি দেখা যায়। এই কয়েকটি জায়গায় ছোটবড় প্রায় শতাধিক খোলা বাজারে কাপড়ের দোকান রয়েছে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com