১৭ বছরেও বিচার সম্পন্ন হয়নি বেলকুচির ৪ পুলিশ হত্যা ও অস্ত্র লুটের মামলা
১৮ মে, ২০২৬ ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন

  

   শিরোনামঃ

১৭ বছরেও বিচার সম্পন্ন হয়নি বেলকুচির ৪ পুলিশ হত্যা ও অস্ত্র লুটের মামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি
২১-১২-২০১৯ ০৪:৩৬ অপরাহ্ন
১৭ বছরেও বিচার সম্পন্ন হয়নি বেলকুচির ৪ পুলিশ হত্যা ও অস্ত্র লুটের মামলা
জহুরুল ইসলাম: ১৭ বছর পার হলেও সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে পুলিশ ক্যাম্পে হামলা, অস্ত্র, গুলি লুট ও ৪ পুলিশ সদস্য হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হয়নি। ১০ বছর আগে এমামলায় অভিযোগ গঠন করা হলেও স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষ হয়নি। ১০৪ জন স্বাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৯ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহন করেছে আদালত। মূলত এই আদালতের বিচারক প্রায় ১ বছর ধরে না থাকায় থমকে গেছে মামলার বিচার কার্যক্রম। তবে স্বাক্ষ্য গ্রহন ত্বরান্বিত করার সর্বচ্চচেষ্টা অব্যাহত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ। আসামীদের মধ্যে মুকুল হোসেন, সাইদুল ইসলাম ও জয়নাল আবদীনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৩ জন জামিনে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন ১০ জন। মামলাটি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ সাক্ষ্য গ্রহন করা হয় ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী। আগামী ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারী এই মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহনের দিন ধার্য রয়েছে। এই আদালতে প্রায় ১ বছর যাবত বিচারক না থাকায় মামলার কার্যক্র থমকে আছে। আসামী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, ক্যাম্প লুটের এই মামলা ২০০২ সালের মামলা। মামলা হওয়ার পর চার্জশীট দেয় ২০০৮ সালে। স্বাক্ষী হয়েছে ১৯ জনের। প্রায়ই স্বাক্ষী আসামীর নাম বলতে পারেনি এবং ঘটনা দেখেনি। এই মামলার এজাহারে কোন আসামীর নাম ছিলো না। চার্জশীটে ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ইতিমধ্যে ৩ জন আসামীর মৃত্যু হয়েছে। তারা এই বিচারটি দেখে যেতে পারেনি। এখনও যে আসামী রয়েছে তাদের প্রায়ই বৃদ্ধ মানুষ। তারা ন্যায় বিচার দেখতে পারবে কি না আমরা সন্দিহান। এই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট ওয়াজ করনী লকেট বলেন, মামলাটি সতর্কতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। স্বাক্ষীদের সমন জারি করা হচ্ছে। স্বাক্ষীরা বিভিন্ন জেলায় চলে যাওয়া এবং বিচারক বদলী জনিত কারনে আদালতে না থাকায় মামলাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে বিলম্বিত হচ্ছে। এক বছর হলো এই আদালতে কোন বিচারক নেই যার কারনে চাঞ্চল্যকর এই মামলার পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এটি অনিচ্ছকৃত ক্রুটি। আমরা চায় অতিদ্রুত এই মামলার বিচারকাজ শেষ হোক। বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ২০০২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রান্ধুনী বাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা আছরের নামাজ পড়তে যাবে। ঠিক সেই মুহুর্তে নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের সদস্যরা ক্যাম্পে হামলা চালায়। তারা ৪ পুলি সদস্যকে গুলি করে হত্যার পর অস্ত্র ও গুলি লুট করে নিয়ে যায়। দীর্ঘদিন হলেও এ মামলার এখনও রায় হয়নি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে গেলে বিচার ব্যবস্থা দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেলে আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বাড়ে। সে জন্য আমি মনে করি এই মামলার ক্ষেত্রে আরো বেশি আন্তরিক হওয়া দরকার। দ্রুত বিচারকাজ শেষ হওয়া ব্যঞ্চনীয়। কেউ অন্যায় করলে যে পার পাওয়া যায়না এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে এটি আবারও প্রতিষ্ঠিত হবে। এধরনের অপরাধ করতে কেউ আর সাহস পাবে না বলে আমি মনে করি। উল্লেখ্য,২০০২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ৫০/৬০ জনের কথিত সর্বহারা পার্টির সদস্যরা চর মকিমপুর অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে হামলা করে। প্রথমে তারা পুলিশ কনষ্টেবল জাহিদুল হককে গুলি করে ফেলে দেয় এবং চার পাশ থেকে এলোপাথারি ভাবে গুলি করতে থাকে। তারা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলে তোমরা আত্ম সমর্পন কর এবং তোমাদের হাতিয়ার ফেলে দাও। এসময় সুবেদার মোঃ আব্দুল হান্নান সর্বহারাদের গুলি করতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ প্রদান করেন। শুরু হয় পাল্টা পাল্টি গোলা গুলি। সর্বহারাদের গুলিতে হাবিলদার গোলজার হোসেন, কনষ্টেবল শ্রী সুশান্ত চাকমা, কনষ্টেবল সাদেকুল ইসলাম, কনষ্টেবল রেজাউল হক, কনষ্টেবল বাবুল হোসেন, কনষ্টেবল আনিছুর রহমান, কনষ্টেবল আব্দুল করিম গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়ে মাটিকে লুটিয়ে পড়ে। এই সুযোগে সর্বহারা সদস্যরা আর আর এফ (অস্ত্রাগারে) প্রবেশ করে ৭টি এসএল আর ও ৭টি ম্যাগজিন, ১৪৪ রাউন্ড, দুটি রাইফেল, ১টি ম্যাগজিন ও ৩০ রাউন্ড গুলি লুট করে গুলি করতে করতে চলে যায়। পুলিশ সদস্যরা তাদের পিছু পিছু ধাওয়া করেও গ্রেফতার করতে পারেনি। সর্বহারাদের গুলিশে কনষ্টেবল শ্রী সুশান্ত চাকমা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনষ্টেবল জাহিদুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম ও রেজাউল হকের মৃত্যু হয়। এঘটনায় ক্যাম্পের সুবেদার আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৫০/৬০ জন সর্বহারা দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে বেলকুচি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ৪৬ জনকে আসামী করে ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী র্ককর্তা। মামলাটি সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করাহয়। ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৯ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহন করেছে আদালত। সর্বশেষ সাক্ষ্য গ্রহন করা হয় ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী। এই আদালতে প্রায় ১ বছর যাবত বিচারক না থাকায় মামলার কার্যক্রম থমকে আছে।

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি ২১-১২-২০১৯ ০৪:৩৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 953 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com