শিরোনামঃ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ১১-১১-২০১৯ ০৬:৪৮ অপরাহ্ন |
আশরাফুল ইসলাম রনি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন নওগাঁ একটি ঐতিহাসিক জায়গা মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্রহাতে পাকিস্থানীদের হত্যা করেছিলো। মুক্তিযুদ্ধ একবার হয়েছে আর হবে না, মুজিব ও ৪ নেতাকে হত্যা করে বাংলাদেশ কে তারা নিজেদের করে নিতে চেয়েছিলো। কিন্তু তারা পারে নি। বঙ্গবন্ধু দেশের জন্য জনগনের জন্য যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মান দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ঐতিহাসিক নওগাঁ দিবসে মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার মিলন মেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, রাজাকাররা এখনো শেষ হয়ে যায় নি। বাঙ্গালি অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছেন বাংলাদেশ কে শত্রæ হাত থেকে মুক্ত করার জন্য। বঙ্গবন্ধুর জন্যই স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছেন বাঙ্গালি জাতি। পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের সর্বাধীনায়ক লতিফ মির্জা নওগাঁ যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার বিচার করেনি বিএনপি। বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যেতে চায় তখন তারা বাধা সৃষ্টি করে। আন্দোলনের হুমকি দেয় মেরুদন্ডহীন বিএনপি। কিয়ামত পর্যন্ত আপনারা কিছু করতে পারবেন না।
৭১’র মুক্তিযুদ্ধকালিন সংগঠন পলাশ ডাঙ্গা যুবশিবিরের উদ্যেগে ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গাজী আব্দুর রহমানের সভাপত্বিতে ঐতিহাসিক নওগাঁ দিবসে মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার মিলন মেলা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ, নাটোরের গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দস,পলাশ ডাঙ্গা যুব শিবিরের সহসর্বাধিক নায়ক ও সাবেক সাংসদ গাজী ম.ম আমজাদ হোসেন মিলনসহ আরো অনেকেই।
উল্লেখ্য, তাড়াশ উপজেলার অলিয়ে কামেল হযরত শাহ-শরিফ জিন্দানী (রা:) এর পুণ্যভুমি নওগাঁ গ্রামে আব্দুল লতিফ মির্জা পরিচালিত পলাশ ডাঙ্গা যুব শিবিরের পাঁচশত অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ঐতিহাসিক রক্তক্ষয়ী সম্মুখ যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ভোর ৫ টা হতে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী এ যুদ্ধে ১০০শত ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র জনতা, কৃষক শ্রমিক, ইপিআর, পদাতিক,বিমান ও নৌবাহিনী সৈনিক সম্মলিত পলাশ ডাঙ্গা যুব শিবিরের ৫ শতবীর মুক্তিযোদ্ধা সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহন করেন। অপর দিকে হানাদার বাহিনীর সংখ্যা ছিল ৩ কোম্পানি সেনা, মিলেশিয়া সহ ৩০০ শত রাজাকার আলবদর, যুদ্ধে হানাদার বাহিনী ভারি ও মাঝারি অস্ত্র ব্যবহার করে। পক্ষান্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের ছিল মাত্র ২ ইঞ্চি মর্টার, হালকা মেশিন গান, ১ নালা বন্দুক, হ্যান্ড গ্রেনেড, এস এল আর এবং থ্রি নট থ্রি রাইফেল। এই ভয়াবহ যুদ্ধে ১৩০ জন পাক সেনা,শতাধিক মিলেশিয়া ও রাজাকার নিহত হয় এবং ৯জন সেনা অফিসার জীবিত ধরা পরে। তৎকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও ভারতীয় আকাশবানী বেতারে নওগাঁ যুদ্ধের খবর বিশেষ ভাবে প্রচারিত হয়। যুদ্ধে মাত্র ৩ জন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালিন সময় উত্তরবঙ্গের এটাই সর্ববৃহৎ ভয়াবহ সম্মুখ গেরিলা যুদ্ধ।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com