উল্লাপাড়ায় চিনি ও কেমিকেল মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে গুড়
০৫ মে, ২০২৬ ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

  

উল্লাপাড়ায় চিনি ও কেমিকেল মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে গুড়

রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া)
৩০-১০-২০১৯ ০৭:২৭ অপরাহ্ন
উল্লাপাড়ায় চিনি ও কেমিকেল মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে গুড়

উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চিনি, সোডা, ফিটকিড়ি, নালি ও অন্যান্য কেমিকেল মিশিয়ে প্রচুর পরিমান ভেজাল আখের গুড় তৈরি করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই গুড় বাজারজাত করা হচ্ছে। এসব গুড় সিরাজগঞ্জ জেলার সকল উপজেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। উল্লাপাড়া উপজেলার দুর্গানগর ইউনিয়নের হেমন্তবাড়ী গ্রামে চলছে এ ভেজাল গুড় তৈরির কর্মযজ্ঞ। এই গ্রামের শফিজউদ্দিন ফকির তার বাড়িতে খুলে বসেছে এই গুড়ের কারখানা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার বাড়িতে একাধিক শ্রমিক নিয়োগ করে প্রতিদিন কেমিকেল মিশিয়ে এভাবে গুড় তৈরি করে চলেছেন।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শফিজউদ্দিনের বাড়িতে একটি ঝুপড়ি ঘরে নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ৫/৬ জন শ্রমিক পৃথক পৃথক ভাবে গুড় তৈরি করছেন। তারা চিনির সঙ্গে সোডা, ফিটকিড়ি, নালি ও অন্যান্য কেমিকেল মিশিয়ে গুড় তৈরি করছেন। চুলার পাশেই অন্ততঃ ৫০ থেকে ৬০ বস্তা চিনি রাখা হয়েছে। এগুলো বড় পাত্রে ঢেলে পর্যায়ক্রমে চুলায় জাল করে কেমিকেল মিশিয়ে শত শত টিনের কন্টিনারে ঢালছে শ্রমিকরা। এগুলো বাতাসে ও রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করা হবে। শফিজ উদ্দিনের বাড়ির সামনেই অন্ততঃ শথখানেক টিনের কন্টিনারে বাজারজাত করার জন্য তৈরি গুড় রাখা হয়েছে। এসব কন্টিনারের একেকটির ওজন প্রায় ১ মন। সকালেই এখান থেকে ১ ট্রাক গুড় অন্যত্র গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয়রা আরো জানান, বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা এ গুড়গুলো বালসাবাড়ি বাজারে নিয়ে গুদামজাত করা হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে।

সাংবাদিকদের উপস্থিতি জানতে পেরে কারখানার মালিক শফিজউদ্দিন বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। এসময় তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, চিনি দিয়ে গুড় তৈরি করা কোন অপরাধ নয়। সারাদেশে বাজারে পাওয়া আখের গুড় নামে সকল গুড়ই এভাবে চিনি, নালি, সোডা, ফিটকিড়ি সহ অন্যান্য কেমিকেল মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এখান থেকেই পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। এভাবে কেমিকেল মিশিয়ে তৈরি গুড় কতটুকু স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এর কোন উত্তর দেননি। তবে শফিজ উদ্দিনের ছেলে আশরাফ আলী ও জামাতা জেলহক হোসেন বাবু জানান, এভাবে গুড় তৈরি করা অপরাধ নয়। সারাদেশেই এভাবেই গুড় তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় একটি মহল কারখানাটি বন্ধের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।

এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাঃ মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এই ভেজাল গুড় মানবদেহের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন। মেহেদী জানান, বিশেষ করে এই গুড় খেলে কিডনির ক্ষতির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাহবুব হাসানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, অবৈধ এই গুড় তৈরির কারখানার বিরুদ্ধে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।


রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ৩০-১০-২০১৯ ০৭:২৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 546 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com