চৌহালীতে মা ইলিশ ধরায় ৭৫ জেলের কারাদন্ড চৌহালী প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ২৭কিঃ মিঃ লম্বা ও ১৩ কিঃমিঃ প্রস্থএলাকা জুরে যমুনা নদীতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে মা ইলিশ নিধন। এদিকে গত ১৩ দিনে ৭৫ মৎস্য জীবীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫’শ মিটার কারেন্ট জাল এবং ২৬২ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হইয়াছে।
মৎস্য অফিস ও স্থানীয়রা জানান, চৌহালীর উত্তরে বোয়ালকান্দি ও দক্ষিণে পাথরাইল এবং পশ্চিমে এনায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় ২৭কি.মি.লম্বা ও ১৩ কি.মি প্রস্থ যমুনা নদীর এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কৌশলে দ্রুতগতির নৌযান নিয়ে জেলেরা জাল ফেলে মা ইলিশ ধরছে। তাদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ডিমওয়ালা রুপালি ইলিশ। দেশব্যাপী ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ আহরণ, বিপণন ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আগে থেকেই উপজেলার সাত ইউনিয়নের জেলেদের নিয়ে সভা সেমিনার করে সচেতন করা হয়। এ ছাড়া দরিদ্র জেলেরে মধ্যে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত বিশেষ সহায়তার চাল বিতরণ করা হয়েছে। তার পরও যমুনার ভাঙ্গনে বিধ্বস্ত কিছু জেলে ও অতিলোভী মৎস্যজীবী সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ আহরণে নদীতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও মৎস্য অফিসের টহল ফাঁকি দিয়ে সুযোগ বুঝে মা ইলিশ শিকার করছে। ইতিমধ্যে মা ইলিশ ধরার অপরাধে গত মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে ২০জন জেলে আটকসহ ১৩ দিনের ভ্রাম্যমাণ অভিযানে ৭৫ মৎস্যজীবীকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রমে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫’শ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং জব্দকৃত ২৬২ কেজি মা ইলিশ স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিম খানাসহ গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বলে মৎস্য অফিস সূত্র জানাগেছে ।
সরেজমিন ও বিভিন্ন তথ্যসুত্রে জানা গেছে, উপজেলার খগেন ঘাট,চিকিরমোড়, জনতা স্কুল ঘাট,শাকপাল,খাষপুখুরিয়া,মিটুয়ানি,চরসলিমাবাদ ও ভুতের মোড়,কড়িতলাসহ চরের বিভিন্ন এলাকায় যমুনার পারে বসেছে ইলিশের হাট। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, জেলেদের নিয়ে সচেতনতা সভা করেছি তারা বলেছিল মাছ ধরবেন না। এত অভিযান ও কারাদন্ডের পরও থামানো যাচ্ছে না জেলেদের। দিনের বেলা কিছুটা বন্ধ থাকলেও রাত হলেই বেরিয়ে পড়ছেন জাল নিয়ে। আইন না মেনে শিকার করছেন মা ইলিশ। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুদ আহমেদ জানান, ইলিশের প্রজনন মৌসুম, ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান নিয়োমিত পরিচালনা করে ৭৫ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে,জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে,মাছ গরীব ও মাদ্রাসায় দেওযা হয়েছে, শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষা অভিযান অব্যাহত থাকবে।