বন্যার পর খরার কবলে উলিপুরের কৃষকরা
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন

  

বন্যার পর খরার কবলে উলিপুরের কৃষকরা

নিউজরুম
২৮-০৮-২০১৯ ০২:৪৭ অপরাহ্ন
বন্যার পর খরার কবলে উলিপুরের কৃষকরা

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বন্যার পর খরার কবলে পড়েছেন কৃষকরা। বন্যার ধকল কাটিয়ে রোপা আমন চারা লাগালেও পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে আমন ক্ষেত। চারা ও পানির অভাবে অনেক কৃষক এখনও রোপা আমন চারা লাগাতে পারেনি। অনেকে সেচ দিয়ে আমন ক্ষেত রক্ষার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকেই সেচ দিয়ে আমন চারা রোপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে অনেক কৃষক জমি পতিত রেখে দিয়েছেন। বাজারে ধানের মূল্য কম থাকায় ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে কৃষকরা।

 

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলায় ২৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, উফসী ও স্থানীয় জাতের ধান চাষেবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু চারা সংকট ও পানির অভাবে এখনও ১ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চারা লাগানো সম্ভব হয়নি। এদিকে হাইব্রিড জাতের ৭৫০ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৭৭৯ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চারা লাগানো হয়েছে ৭৫০ হেক্টর জমিতে। উফসী জাতের ১৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে ৫২ হজার ৬৭৮ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চারা লাগানো হয়েছে ১৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় জাতের ৪ হাজার ২৪৮ হেক্টর জমিতে ৭ হাজার ৫৬১ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চারা লাগানো হয়েছে ৩ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে। ফলে চলতি মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

আজ বুধবার সকালে উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের নাওড়া গ্রামের গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আবুল কাশেম ক্ষেতের চারা গাছ বাঁচাতে স্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিচ্ছে। এ সময় কথা হলে তিনি জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর জমিতে রোপা আমন চারা লাগাই। কিন্তু দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় ক্ষেত পানির অভাবে শুকিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে সেচ দিচ্ছি।

 

ধানের দাম কম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, শুধু গবাদি পশু বাঁচানোর জন্য ধান চাষ করছি। উৎপাদন খরচ না উঠলেও খড় তো পাওয়া যাবে। 

এদিকে উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, জমিতে ব্রি-৪৮(ভাদাই) জাতের ধান চাষ করেছিলাম। বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে বাধ্য হয়ে সেচ দিয়ে চারা লাগাইলাম। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্যার কারণে অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের চারা সরবরাহের জন্য উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে ১৪ একর জমিতে কমিউনিটি বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যা এক সপ্তাহের মধ্যে বিনামূল্যে ৮৪০ জন কৃষকের মাঝে সরবরাহ করা হবে।


নিউজরুম ২৮-০৮-২০১৯ ০২:৪৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 317 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com