শাহজাদপুরে কাঁচা গো-খাদ্যের সংকটে খামারিরা মহাবিপাকে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

  

শাহজাদপুরে কাঁচা গো-খাদ্যের সংকটে খামারিরা মহাবিপাকে


২৭-০৭-২০১৯ ১০:৫৮ অপরাহ্ন
শাহজাদপুরে কাঁচা গো-খাদ্যের সংকটে খামারিরা মহাবিপাকে

শামছুর রহমান শিশির, স্টাফ রিপোর্টার ঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল এবং গত কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় দেশের নিউজিল্যান্ড খ্যাত জনপদ শাহজাদপুরের হাজার হাজার গো-খামারিরা পড়েছে মহাবিপাকে। উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের অসংখ্য গরুর বাথান ও বিস্তুৃত গো-চারণ ভূমিসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এলাকার  প্রায় ৪ লাখ  গবাদি পশু প্রতিপালনে খামারিদের মহাভাবনায় দিনাতিপাত করতে হচ্ছে । গো-চারণ ভুমিতে বন্যার পানি থাকায় ঘাসের জমি ও অনেক স্থানের খড়ের পালা ডুবে যাওয়ায় গো-খাদ্য সংকট আরও ঘণীভূত হয়েছে বলে খামারিরা জানিয়েছে। চলতি বছরের বন্যায় উপজেলার যমুনা বিধৌত যমুনার চরাঞ্চলসহ সহ বিভিন্ন স্থানের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার সময় উপজেলার সিংহভাগ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে থাকার কারণে তৃণ জাতীয় গো-খাদ্য স্বমূলে বিনষ্ট হয়েছে। এতে করে বন্যাদুর্গত এলাকায় গবাদী পশুর কাঁচা গো-খাদ্য সংকট ক্রমেই প্রকট আকার ধারণ করছে। স্বল্প আয়ের খামারিরা বন্যাজনিত কারণে গো-খাদ্য কাঁচা ঘাসের যোগান দিতে পারছে না। অনেকেই ধানের খড় (বিচালী) কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। চরাঞ্চলের অনেক খামারিরা তাদের গরু, মহিষ ও ছাগল-ভেড়াকে প্রয়োজনীয় দানাদার গো-খাদ্য দিতে পারছে না। তারা শুধু কাইশ্যা খাওয়াচ্ছে তাদের গবাদিপশুকে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও শাহজাদপুরের স্বল্প আয়ের অসংখ্য খামারিরা বাড়তি লাভের আশায় কোরবানির ঈদকে উপলক্ষ্য করে বেশ আগে থেকেই গরু মোটাতাজাকরণ কাজ শুরু করেছিলো। কিন্তু বর্তমানে বন্যাজনিত কারণে তাদের বাধ্য হয়ে গবাদীপশুকে দানাদার গো-খাদ্য খাওয়াতে হচ্ছে। ফলে মোটাতাজাকরণে নিয়োজিত অসংখ্য খামারিরা তাদের গবাদীপশুর সাম্ভাব্য মূল্য নিয়ে নতুন করে দুঃশ্চিতায় পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ গবাদীপশু  এবং ৩ হাজার ৬’শ ৫ টি ডেইরি ফার্ম রয়েছে । এছাড়া এ অঞ্চলে অনেক মৌসুমি খামারিরাও গবাদী পশু লালনপালন করছেন । মৌসুমি ও প্রান্তিক খামরিদের বাড়িতে ২/৪ টি করে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে  প্রায় ২২ সহ¯্রাধিক ষাঁঢ় গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে।  উপজেলার তালগাছি, গাড়াদহ, চরনবিপুর, টেপড়ি, নরিনা, বাতিয়া, যুগ্নীদহ, টেটিয়ারকান্দা, কায়েমপুর, ব্রজবালা, পোতাজিয়া, রেশমবাড়ী, চৌচির, বাড়াবিল, দ্বাবাড়িয়া, দ্বাড়িয়াপুর, পোরজনা, কৈজুরি, পাথালিয়াপাড়া, উল্টাডাব, জামিরতা, সোনাতুনী, বানতিয়ার, বাঘাবাড়ী, গালা, চরাচিথুলিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মাঝারি খামার পরিলক্ষিত হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশি, ক্রস ব্রিডসহ বিভিন্ন জাতের গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে।
খামারীরা জানান, বন্যাজণিত কারণে গবাদিপশুর দানাদার গো-খাদ্য খৈল-ভুষি ও খড়ের  দাম পূর্বের তুলনায় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু মোটাতাজাকরণে খামরিদের বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে। মিল্কভিটার পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ সমবায়ী গো-খামারী আব্দুস ছামাদ ফকির জানান, তার নিজ গ্রাম উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রেশমবাড়ি গ্রামে প্রায় ২’শতাধিক খামারী ব্যক্তিগতভাবে গরু লালন পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার নিজেরও বৃহৎ গরুর  একটি খামার রয়েছে। বন্যাজনিত কারণে গবাদীপশুর দানাদার গো-খাদ্য খৈল-ভুষি ও খড়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বন্যার কারণে গো-চারণ ভুমির ঘাস পুরোপুরি বিনষ্ট হওয়ায় চরাঞ্চলে গবাদী পশুর খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা কবলিত স্বল্প আয়ের খামারিরা যে কোন ভাবেই হোক তাদের নিজেদের খাদ্যাভাব মেটাতে পারলেও গবাদী পশুর খাদ্যের যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তারা গবাদী পশুর খাবারের ব্যবস্থা করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সকল সংস্থার সহায়তা কামনা করেন।

 


২৭-০৭-২০১৯ ১০:৫৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 1684 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com