শিরোনামঃ
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ১১-০৫-২০১৯ ০৭:৩৮ অপরাহ্ন |
উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বোরো ধান কাটা শুর“ হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক সংকটে বিপদে পড়েছেন ধান চাষীরা। এমনিতেই প্রতি বছর বোরো মৌসুমে ধান কাটা শ্রমিকের মুজুরি বেড়ে যায়। এ বছর শ্রমিক সংকটের কারণে মজুরি বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। বর্তমানে মাঠে ধান কাটতে দিন চুক্তিতে প্রতি শ্রমিককে দিতে হচ্ছে ৫শথ টাকা থেকে ৬শথটাকা। মজুরি বাড়িয়ে দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। মাঠের পর মাঠে পড়ে আছে পাকা ধান।
উল্লাপাড়ার বেতবাড়ি গ্রামের চাষী আবু বক্কর সিদ্দিকী জানান, গেল বছরগুলোর তুলনায় এবার বোরো মওসুমে ধানের দাম কম। বাজারে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতিমন ৫থ থেকে ৫শথ৫০ টাকা দরে। ফলে একমন ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে। তার উপর বাজারে ধানের ক্রেতাও কম। অনেক চাষী বিক্রি করতে না পেরে বাজার থেকে ধান আবার বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ভ্যান ভাড়া গুনতে হচ্ছে ঘরের টাকা থেকে।
উপজেলার পূর্বদেলুয়া গ্রামের ধান চাষী রায়হান আলী জানান, তার ৫ বিঘা জমির ধান পেকে মাঠেই পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু দ্বিগুন মজুরি দিয়েও তিনি গত দুদিনে একজন শ্রমিকও সংগ্রহ করতে পারেননি। ফলে ধান ঘরে তোলার বিষয়টি তার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনুর“প কথা বললেন শংকর হাটি গ্রামের বাঞ্চারাম সরকার ও কানসোনা গ্রামের আব্দুস সাত্তার। ধান কাটা শ্রমিক সংকট অব্যাহত থাকলে তাদের প্রচুর পাকাধান মাঠেই পড়ে নষ্ট হয়ে যাবে। আর এতে প্রচুর লোকসান গুনতে হবে চাষীদের বলে উল্লেখ করেন এই দুই চাষী।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আজমল হক জানান, এ বছর উল্লাপাড়া উপজেলায় ৩০হাজার ২শথ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এক সঙ্গে সকল ধান চাষীর মাঠে ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের টান পড়েছে বেশি। অনেক কৃষি শ্রমিক এখন পেশা পরিবর্তন করে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক, অটোরিক্সা ও অটোভ্যান চালাচ্ছেন। এটাও শ্রমিক সংকটের একটা কারণ। তবে কৃষি বিভাগ কৃষকদেরকে ভর্তুকি দিয়ে মাঠে ৯টি ধান কাটা মেশিন( কম্বাইন্ড হারভেস্টর) ছেড়েছে। এতে কৃষকরা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com