শিরোনামঃ
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ০৭-০৫-২০১৯ ০৪:২৭ অপরাহ্ন |
উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার মাদ্রাসাগুলো ফলাফলের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দাখিল পরীক্ষার ফলাফল অনেকটাই অবনতি ঘটেছে। অধিকাংশ মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা স্বল্প। আবার কিছু মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের চেয়ে শিক্ষকদের সংখ্যা বেশিও বলা যায়। ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে উপজেলার ৫৪ টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল মোট ১৩৭২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৮৪২ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৫৩০ জন শিক্ষার্থী। অধিকাংশ মাদ্রাসায় এবছরে দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, গড়ে একতৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পারেনি। এসকল এমপিওভুক্ত মাদ্রাগুলোতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন ভাতার জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয় মাসিক প্রায় দেড়কোটি টাকা। তারা বেতন ভাতা ঠিকমতো পেলেও শিক্ষার মান বাড়াতে পারেনি মাদ্রাসাগুলোতে। সবাই মনে করছে যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মাদ্রাসাগুলো তাদের মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না।
উপজেলায় এবছর দাখিল পরীক্ষায় দক্ষিণ পুস্তিগাছা বনানী দাখিল মাদ্রাসা থেকে অংশগ্রহণ করেছিল ২ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু পাশ করেনি একজনও। চর মোহনপুর দাখিল মাদ্রাসায় পরীক্ষা দিয়েছিল ২ জন। পাশ করেছে ১ জন। গজাইল দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১১ জন। পাশ করেছে ৫ জন। ঘোঁনা গাইলজানী দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১২ জন। পাশ করেছে মাত্র ২ জন। আঙ্গাড়ু পাঁচপীর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ৩০ জন। পাশ করেছে ১১ জন। ইসলামপুর মাঝিপাড়া ধরাইল দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ২১ জন। পাশ করেছে ৭ জন। উধুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২০ জন । পাশ করেছে ৪ জন। কোনাগাঁতী কে, সি দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৫ জন। পাশ করেছে ৩ জন। বড়পাঙ্গাসী খন্দকার নুরনাহার জয়নাল আবেদীন দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৪ জন। পাশ করেছে মাত্র ২ জন। এলংজানি দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ২৪ জন। পাশ করেছে ৮ জন। বন্যাকান্দি আলিম মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ৬৬ জন। পাশ করেছে ২৯ জন। কালিয়াকৈর দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৪ জন। পাশ করেছে মাত্র ৫ জন। সাতবিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৯ জন। পাশ করেছে মাত্র ৪ জন। এসকল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক মাসে শিক্ষক কর্মচারীরা লাখ লাখ টাকা সরকারি বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু শিক্ষার মান পরিবর্তন হয়নি আজও। তবে এরমাঝে কিছু নন এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি কেন্দ্র সচিব কে নির্দেশ দিয়েছেন সকল প্রতিষ্ঠানের ফলাফল জমা দেওয়ার জন্য। ফলাফল হাতে পেলেই যেসকল প্রতিষ্ঠান খারাপ করেছে তাদেরকে খারাপ ফলাফলের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com