শিরোনামঃ
নিউজরুম ২৮-০৪-২০১৯ ০৫:৫৪ অপরাহ্ন |
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ উল্লাপাড়া চক্ষু ও জেনারেল হাসপাতালে চলছে নানা অনিয়ম দূর্নীতি। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পরিচালিত হাসপাতালটির বিরুদ্বে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠলেও তা আমলে নেয়া হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার রাতে এ হাসপাতালে মোশারফ হোসেন (৩০) নামের এক কর্মচারীর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুর পর শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। মোশারফের স্ত্রী জুলেখা খাতুন একই হাসপাতালের নার্স হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় হাসপাতালের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।
বিষয়টি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চালাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানা চেষ্টা করছে। হাসপাতালে মোশারফের মৃত্যুর পর পুলিশ প্রশাসনকে কিছু না জানিয়ে দ্রুত তার লাশ সরিয়ে দাফন করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এটি হত্যা নাকি আত্নহত্যা? তবে মোশারফের মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্নের অভিযোগের তীর হাসপাতালটির পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্বে। একটি বিশস্ত্র সুত্রে জানা যায়,বেশ কয়েকদিন আগে ওই হাসপাতালের দুই নার্সের সাথে মোশারফের বাগ বিতান্ডা হয়। এ ঘটনার কয়েকদিন পরেই এমন ঘটনা ঘটলো। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো উল্লাপাড়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। উল্লাপাড়া চক্ষু হাসপাতাল নামে এ হাসপাতালটির পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম দিকে মূলত এটি চক্ষু হাসপাতাল হিসাবে শুরু করেন। পরর্বতীতে তিনি সবকিছু ম্যানেজ করে হাসপাতালটি সর্ব রোগের নিরাময় কেন্দ্র পরিনত করেছেন। জাহাঙ্গীর হোসেন চোখের ডাঃ হলেও তিনি এখন সর্ব রোগের চিকিৎসা দেন বলে একাধিক রোগী ও ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়।
অনিয়ম করে গড়ে ওঠা এই হাসপাতাটির বিরুদ্বে শুরু থেকে নানা অনিময়মের অভিযোগ। হাসপাতালটি গ্রাম পর্যায়ে কমিশন ভিত্তিক দালাল নিয়োগ করে সর্ব রোগের রোগী ভাগিয়ে এনে তাদের চিকিৎসার নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। চার তলা হাসপাতালটিতে সরকারী নিয়ম নীতির বাইরে বেড বসিয়ে দিন রাত গর্ভবতী মহিলাদের সিজার সহ নানা অপারেশন করা হচ্ছে। অভিযোগ আছে,এ হাসপাতালে প্রশিক্ষিত নার্স,টেকনিশিয়ার,সার্জন,অজ্ঞানের চিকিৎসক না থাকলেও দিনরাত সিজার সহ সব ধরনের অপারেশন করছে ডাঃ জাহাঙ্গীর ও তার শ্যালক বাবর। লেখাপড়া তেমন না জানলেও বাবর এ হাসপাতাল শুরুর প্রথম থেকেই ডাঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে নানা অপারেশনে অংশ নেয়।
এদিকে এ হাসপাতালে সাদা এ্যাপ্রন পরিহিত অল্প বয়সি ছেলে মেয়েদের চিকিৎসক,নার্স,টেকনিশিয়ানের কাজ করতে দেখা গেছে। তারা আদৌও প্রশিক্ষিত লোক কি না তা কারো জানা নেই। দিনরাত এ হাসপাতালটিতে সেবা প্রত্যশীদের ভিড় লেগেই আছে। অল্পদিনের ব্যবধানে এই হাসপাতালের মাধ্যমে ডাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বিপুল ধন সম্পদের মালিক বনে গেছেন। উল্লাপাড়ায় রয়েছে তারা একাধিক বাড়ি,গাড়ি। ইসলামিক লেবাসের আড়ালে ডাঃ জাহাঙ্গীর অবৈধ পথে আয় করা অর্থে উল্লাপাড়ায় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে বিশিষ্ট সমাজ সেবক বনে গেছেন। তাবলীগ জামায়াতের অনুসারী এই চিকিৎসকের বিরুদ্বে অভিযোগের অন্ত নেই। হাসপাতালটিতে বিভিন্ন সময় নানা বির্তকিত কর্মকান্ড ও দূর্ঘটনা ঘটলেও প্রভাবশালীদের সহায়তায় সব ধামাচাপা দিয়ে বার বার পার পেয়েছেন এই চিকিৎসক। হাসপাতালে নার্সের স্বামী মোশারফ হোসেনর মৃত্যুর পর ডাঃ জাহাঙ্গীরের নানা অপকর্ম আবার সবার আলোচনায় এসেছে। হাসপাতালে মোশারফের মৃত্যুর পর নিজেকে বাঁচাতে কৌশলে বগুড়ায় উন্নত চিকিৎসার নামে লাশ সরিয়ে ফেলে ডাঃ জাহাঙ্গীর।
একই সাথে দ্রুত তার স্ত্রীকে ম্যানেজ করে লাশটিও গোপনে দাফন করিয়েছেন তিনি। মোশারফের মৃত্যুর পর চক্ষু হাসপাতাল ও ডাঃ জাহাঙ্গীরকে নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনার ঝর বইছে। এ ঘটনার পর তার হাসপাতালটিতে পুলিশ পর্যন্ত যায়নি। সবকিছু নাকি তিনি ম্যানেজ করে ফেলেছেন। স্থানীয়দের দাবী মোশারফের লাশ তুলে ময়না তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তদন্ত করে এ রহস্যজনক হত্যার সঠিক তথ্য বের করা হোক। তবে এসব বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে ডাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,তার হাসপাতালেই মোশারফের মৃত্যু হয়েছে। তার স্ত্রী সেদিন সেখানে তাকে অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি করেন। পরবর্তী উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্ট থাকায় তার অবস্থার অবনতি হয় বলে তার স্ত্রী দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় রেকর্ড করেন। ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তিনি তাকে মৃত দেখতে পান। তিনি দাবী করেন,তার স্ত্রী গর্ভবতী থাকায় শারিরিক অবস্থা বিবেচনায় তাৎক্ষনিক মৃত্যুর বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। তার প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম নীতি মেনেই চালাচ্ছেন বলে দাবী করেন।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com