উল্লাপাড়ায় প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

  

উল্লাপাড়ায় প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস

রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া)
২৪-০৪-২০১৯ ১২:৪৬ অপরাহ্ন
উল্লাপাড়ায় প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস

রায়হান আলী উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ আজ ২৪ এপ্রিল। উল্লাপাড়ায় প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস। ’৭১-এর এইদিনে উল্লাপাড়ার ঘাটিনা রেল সেতুতে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়। বেলা তিনটা থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধ চলে প্রায় তিনঘণ্টা। এতে ১৫ জন পাকসেনা নিহত হয়। তদানীন্তন সিরাজগঞ্জের মহকুমা প্রশাসক একেএম শামসুদ্দিন আহমেদ ও সে সময়ের উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের পরিচালক আব্দুল লতিফ মির্জা যৌথভাবে এ প্রতিরোধ যুদ্ধের নেতৃত্বে দেন।

২৩ এপ্রিল পাকবাহিনী সড়ক পথে পাবনা থেকে সিরাজগঞ্জ আসতে বেড়া উপজেলার ডাব বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে। পরে তারা ঈশ্বরদী থেকে ট্রেনযোগে উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন হয়ে সিরাজগঞ্জে ঢোকার পরিকল্পনা করে। এদিন সকাল ১০টার দিকে লতিফ মির্জার নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা উল্লাপাড়ার শাহজাহানপুর গ্রামের পাশে করতোয়া নদীর ওপর রেলসেতুর কয়েকটি স্লিপার খুলে নদীতে ফেলে দেন। পাকবাহিনী বহনকারী ট্রেনটি ব্রিজের পশ্চিমপাশে এসে দাঁড়ানোর পর বেশ কয়েকজন পাকসেনা সেতুর অবস্থা দেখতে নেমে আসে। এ সময় নদীর পূর্বপাশে বাঙ্কারে ওত পেতে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এরপর পাকসেনারাও পাল্টা গুলি চালায়। পাকবাহিনীর ভারি অস্ত্র থেকে বৃষ্টির মত গুলি ছোঁড়ার ফলে ভয়ে আতঙ্কে পার্শ্ববর্তী শাহজাহানপুর, লক্ষ্মীপুর, কর্মকারপাড়া, মাটিকোড়া, ঘাটিনাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রামবাসীরা বাড়িঘর, সহায়-সম্পদ ফেলে বেলকুচি উপজেলার দিকে পালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এদিন মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে যুদ্ধে হেরে পাকবাহিনী উল্লাপাড়া স্টেশনে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

পরদিন আবার ব্যাপক সমরসজ্জা নিয়ে পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ চালালে মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটে। বেলা ১১টার দিকে উক্ত ব্রিজে নতুন করে স্লিপার বসিয়ে পাকবাহিনী তাদের ট্রেন পার করে সিরাজগঞ্জ চলে যায়। যাবার সময় রেলপথের দুই ধারের গ্রামগুলো তারা পুড়িয়ে দেয়। উল্লাপাড়ার এই প্রতিরোধ যুদ্ধটি সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রথম সংঘটিত হওয়ায় স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এইদিনটি সিরাজগঞ্জের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

’৮০-র দশকের গোড়ার দিকে উল্লাপাড়া থানা পরিষদ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ যুদ্ধের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে করতোয়া নদীর পূর্বপাশে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান নেওয়া স্থানে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে।

 

রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ২৪-০৪-২০১৯ ১২:৪৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 1036 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com