৫০ শয্যা তাড়াশ হাসপাতালে চিকিৎসক সঙ্কট, সেবা ব্যহত
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে জনগণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাছাড়া হাসপাতালের প্রসাশনিক দুর্বলতার কারনে এমনটা হচ্ছে বলেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ভারপ্রাপ্ত প.প কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকলেও তিনি হাসপাতালে অবস্থান না করে প্রতিদিন চেম্বার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এ নিয়ে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক-কর্মচারীদের মধ্য রয়েছে কোন্দল।
সোমবার হাসপাতালের গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০বাজে বহি:বিভাগে রোগীদের ভীড়। সেবা দিচ্ছেন জুনিয়র কন: (সার্জারী) ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, জুনিয়র কন: (গাইনি) ডা. আয়েশা আক্তার, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. বিউটি রাজ ও ডা. আব্দুল রাজ্জাক। বাহিরের ঔষধ কোম্পানীর লোকজনদের জটলা।
বহি:বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আরজিনা খাতুন, রাহেলা খাতু, পাপিয়া খাতুনসহ একাধিক রোগী জানান, হাসপাতালে বহি:বিভাগে তিনজন ডা. সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। আরএমও কে দেখাবো তিনি যমুনা প্যাথলজীতে থাকায় তাকে পাইনি।
প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে কমপক্ষে ১৫০/২০০ জন রোগী এই হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসে। হাসপাতালে ১৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৬ জন।
৬ জন চিকিৎসকের মধ্যে ডা. আসিফ মাহমুদ নামে একজন চিকিৎসক ছুটিতে রয়েছেন। বাকি ৫ চিকিৎসকের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা না থাকায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে রয়েছেন আরএমও শিমুল তালুকদার। নিয়মিত তিনি হাসপাতালে বসেন না। সকাল ৯টার মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি অনিয়মিতভাবে কর্মস্থলে আসেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছেন। কার্যত ৬ জন চিকিৎসক দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা। ডা. শিমুল তালুকদার সকাল থেকে হাসপাতালের বাহিরে যমুনা প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। এ নিয়ে হাসপাতালের ষ্টাফদের মধ্য রয়েছে নানা অভিযোগ।
কখনো কখনো সারা দিনেও ডা. শিমুল তালুকদারের দেখা পাননা বহি:বিভাগ ও আন্ত: বিভাগের রোগীরা। নার্স ও স্বাস্থ্য সহকারিদের উপর নির্ভর করতে হয় রোগীদের। বহির্বিভাগেও একই অবস্থা। স্বাস্থ্য সহকারীরা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে চরম হিমসিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া জরুরি বিভাগে একজন মেডিকেল অফিসার নিয়মিত থাকার কথা থাকলেও সেখানে একজন স্বাস্থ্য সহকারী একমাত্র ভরসা।
এদিকে ১৯৮৫ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিমার্ন করা হয়। সেই থেকে চলছে ঢিলেঢালে স্বাস্থ্যসেবা। সম্প্রতি পুরানো ভবনটির পাশে নতুন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিমার্ন করা হয়। গত ২০১৮ সালের ৭ই আগষ্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রী এসে উদ্ধোধন করেছেন। কার্যক্রম চলছে সেই নতুন ভবনটিতে।
এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘদিন যাবৎ বিকল হয়ে পড়ে আছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে একজন তত্বাবধায়ক, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট, শিশু ও গাইনি কনসালটেন্ট, মেডিক্যাল অফিসার, মেডিসিন, সহকারি সার্জারি ও ডেন্টাল সার্জন সহ ১৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি থেকেও বাহির থেকে বিভিন্ন চেম্বার বা ক্লিনিকের চিকিৎসকের সরানাপন্ন হচ্ছেন। তাছাড়া হাসপাতালটির লেপ্রসী কন্ট্রোল সহকারী রফিকুল ইসলাম গত দেড়মাস ধরে ছুটি না নিয়ে হাসপাতালে রয়েছেন অনুপস্থিত। তার বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শিমুল তালুকদার স্বজনপ্রীতি করে কোন ধরনের ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা।
তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শিমুল তালুকদার জানান, ৫০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও এখনো সে তুলনায় জনবল ও চিকিৎসা সরজ্ঞাম সরবরাহ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন থেকে তাড়াশ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট চলছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাছাড়া ডা. শিমুল তালুকদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেযা হবে বলেও জানান তিনি।