শিরোনামঃ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ২৯-০৩-২০১৯ ০৬:২৩ অপরাহ্ন |
আশরাফুল ইসলাম রনি: বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল চলনবিল । আর চলনবিলের মধ্যস্থলে অবস্থিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, পাবনার চাটমোহর ও নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা। এ দুটি উপজেলার একটি অংশের প্রায় ৩৫-৪০ টি গ্রামের হাজার, হাজার মানুষের আন্তঃ যোগাযোগের ক্ষেত্রে গভীর চলনবিলের মধ্যে সড়ক না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হতো বছরের পর বছর ধরে। কিন্তু সেই দুর্ভোগের দিন শেষ হতে যাচ্ছে। আর মাত্র মাসাধিককাল পরেই তাড়াশ ওয়াবদা বাঁধ থেকে নাদৌ সৈয়দপুর বাজার ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৮.৫৩৬ কিঃ মিটার ডুবন্ত সড়কটি (সাবমারসিবল )ওই অঞ্চলের মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।
মাগুড়া গ্রামের কৃষক আবু সুফিয়ান (৪০) জানান, তাড়াশ, চাটমোহরের গুরুদাসপুর উপজেলার কয়েকটি প্রসিদ্ধ হাট -বাজারে এ অঞ্চলের উৎপাদিত সবজি , মাছ সহ নানা ফসল চাহিদা মিটিয়ে থাকে। যার মুল্য কয়েক কোটির টাকা । অথচ এ সড়কটি না থাকায় বছরের পর বছর এলাকার মানুষ বর্ষা মৌসুমে নৌকায় আর গ্রীষ্ম মৌসুমে পায়ে হেটে মাথায় বোঝা নিয়ে এ সকল হাট বাজারে আসতে হতো।
মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক আতিকুল ইসলাম বুলবুল জানান, জনপদের ওই এলাকাটিতে এতদিন সড়ক না থাকায় হাজার হাজার একর জমির কোটি কোটি টাকার নানা ফসল ঠিকমত পরিবহণ করতে না পেরে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হতেন। যা থেকে তারা মুক্তি পেলেন ।
আর বছরের পর বছর এত অসুবিধার মধ্যেও এ অঞ্চলের মানুষের দাবী ছিল চলনবিলের বুক চিড়ে তাড়াশের ওয়াবদা বাঁধ থেকে নাদৈৗ সৈয়দপুর বাজার ঘাট পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণের। তাদের এই দাবীর প্রেক্ষিতে সিরাজগঞ্জ -৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী ম,ম আমজাদ হোসেন মিলনের ঐকান্তিক চেষ্টায় বর্তমান সরকার ২০১৬ সালে ১০ কোটি ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯০ টাকা ব্যায়ে তাড়াশ ওয়াবদা বাঁধ থেকে নাদৌ সৈয়দপুর বাজার ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৮.৫৩৬ কিঃমিটার ডুবন্ত সড়কটি (সাবমারসিবল ) নির্মাণের কাজ হাতে নেন। আর দুর্গম এলাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স চৌধুরী এ্যান্ড কোং কে কাজ করতে প্রায় আড়াই বছর সময় লেগে যায়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে , ওই সড়কের প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন চলছে শেষ মূহূর্তের অবশিষ্ট কাজ ।
এলাকার কৃষক কেরামত উল্লাহ চলনবিলের বুক চিড়ে ডুবন্ত সড়কটি নির্মিত হওয়া আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ফসলের মৌসুমে বিশেষ করে বছরের আট মাস এলাকার হাজার হাজার লোক উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি তারা সরকারের এ উন্নয়নে খুশি।
তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যেই সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে না হলেও এলাকার মানুষ চলনবিলের গভীরে দর্শণীয় সড়কটি দিয়ে চলাচল শুরু করেছেন। আশা করা যাচ্ছে , আগামী মার্চ মাসের শেষ নাগাদ সড়কটির কাজ সম্পন্ন হবে এবং তা মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহণের জন্য খুলে দেয়া হবে ।
এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান বলেন , চলনবিল একটি শষ্য ভান্ডার খ্যাত এলাকা। এ এলাকার হাজার, হাজার কৃষকদের নানা ফসল , সবজি , ফলমুল পরিবহনে ও ন্যায্য মুল্য পেতে চলনবিলের বুক চিড়ে নির্মিত ৮.৫৩৬ কিঃমিটার ডুবন্ত (সাবমারসিবল ) সড়কটি ভূমিকা রাখবে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com