শিরোনামঃ
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ২৮-০৩-২০১৯ ০৪:৩৫ অপরাহ্ন |
রায়হান আলীঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নদী গুলো এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। করতোয়ার গভীরতা কমেছে। প্রতি বছরই তলায় মাটি পলি জমে কম বেশি ভরাট হচ্ছে। এতে গভীরতা আরো কমছে।
এছাড়াও অন্যান্য নদী গুলোর নব্যতা হারিয়েছে ফেলছে । নেই কোনা পানি প্রবাহ জলস্রোত। নদী গুলোর নব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। মুক্ত অভয়াশ্রম কমে নদীর মাছের আকাল চলছে।
করতোয়া নদীতে এখন প্রায় ১৫০ বিঘা সমতল জমিতে ধানের আবাদ করছে স্থানীয় লোকজন।
সাধারন জেলে পেশার মানুষগুলোর জাল নিয়ে এখন আর নদীতে নামার অবস্থায় নেই। অনেক জায়গায় নদীতে ব্যাক্তি মালিকানায় ডোবা কেটে মাছ চাষ করা হচ্ছে।
এখন বছরের শুকনো মৌসুমে তলদেশ জুড়ে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা হয়। দু’পাড়ের জমি মালিকেরা ভাগাভাগি করে নদ-নদী গুলোর তলদেশে ফসলের আবাদ করে থাকেন । পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে গুরত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে তিনটি নদী পূনঃখনন করা হবে বলে জানা যায়। উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা হয়ে দশ থেকে বারোটি নদী বয়ে গেছে। এছাড়া বহুসংখ্যক নালা ও খাল রয়েছে। এর মধ্যে বড় ক’টি নদী হলো-, স্বরসতী, মুক্তাহার, ঝবজবিয়া, গোহালা, কচুয়া, গুমানি, মরা করতোয়া, কাটা গাঙ, বিলসুর্য্য ।
জানা যায় যমুনা, ফুলজোড় ও করতোয়ার শাখা-প্রশাখা এসব নদী গুলোয় চার দশক আগেও সারা বছরই পানি থাকতো। এখন আর আগের দিনের মত নেই। বর্ষার ক’মাস পানিতে ভরপুর থাকে। এর পর প্রায় তলদেশ অবধি শুকিয়ে যায়। এ দিকে প্রায় সব নদী গুলোরই তলদেশে বোরো, গম, তিলসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা হয়। নদী দু’পাড়ের জমি মালিকেরা এ জমি সম্পত্তিতে ফসলের চাষাবাদ করে থাকেন।
নদী দু’পাড়ের জমি মালিকেরা নদীর অংশ তাদের জমির আগত জানিয়ে দখলে নিয়ে ফসলের চাষাবাদ করে থাকেন। এমন দখলে নেওয়া একাধিক জনের বক্তব্যে নদী সরকারি সম্পত্তি জানলেও তাদের জমির আগত হিসেবে আবাদে ব্যবহার করছেন। এপার- ওপার জমি মালিকেরা সমঝোতা করেই নদী গুলোর তলায় চাষাবাদ করছেন। অপরদিকে বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে অনেক এলাকায় নদীর বেশ অংশ দখল করে অস্থায়ী স্থাপনা ও অবকাঠামো গড়া হয়েছে। অনেক জায়গায় বসতবাড়ি গড়া হয়েছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায় উল্লাপাড়ার মরা করতোয়া, কাটা গাঙ ও বিলসুর্য্য নদী তিনটির পুনঃখনন করা হবে। এর মধ্যে মরা করতোয়া সাড়ে ১৭ কিলোমিটার, কাটা গাঙ ৪৫ কিলোমিটার ও বিলসুর্য্য ১২ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড উল্লাপাড়া উপবিভাগীয় কার্যালয়ের এস ডি ই মোঃ মাহমুদ হাসান আরো জানান ৬৪ জেলা অভ্যন্তরস্থ নদী -নালা ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে এ নদী তিনটি পুনঃখননে যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে আনা হয়েছে।
অতি তাড়াতাড়ি খননের কাজ শুরু করা হবে। তিনি জানান নদী গুলো খনন হলে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরে আসা, শুকনো মৌসুমে পানি মজুদ, কৃষি ক্ষেত্রে সহজ সেচ পদ্ধতি চালু ও মৎস্য জীবিরা নদীতে মাছ শিকার করতে পারবেন। সব মিলিয়ে গ্রামীন অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। তিনি আরো জানান নদীর কোথাও অবৈধ স্থাপনা কিংবা অবকাঠামো থাকলে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তা অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন নদীর অংশ দখল করে কেউ কোন স্থায়ী স্থাপনা কিংবা অবকাঠামো গড়লে অবশ্যই তা অবৈধ। এমন স্থাপনা কিংবা অবকাঠামো কেউ গড়লে আর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই আইন মোতাবেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com