শিরোনামঃ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ ১৫-০৩-২০১৯ ০৪:৩৯ অপরাহ্ন |
সোহাগ হাসানঃ সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীতে চর জেগে ওঠায় নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একারনে পন্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি আর যাত্রী বহনে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলের একমাত্র ভরসা। তবে চরাঞ্চলে নির্দিষ্ট সড়ক না থাকায় বালু পথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বেশ বেগ পোহাতে হয় গাড়ির চালকদের। জানা যায়, চৌহালী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নই নদী ভাঙনে বিপর্যস্ত। এ এলাকার মানুষের কৃষি নির্ভর জীবিকা নির্বাহ দীর্ঘ অতিতের। তবে যমুনার দু’পাড় ভাঙনের ফলে মাঝ নদীতে জেগে ওঠা বালু চরে স্বপ্ন বোনেন চরাঞ্চলের চাষিরা। জমির ফসল বাজারজাত কিংবা সংরক্ষণ করতে নিতে হয় চরাঞ্চল থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দুরের হাট-বাজারে। শুষ্ক মৌসুমে বালু বা হাঁটু পানির পথে এসব পণ্য পরিবহনে করতে হয় ঘোড়ার গাড়িতে। আর বর্ষায় নৌকার যাতায়াতের মাধ্যম নৌকা। তবে বর্তমানে যমুনা নদীতে অসংখ্য ছোট বড় চর জেগে ওঠায় নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একারনে চরাঞ্চলে যাত্রী পরিবহনে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল ও ঘোড়ার গাড়ির সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চরাঞ্চলে এখন অনেকেই ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এজন্য অনেকের নামও পরিবর্তন হয়ে গেছে। যমুনা চরাঞ্চলের ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন বাবলু মিয়া। কিন্তু তাকে এ নামে ডাকলে হয়তো কেউ চিনতে পারবে না। তাকে ডাকতে হয় ঘোড়া বাবলু নামে। তিনি ৭বছর ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালান। বর্তমানে যমুনা নদীতে নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পন্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ির কদর বেশি। দৈনিক ৮০০-১০০০ টাকা আয় করেন তিনি। ঘোড়ার খাবারের জন্য তাকে প্রতিদিন ব্যয় করতে হয় ১০০-৩০০ টাকা। বাকি টাকায় চলে সংসার।
বাবলু মিয়া বলেন, শুষ্ক মৌসুমে চরাঞ্চলে উৎপাদিত সব ফসল পরিবহনে ঘোড়াতে পরিবহন করতে হয়। ২ বছর আগেও গোসাইবাড়ি চরে ৩-৫টা গাড়ি ছিল। আর এখন ২৫-৩০টা ঘোড়ার গাড়ি হয়েছে। দিন দিন ঘোড়ার গাড়ির চাহিদা বাড়ছে।
এছাড়া একই চরের ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক রমজান আলী জানান, যমুনা চর শুকিয়ে গেছে। একারনে চরাঞ্চলে যাতায়াতে এখন ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলের চাহিদা বাড়ছে। নৌকা ঘাট থেকে গোসাইবাড়ি বাজারের দুরত্ব ৪-৫কিলোমিটার। দুই জন যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করলে ২শ টাকা ভাড়া। বালু চর হওয়ায় যাতায়াতে একটু বেশি সময় লাগে তারপরও সারাদিন মোটামুটি তেল খরচ বাদে ১ হাজার টাকা বাচে।
যমুনা চরের স্থল ইউনিয়নের তেগুরি চরের জহুরুল ইসলাম ও বকুল হোসেন সহ অনেকেই জানান, বর্ষায় নৌকা। আর চরাঞ্চলের বালুর পথে রিকশা, ভ্যান না চলাচল করায় এখানকার ফসলসহ সব ধরনের পণ্য পরিবহনে তাদের ভরসা করতে হয় ঘোড়ার গাড়ির উপর। যাত্রী বহনে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলে যাতায়াতে অনেক সুবিদা হয়। আর এসব গাড়িও শুষ্ক মৌসুমে হাতের নাগালেই থাকে, তাই পরিবহনে কোনো ঝামেলা নেই। এবিষয়ে স্থল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীতে চর জেগে ওঠায় নৌ চলাচল বন্ধ হয়েছে। একারনে চরাঞ্চলে যাতায়াতের সুবিধার্থে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল ও পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার বেড়ে গেছে। অনেকেই কৃষি ও মৎস্য শিকাড়ের পেশা ছেড়ে ঘোড়ার ঘাড়ি ও মোটর সাইকেল কিনে ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com